kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নিরাপত্তাযন্ত্রের সশস্ত্রকরণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প

মেলভিন গুডম্যান

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিভিন্ন জাতীয় জরিপে দেখা যাচ্ছে, জো বাইডেন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রগুলোতে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন। প্রেসিডেন্ট অযৌক্তিক আচরণ করছেন এবং তিনি তাঁর প্রশাসনের সদস্যদের ও ডিপার্টমেন্টগুলোকে আগামী মাসের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করছেন। গত কয়েক মাসের বেশির ভাগ সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোর মূল বিভাগগুলোকে রাজনৈতিক ও সশস্ত্র করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বিচার মন্ত্রণালয়কে ম্যানিপুলেট করেছেন; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের পরিচালকের দপ্তর এবং সিআইএকেও অভূতপূর্ব উপায়ে ম্যানিপুলেট করেছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ও বিচার মন্ত্রণালয় যথাক্রমে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ও পারসোনাল ল ফার্ম হয়ে উঠেছে। বিচার মন্ত্রণালয় এফবিআইয়ের কমান্ড সেন্টারকে ফোর্স ম্যানেজ করার কাজে লাগিয়েছে। এটা ঘটেছে জুনের প্রথম তারিখে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের লাফিয়েট স্কয়ার থেকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য, যাতে ট্রাম্পের ফটো অপরচুনিটিকে কাজে লাগানো যায়। উইলিয়াম বার নিউ ইয়র্ক সিটি, পোর্টল্যান্ড ও সিয়াটল শহরকে এবং এগুলোর ডেমোক্র্যাট মেয়রদের ‘এনার্কিস্ট জুরিসডিকশন’-এর কারণে শাস্তির হুমকি দিয়েছেন; এমনকি অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। অথচ তিনি তাঁর অবস্থান থেকে এ কথা বলতে পারেন না।

উইলিয়াম বার বিচার বিভাগের কাছে ট্রাম্পের সর্বশেষ দাবির বিষয়টি অবজ্ঞা করেছেন। দাবিটা ছিল বিচার বিভাগ যেন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়। এই প্রথম ট্রাম্পের রেডলাইন অতিক্রম করতে দ্বিধা করলেন বার। উপরন্তু বার বলেছেন, ওবামা ও বাইডেন তদন্তাধীন নন। তিনি এ-ও বলেছেন, বিচার বিভাগ বিষয়ক ট্রাম্পের টুইট তাঁর কাজকে অসম্ভব করে তুলেছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী চ্যাড উলফ তাঁর ডিপার্টমেন্টকে ব্যবহার করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত মিলিশিয়া বাহিনী হিসেবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি পোর্টল্যান্ড ও সিয়াটলে বিক্ষোভ দমনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।

ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ ট্রাম্পের সরকারকে সশস্ত্র করার কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন। তিনি সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের জুডিশিয়ারি কমিটিকে প্রচুর প্রমাণহীন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছেন, যাতে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর প্রক্রিয়াকে যুক্তিযুক্ত করা যায়। তথাকথিত এই গোয়েন্দা তথ্যকে ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন; রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটিও সেটা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, র‌্যাটক্লিফের তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য আসলে রুশ অপতথ্য। র‌্যাটক্লিফ শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা মেনে এসব তথ্য ছাড় করেছেন।

সিআইএর পরিচালক গিনা হাসপেল নিশ্চিত করছেন যে ট্রাম্প তাঁর ওভাল অফিসের রিসোলিউট ডেস্কে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত গোয়েন্দা তথ্য গ্রহণ করেন না। নজিরবিহীন এক পদক্ষেপে হাসপেল ইনটেলিজেন্স অ্যানালিস্টদের আদেশ দিলেন রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ব্যাপারে গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য। এ জন্য তিনি সিআইএর জেনারেল কাউন্সেল কোর্টনি এলউডকে বলেন। এলউড একসময় সিআইএ হুইসেল-ব্লোয়ারদের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনকলের ব্যাপারে প্রমাণপত্র (অ্যাফিডেভিট) দিয়েছেন; বিচার মন্ত্রণালয়কে তিনি সেটা দেননি। বিভিন্ন বিধিতে তাঁকে এমনটা করতেই বলা হয়েছে। ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের পরিচালকের ইন্সপেক্টর জেনারেল সেই অ্যাফিডেভিট আইনানুগভাবে সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটিকে দিলেন। এরপর ট্রাম্প তাঁকে বরখাস্ত করলেন।

জুনে সেইন্ট জন এপিস্কোপাল চার্চে ট্রাম্পের ফটো অপরচুনিটির ব্যাপারে পেন্টাগনের অবদান হলো সারা দেশ থেকে সিটিজেন সোলজারদের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমানে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ন্যাশনাল গার্ড কমান্ডারদের অনুরোধ জানানো, যাতে তারা লাফিয়েট স্কয়ার থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাতে পারে। নাইন-ইলেভেনের পরিপ্রেক্ষিতে একটা অস্পষ্ট আইন গভর্নরদের অনুমোদন দিয়েছিল রাজ্যের সীমা বরাবর গার্ডসমেন মোতায়েন করার, তবে শুধু কাউন্টার টেররিজমের মিশনের জন্য। জুনে প্রায় তিন হাজার ৮০০ সেনা ওয়াশিংটনে আসে বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাদের রিপাবলিকান গভর্নরদের সঙ্গে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার ন্যাশনাল গার্ডের অধিকারে থাকা শহরগুলোকে ব্যাটেল স্পেস উল্লেখ করেছিলেন। কার্যত ১৮৭৮ সালের পসি কমিটেটাস অ্যাক্টে যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন স্থলসেনাদের কংগ্রেসের আইন বা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সম্মতি ছাড়া মোতায়েনে নিষেধাজ্ঞা আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে হোম সার্ভারের মাধ্যমে পাঠানো হিলারির সব ই-মেইল সরবরাহ করার প্রেসিডেনশিয়াল আদেশ কার্যকর করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, মাইক যেভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। পম্পেও তাত্ক্ষণিকভাবে বলেছিলেন, তিনি ট্রাম্প নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট যেমন চান, তেমন করবেন।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি টিম যদি সব কাজ ট্রাম্পের নির্দেশনায় ও আদেশে করে, তাহলে এর চেয়ে উদ্বেগের বিষয় আর নেই। উঠপাখি বালুতে মাথা গুঁজে; কারণ তার বিশ্বাস সে যেহেতু কিছু দেখে না, অতএব আর কেউই দেখে না। ট্রাম্প বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কচ্যুত হয়েছেন; কিন্তু তাঁর প্রশাসন ও দলের কেউ সেটা দেখতে পাচ্ছে না।

 

লেখক : জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

সূত্র : দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা