kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

কালান্তরের কড়চা

আগে অর্থনীতি, না জীবন রক্ষা?

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



আগে অর্থনীতি, না জীবন রক্ষা?

শিক্ষিত নাগরিকদের দাবি, জনগণের জীবন বাঁচাতে হবে। সরকার চায় জীবন ও অর্থনীতি দুই-ই বাঁচাতে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় সবার সব দাবি মেটানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশে হাসিনা সরকার তাই মধ্য পথ ধরেছে। করোনাবিরোধী বিধিব্যবস্থা শিথিল করেছে। তাতে গরিবরা স্বস্তি পেয়েছে। অন্যদিকে রোগ বিস্তার রোধ করার কিছুটা ব্যবস্থাও বহাল রেখেছে। হাসিনা সরকার মানুষ বাঁচানোর জন্য অর্থনীতি বাঁচিয়ে তুলতে চায়। শুধু অর্থনীতির জন্য মানুষের জীবন উপেক্ষা করতে চায় না, এটা তাদের বর্তমান নীতিতে স্পষ্ট

 

 

মনে হয়, কভিড-১৯ তথা করোনার দ্বিতীয় দফা হামলা শুরু হয়েছে। ব্রিটেনে নতুন করে তার সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। লেস্টার শহরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। জার্মানি করোনামুক্ত হয়েছিল। সে দেশে আবার রোগাক্রান্ত পাওয়া গেছে। অবস্থা দাঁড়িয়েছে ‘গার্ডিয়ানে’র ভাষায়  ‘There’s a trade off between seving livs and saving the economy.’ সহজ কথায় মানুষ বাঁচানো হবে, না অর্থনীতি বাঁচানো হবে তা নিয়ে একটা দর-কষাকষি চলছে। এই দর-কষাকষিটা কারা চালাচ্ছেন? চালাচ্ছে উন্নত পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে তাদের নেতা আমেরিকা। আমেরিকা বলতে বোঝায় এখন তাদের সর্বপ্রকার মানবতা বোধহীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবারের (২৭ জুন) গার্ডিয়ান লিড সম্পাদকীয়তে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছে যে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটেনকে আমেরিকার একই সর্বনাশের পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

জীবন বাঁচাব, না অর্থনীতি বাঁচাব—এই প্রশ্নটি এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রকট। হাসিনা সরকারের সামনে এটাই এখন বড় প্রশ্ন। যদি করোনা দমনের জন্য সরকার শক্ত হাতে লকডাউন, আইসোলেশনের ব্যবস্থা দীর্ঘকাল বজায় রাখে, তাহলে অর্থনীতি বিপদের মুখে পড়বে। দিনমজুর, রিকশাওয়ালা, কলকারখানার শ্রমিকরা না খেয়ে মরবে। আবার করোনাবিরোধী বিধিব্যবস্থা শিথিল করলে এই ভাইরাসের বিস্তার বিপজ্জনকভাবে বাড়ে।

বাংলাদেশের নব্য ব্যবসায়ীদের দাবি অর্থনীতি (তাদের ব্যবসা) বাঁচাতে হবে। শিক্ষিত নাগরিকদের দাবি, জনগণের জীবন বাঁচাতে হবে। সরকার চায় জীবন ও অর্থনীতি দুই-ই বাঁচাতে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় সবার সব দাবি মেটানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশে হাসিনা সরকার তাই মধ্য পথ ধরেছে। করোনাবিরোধী বিধিব্যবস্থা শিথিল করেছে। তাতে গরিবরা স্বস্তি পেয়েছে। অন্যদিকে রোগ বিস্তার রোধ করার কিছুটা ব্যবস্থাও বহাল রেখেছে। এই দুই কূল রক্ষার নীতি গ্রহণ করে সরকার হিমশিম খাচ্ছে।

পশ্চিমা ধনবাদী দেশগুলো মুখে না বললেও তাদের নীতি হচ্ছে জীবন নয়, অর্থনীতি (ধনবাদ) বাঁচাও। আমেরিকার ট্রাম্প করোনা দেখা দেওয়ার শুরু থেকেই এই ভাইরাসকে ‘সামান্য ফ্লু’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন এবং মাস্ক পরিধান, বারবার হাত ধোয়া ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধি পালনের ওপর গুরুত্ব দেননি। ব্রিটেনের বরিস জনসন তাঁর নীতি অনুসরণ করেছেন এবং এখনো অনুসরণ করতে চাইছেন। নিজে করোনাভাইরাসে ভুগে উঠার পরও তাঁর চৈতন্যোদয় হয়নি।

তিনি ট্রাম্পের মতোই চান অফিস-আদালত, দোকানপাট, পাব-রেস্টুরেন্ট, স্কুল, কলেজ সব খুলে দিতে। তিনি তা দিতেছেন; কিন্তু জনগণের মানসিকতার দিকে নজর দেননি। আমেরিকায় জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বব্যাপী ‘ব্ল্যাক লাইভস্ ম্যাটার’ শীর্ষক যে গণ-আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং পশ্চিমা জনগণের মনে যে পুলিশবিরোধী মনোভাব গড়ে উঠেছে, সেটা জনসন সরকার আমলে নেয়নি। আমলে নেয়নি করোনা প্রতিরোধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি, এই অভিযোগ সারা গ্রেট ব্রিটেনের মানুষের মনেই যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত করেছে। ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার মতে, এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সম্প্রতি বোর্নমাউথ বিচে। লকডাউন উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শয়ে শয়ে লোক এই বিচে এসে জামায়েত হয় এবং অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে বহু পুলিশ আহত হয়।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর পার্কেও একই ঘটনা ঘটেছে। বিস্ময়ের কথা, বোর্নমাউথ এবং গ্লাসগো দুই স্থানেই জনসাধারণের মধ্যে এই আশঙ্কা দেখা যায়নি যে এখনো করোনার প্রকোপ চলছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে এক জায়গায় জমায়েত হয়েছে। তাতে তারাও ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য সরকারের প্রপাগান্ডাও অনেকটা দায়ী। ট্রাম্প ও জনসন চাচ্ছেন এত মৃত্যুর পরও করোনাকে তুচ্ছ করে তাঁদের দেশবাসীকে দেখাতে। বিপদের সময় এবং সীমা না পেরোতেই অর্থাৎ করোনার প্রকোপ যখন বাড়ছে, তখনো দোকানপাট, কলকারখানা সব খুলে দিতে। বরিস জনসন তাঁর দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন,  ‘I couldn’t wait to go the pub or for England to get it’s bustle back’ অর্থাৎ পাবে যাওয়ার জন্য তাঁর আর তর সইছে না। (ব্রিটেনে পাব এখনো বন্ধ। শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে)।

এই তড়িঘড়ি করে করোনা-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার কথা বলা, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অন্ধ করে রাখার তৎপরতা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য নয়, অর্থনীতি (ধনবাদী অর্থনীতি) বাঁচানোর জন্য। মাল্টিন্যাশনাল, করপোরেট বাণিজ্যের মুনাফার পাহাড় রক্ষার জন্য। কভিড-১৯ ভাইরাসে সারা দুনিয়ায় এ পর্যন্ত মারা গেছে পাঁচ লাখের মতো মানুষ। আর এই ভাইরাসে গ্লোবাল ইকোনমির ক্ষতি হতে পারে এক ট্রিলিয়ন থেকে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের মতো। এটা এখন পর্যন্ত অনুমানের ব্যাপার। তারপর আসতে পারে বিশ্বমন্দা। এর মধ্যেই লাখ লাখ লোক বেকার হয়েছে। আরো হবে। তাতে বিশ্বব্যাপী অশান্তি ও গণ্ডগোল আরো বাড়বে, ছোটখাটো বিপ্লবও ঘটে যেতে পারে।

মানুষের মৃত্যু রোধ এবং পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর (মুনাফার পাহাড় জমানো নয়) উপায় যে নেই তা নয়। ধণতন্ত্র—বিশেষ করে গ্লোবাল ধণতন্ত্র সেই পথ ধরে না। ধরে লাখ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে হলেও তাদের মুনাফা রক্ষা। এক তেল সম্পদের লোভে মধ্যপ্রাচ্যে বছরের পর বছর যুদ্ধ চালু রেখে যত নর-নারী হত্যা করা হয়েছে, তত নর-নারী দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও হত্যা করা হয়নি। এর আগে পৃথিবীতে যত মহামারি দেখা দিয়েছে (করোনার মতো বিশ্বব্যাপী নয়) যেমন—ইবোলা, সার্স, মার্স ইত্যাদির সময়েও দেখা গেছে জীবন রক্ষার চেয়ে মৃত্যুকে মূলধন করে ধনবাদকে মুনাফা কুড়াতে। বাংলা ১৩৫০ সনে অবিভক্ত বাংলাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ইচ্ছা করে দুর্ভিক্ষ ঘটায়। তাতে অনাহারে মারা যায় ৫০ লাখ লোক। তৎকালীন ব্রিটিশ ভাইসরয়ের উপদেষ্টা শ্রী জওলাপ্রসাদ শ্রীবাস্তব এই দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে তাঁর তদন্ত রিপোর্টে বলেন, ‘দুর্ভিক্ষে প্রতিটি মুহূর্তে মাড়োয়ারি খাদ্য ব্যবসায়ীরা মুনাফা করেছে এক হাজার টাকা।’

বিশ্বের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সমিতির অনেক কর্মকর্তা ও সমর্থকরা বিশ্বে বন্য প্রাণী হত্যারোধ এবং বন্য প্রাণী নিয়ে ব্যবসা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য এক যুক্ত আবেদন জানিয়েছেন জি-২০ সম্মেলনের রাষ্ট্রনায়কদের কাছে। আবেদনটি সানডে টাইমস (২৮ জুন) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গ্লোবাল ওয়াইল্ড ট্রেডের পরিমাণ এখন সাত বিলিয়ন ডলার থেকে ২৩ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বে বন্য প্রাণী হত্যা এবং ধরে এনে বিক্রি করা নৃশংসতার সব পর্যায় অতিক্রম করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভাবে বন্য প্রাণী ধ্বংস করা হলে বনসম্পদ ধ্বংস করার মতোই মানব জাতি প্রাকৃতিক এবং জাগতিক দুই ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঝড় প্রমাণ করেছে সুন্দরবন তার প্রবল ধাক্কা সামলিয়েছে। নইলে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ধ্বংসের নির্দয় তাণ্ডব আরো ব্যাপক হতো। বাংলাদেশে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আবার বন্যা শুরু হয়েছে। তা ঠেকানোর জন্য নদীগুলোর যে গভীরতা এবং তীরবর্তী বনাঞ্চল দরকার ছিল তা-ও এখন নেই। লোভের ব্যবসা সেখানেও থাবা মেলেছে।

যা হোক, বন্য প্রাণীর কথায় আসি। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সমিতির যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বন্য প্রাণীর ঢালাও ব্যবসায়ে এদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই। ইবোলা, সার্স ইত্যাদির মহামারির সময় দেখা গেছে তার রোগজীবাণু অসুস্থ বন্য প্রাণীর শরীর থেকেই মনুষ্যদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ব্রিটেনে ম্যাডকাউ ডিজিজ এবং বিষাক্ত ডিম খাওয়া থেকে মহামারি দেখা দিয়েছিল এবং বহু লোক মারা গেছে। এই মহামারি রোধ করার জন্য ১৬ হাজার গরু ফায়ারিং স্কোয়াডের দ্বারা হত্যা করা হয়েছিল। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সমিতির যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা মনে করে আগের মহামারির মতো করোনাও রোগাক্রান্ত বন্য প্রাণী এবং বন্য প্রাণীর মাংস থেকে মানুষের শরীরে ঢুকেছে। তারা তাই বন্য প্রাণী নিয়ে ব্যবসা অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। তাতে নতুন নতুন মহামারি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা যেমন কমবে; তেমনি অবাধে ও নৃশংসভাবে বন্য প্রাণী হত্যা বন্ধ হবে।

পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদেরই কেউ কেউ মনে করেন, বন্য প্রাণী বা বন্য প্রাণীর মাংস থেকেই কভিড-১৯-এর জীবাণু বিশ্বময় ছড়াতে পারে। তবে জীবাণু অস্ত্র তৈরির যে অন্ধ প্রতিযোগিতা আমেরিকা ও চীনের মধ্যে চলছে, তাতে এই দুই শক্তির কোনো একটির পরীক্ষাগার থেকে এই ভাইরাস কোনো ভুলের জন্য বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে থাকলে বিস্ময়ের কিছু নেই।  রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। আসল কথা, আগে মানুষ বাঁচাতে হবে। তারপর অর্থনীতি। মানুষ না বাঁচলে অর্থনীতি বাঁচবে কী করে? কাদের জন্য? ধনবাদ অ্যাটম বোমা হাতে পেয়েই তা পরীক্ষা করেছে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লক্ষাধিক মানুষ মেরে। তারপর তার উন্নত অস্ত্র তৈরি করে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা লাভ করছে, আবার সেই অস্ত্রে লাখ লাখ মানুষ মারছে। করোনার মতো ভয়ংকর ভাইরাস দ্বারা তারা যদি অস্ত্র তৈরি করতে পারে, তা হবে মানবসভ্যতা ও মানবতার জন্যই ভয়াবহ।

একদিকে তারা এই জীবাণু অস্ত্র দ্বারা লাখ লাখ মানুষ হত্যার ব্যবস্থা করবে, অন্যদিকে তার প্রতিষেধক টিকা বা ইঞ্জেকশন আবিষ্কার করে সেই ওষুধে ট্রেড মার্ক লাগিয়ে বিশ্ববাজারে বিক্রি করবে। ধনবাদের বর্তমান চরিত্র হলো বাংলা গ্রাম্য প্রবাদের মতো—‘কী যে জাদু জানো তুমি/কী যে জাদু জানো/সাপ হইয়া দংশন করো/ওঝা হইয়া টানো।’ তবে মানবসভ্যতার এই চরম দুর্দিন এবং ধনবাদের এই অবাধ আগ্রাসনের দিনে একটিই আশার বাণী শোনা গেছে পশ্চিমেরই একদল সমাজবিজ্ঞানীর কাছ থেকে। তাঁরা বলছেন, মন্দার আকারে যে চরম সংকটের দিন ঘনিয়ে আসছে, তাতে ধনবাদ যদি তার আর্থিক ব্যবস্থা গুছিয়ে তুলতে না পারে, তাহলে বুভুক্ষু ও বেকার মানুষরা ফরাসি বিপ্লবের মতো একটা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলতে পারে।

সবচেয়ে ভালো হতো, যদি করোনা দমনে আমেরিকা ও চীন একত্র হতে পারত। ট্রাম্প তাতে রাজি হননি। করোনা কেমন করে দেখা দিল তার আন্তর্জাতিক তদন্তে চীন রাজি হয়নি। এ জন্যই সংকটের আগামী দিনগুলোতে একদিকে ধনবাদের মরণ ছোবল, অন্যদিকে চীনের কম্যান্ড অর্থনীতি—এই দুয়ের মিলন, না সংঘর্ষ হবে তার ওপরও মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে।

বাংলাদেশ আয়তনে ছোট, জনসংখ্যায় বড় দেশ। তার সমস্যাও ছোট নয়। আগামী দিনগুলোতে ভিক্টোরিয়ান আগ্রাসী চেহারার ধনবাদের থাবা থেকে দেশটা কতটা বেঁচে থাকতে পারবে, তা নির্ভর করে দেশটির নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্তি এবং আগামী দিনের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার ওপর। হাসিনা সরকার মানুষ বাঁচানোর জন্য অর্থনীতি বাঁচিয়ে তুলতে চায়। শুধু অর্থনীতির জন্য মানুষের জীবন উপেক্ষা করতে চায় না, এটা তাদের বর্তমান নীতিতে স্পষ্ট। কালো বুদ্ধিজীবীর চশমায় চোখ ঢেকে সব কিছু দেখতে না চাইলে এই সত্যটা সবার চোখেই স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে। তবে এই নীতি কতটা সফল হবে তা ভবিষ্যৎই বলতে পারে।

লন্ডন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২০

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা