kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

কালান্তরের কড়চা

হায় রে আমার ভাগ্যরাতের তারা

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



হায় রে আমার ভাগ্যরাতের তারা

ছোটবেলায় কোনো একটি গল্পের কথা মনে পড়ছে। প্রচণ্ড ঝড় আসন্ন। আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। গাছপালা নিথর নিস্তব্ধ। অর্থাৎ আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস। এক জমিদার তাঁর প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবেশী ছনের ছাওয়া ঘরের বাসিন্দাকে বললেন, ‘তোমাকে সাবধান করছি ভাই। ভয়াবহ তুফান আসছে। তুমি যদি এখনই কোনো ব্যবস্থা না করো, তাহলে মহাবিপদ এড়াতে পারবে না।’ দরিদ্র প্রতিবেশী করজোড়ে বলল, ‘ঝড় যে আসছে তা আমিও জানি। এই ঝড় ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নেই। আমি ভাবছি, ঝড়ে তো আমার ঘরবাড়ি উড়ে যাবে। আপনি যদি আমার পরিবারকে একটা রাতের জন্য আপনার দালানে আশ্রয় দিতেন, তাহলে ঝড়ের তাণ্ডব থেকে আমরা আপাতত বেঁচে যেতাম।’ প্রতিবেশীর কথা শুনে জমিদার অধোবদন রইলেন। জবাব দিলেন না।

ছোটবেলায় শোনা এই গল্প আমার মনে পড়েছে কালের কণ্ঠেই প্রকাশিত একটি খবর দেখে। খবরটিতে বলা হয়েছে, অতি দ্রুত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো মেনে চলার তাগিদ দিয়ে উপরোক্ত সতর্কবাণী জানিয়েছে।

বিশ্বের উন্নয়নশীল আরো অনেক দেশকে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এ ধরনের সতর্কবাণী অবশ্যই জানানো হয়েছে। এ জন্য দেশগুলো অবশ্যই জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাবে। কথা হলো, করোনাভাইরাস যে ছোট-বড় ধনী-দরিদ্র সব দেশেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে, এটি সবারই জানা কথা। জাতিসংঘের তা না জানালেও চলত। আমেরিকা, ব্রিটেন, চীন, জার্মানির মতো ধনী দেশগুলো এরই মধ্যে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কোটি কোটি টাকা ঢালছে এই ব্যবস্থার জন্য। এ ক্ষেত্রে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোও সতর্ক; কিন্তু সতর্ক হয়েও এই প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য যে জনবল ও দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, তা তাদের কোথায়? এ ব্যাপারে জাতিসংঘের ভূমিকা কী? জাতিসংঘ এ ব্যাপারে গ্রামের জমিদারের মতো কি নিরুত্তর থাকবে?

বাংলাদেশের জন্য যে সতর্কবাণীটি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে করোনাভাইরাস সম্পর্কে বাংলাদেশে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদানের পরিকল্পনার নথিতে, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, নাগরিক সমাজের বেশ কিছু অংশীদার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সেই পরিকল্পনার নথি তৈরি। ঢাকার জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক নির্দেশনার সঙ্গে সংগতি রেখে এই নথি তৈরিতে জাতিসংঘের অংশগ্রহণ ছিল।

বাংলাদেশ সরকার যে এ ব্যাপারে যথাসময়ে সতর্ক হয়েছে, এই নথি প্রস্তুত করা থেকেই তা বোঝা যায়। জাতিসংঘের উদ্দেশ্য শুধু এই ভাইরাসের হামলা প্রতিরোধে তাদের স্বাস্থ্য সংস্থা ও অংশীদারদের কার্যকরভাবে প্রস্তুত রাখা। সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য জাতিসংঘের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে ইউরোপ ও আফ্রো-এশিয়ান দেশগুলোতে এই বিশ্ব সংস্থাকে কঠোর ও কোমল হতে দেখা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতরভাবে আক্রান্ত ইতালিতে বিমান চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমেরিকা থেকে যাত্রীবাহী বিমান এখনো ইতালিতে চলাচল করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে এই বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্রই বলছে, বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ভাইরাস প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক নির্দেশনা—যেমন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন, সামাজিক নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং স্কুল-কলেজ ও জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলো বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের বর্ণিত ভূমিকা হলো অন্যান্য ছোট দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হওয়ার সঙ্গে এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নে তাদের প্রস্তুতি।

জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠার বছর থেকে দুই দশকে অনেক দেশে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপুলভাবে সাহায্য জোগাতে এবং দেশটির পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পেরেছে। যেমন—যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ কোরিয়ার পুনর্গঠনে এবং পশ্চিম ইউরোপের কোনো কোনো দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে জাতিসংঘের সাহায্য উল্লেখযোগ্য; কিন্তু যেসব সমস্যায় পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর স্বার্থ জড়িত, সেসব সমস্যায় জাতিসংঘ কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেনি; শুধু অকার্যকর নির্দেশনা দিতে পারে এবং দিয়েছে।

কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, গালফ যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইরান ও কোরিয়া সংকটেও দেখা গেছে জাতিসংঘের কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নেই। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের তারা এজেন্ট মাত্র। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর কোরিয়া সমস্যা, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, হাঙ্গেরি সমস্যা, আফগান সমস্যা, কঙ্গো সমস্যা, কাশ্মীর সমস্যা, গালফ যুদ্ধ, আফগান ওয়ার কোনোটাতেই জাতিসংঘ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট হিসেবে সংস্থাটিকে কাজ করতে হয়েছে।

জাতিসংঘের যেসব মহাসচিব মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষার কাজে অন্যায়ভাবে ব্যবহৃত হতে চাননি, তাঁদের নানাভাবে হয়রান করা হয়েছে; এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। কঙ্গো সমস্যায় মার্কিন ও বেলজিয়ামের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষা করে চলতে চাননি বলে তৎকালীন মহাসচিব দাগ হ্যামার শোল্ডকে বিমান দুর্ঘটনা ঘটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বর্তমান ভাইরাস সমস্যার আলোচনায় জাতিসংঘের অতীত অপ্রাসঙ্গিক ভূমিকা এ জন্যই টেনে আনলাম, যেকোনো বিশ্বসমস্যায়—তা রাজনৈতিক সমস্যা হোক অথবা প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে কোনো দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের হোক, জাতিসংঘ এবং তার দুই সহযোগী সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষায় কতটা নির্লজ্জ ও নগ্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা দেখানো।

স্বাধীনতার উষালগ্নে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জাতিসংঘ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক পূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেনি আমেরিকার চাপে। চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি সেনাদের পাতা ডিনামাইট অপসারণের কাজে আমেরিকা গড়িমসি করে এবং রাজনৈতিক শর্তারোপ করে। যথাসময়ে এই মাইন সরানো সম্ভব না হলে বাংলাদেশে ভয়াবহ দ্রব্যমূল্য সংকট ও দুর্ভিক্ষাবস্থা দেখা দিত ১৯৭২ সালেই। মুজিব সরকারকে উত্খাতের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত খাদ্যচুক্তি অমান্য করে আমেরিকা দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি দ্বারা এক লাখ লোকের মৃত্যু ঘটায়।

পদ্মার সর্বনাশা ভাঙন রোধ এবং দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের উন্নতির লক্ষ্যে হাসিনা সরকার পদ্মা সেতু তৈরির কাজ হাতে নিলে বিশ্বব্যাংক রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে ঋণ ও সাহায্য দান বন্ধ করে। এই একই ষড়যন্ত্র আইএমএফ করেছিল প্রেসিডেন্ট নাসেরের আমলে নীল নদে বাঁধ তৈরির পরিকল্পনায় ঋণ ও সাহায্য দান বাতিল করে। নাসের সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে এই বাঁধ নির্মাণ করেন। বাংলাদেশের শেখ হাসিনা নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য দ্বারা বিশ্বব্যাংকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন এবং পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজে হাত দেন। এই সেতু নির্মাণ দ্রুত সমাপ্তির পথে।

অতীতের এই অভিজ্ঞতা থেকেই অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকের ভয়, বর্তমান বিশ্বময় ভাইরাস সমস্যা প্রশমিত না হতেই দুনিয়াজুড়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা বা ইকোনমিক ডিপ্রেশন দেখা দিলে আমেরিকা তার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ ও আধিপত্য রক্ষার জন্য তা ব্যবহার করতে পারে, যা অতীতে করেছে। ভাইরাসের আগ্রাসন দমন এবং তজ্জনিত অর্থনৈতিক মন্দার ভয়ংকর চাপ থেকে বিশ্বকে রক্ষার নামে কাবুলিওয়ালার মতো অর্থের ঝুলি নিয়ে পৃথিবীর সব দেশের দুয়ারে এসে দাঁড়াতে পারে। যেমন দাঁড়িয়েছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিধ্বস্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর দুয়ারে। হাতে ছিল মার্শাল প্ল্যানের অফুরন্ত ডলারের থলি। এতে ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙ্গা হয় বটে; কিন্তু সারা ইউরোপে আমেরিকার একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের শার্ল দ্য গল রুখে না দাঁড়ালে সারা পশ্চিম ইউরোপ আমেরিকার কলোনিতে পরিণত হতো। এই কলোনি প্রতিষ্ঠা এবং তা পাহারা দেওয়ার লক্ষ্যেই আমেরিকা ন্যাটো সামরিক জোট গঠন করে এবং তার প্রধান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে প্যারিসে। অর্থাৎ ইউরোপের মূল কেন্দ্রেই আমেরিকার স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা হয়। মুখে বলা হয় কমিউনিস্ট আগ্রাসন থেকে ইউরোপকে রক্ষা করাই এই ন্যাটোর উদ্দেশ্য; কিন্তু আসল লক্ষ্য ছিল গোটা ইউরোপকে আমেরিকার কলোনি বানানো। দ্য গলের বিরোধিতায় আমেরিকার সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারেনি। দ্য গল বলেছিলেন, ‘হিটলার চেয়েছিল অস্ত্রের সাহায্যে ইউরোপ দখল করতে। এখন আমেরিকা চায় অর্থের বিনিময়ে ইউরোপকে কিনে নিতে। মার্শাল প্ল্যান হচ্ছে আমেরিকার সেই গোপন প্ল্যান।’

অতীতের এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অনেকেই ভাবছেন, বর্তমান গ্লোবালাইজড ভাইরাস হামলা থেকে বিশ্বধ্বংসী যে বিশ্বমন্দা দেখা দেবে, তাকে ঠেকানো এবং বিপর্যস্ত দেশগুলোর পুনর্গঠনে সাহায্য দানের নামে আমেরিকা আবার যে বিশাল ফাঁদ পাতবে তা থেকে রক্ষা পাওয়া বিশ্বের যেকোনো ধনী-গরিব দেশের পক্ষে অসম্ভব হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্রলোভী নন, অর্থলোভী। আধিপত্যের চেয়েও মুনাফালোভী। কেউ কেউ বলেন, তিনি যুদ্ধের দ্বারা আধিপত্য বিস্তারের চেয়েও যুদ্ধের হুমকি দেখিয়ে অর্থের দ্বারা বিশ্ববাজার দখলে বেশি উৎসাহী। তিনি প্রভুত্বের চেয়েও বেশি চান ব্যবসায়ের মুনাফা।

সে জন্য তিনি করোনাভাইরাস সৃষ্টি হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না থামলেও যুদ্ধ থেকে অনেকটা সরে এসেছেন। ইরান ও উত্তর কেরিয়াকে যুদ্ধের হুমকি দিয়েও যুদ্ধ বাধাননি। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরাতে শুরু করেছেন। তালেবানদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বৈঠকে বসেছেন। এই জল্পনা যদি সত্য হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী ভাইরাস রণনীতি নয়, ভাইরাস কূটনীতি শক্তিশালী হবে। যদি তা হয়, তাহলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাতিসংঘের সাহায্য দানের প্রস্তাব হবে কাগুজে প্রস্তাব। ছোট দেশগুলোতে জাতিসংঘ ভাইরাস প্রতিরোধের নথিভুক্ত পরিকল্পনায় সমর্থন দান ও সাহায্য দানের কথা বলছে, তা হবে সাগরে এক ফোঁটা শিশির ফেলার মতো। আমেরিকার নিয়ন্ত্রিত জাতিসংঘ বড়র মাথায় তেল ঢালবে আর ছোটর শুকনো মাথায় হাত বুলাবে। ব্যবসার মুনাফা বাড়বে ট্রাম্পদের।

এই কল্পিত দৃশ্যের বিপরীতে আরেক দৃশ্য তুলে ধরছেন আরেক দল পর্যবেক্ষক। তাঁরা মনে করেন এই করোনাভাইরাস এবং তার সহযোগী অর্থনৈতিক বিশ্বমন্দা বাজার অর্থনীতি ও গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের দুর্গেও আঘাত হানবে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সূর্য আটলান্টিকের দুই পারেই অস্তমিত হবে। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও ধনবাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে যে নতুন বিশ্ব বেরিয়ে আসবে, তা হবে নতুন সমাজশক্তির। হবে আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন থেকে বেরিয়ে আসা নতুন সহযোগী সমাজ। এই সহযোগী সমাজই সমাজবাদী রাষ্ট্র গড়ে তুলবে। আর এই নতুন সমাজের জন্মগ্রহণকালীন যন্ত্রণাই এই ভাইরাসের যন্ত্রণা। এই ভাইরাসের অন্তিম ছোবল ধনবাদের দৈত্যের মৃত্যু না ঘটালেও তার দাপট শেষ করে দেবে।

এসব থিওরি পাঠ করার সময়ও কিছু মাত্র ইচ্ছা বর্তমান মুহূর্তে আমার পাঠকদের আছে বলে মনে করি না। করোনাভাইরাসের ভয়ানক ছোবলের ভয়ে সারা বিশ্ব কাঁপছে। মা-বাবা সাত মাসের সন্তানকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে। সদ্যোবিবাহিত বধূ স্বামীকে রেখে বাপের বাড়িতে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রেমিকা চুমু খেতে অস্বীকার করায় ক্রোধান্বিত প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। প্লেনে এক যাত্রী বারবার কাশি দেওয়ায় পাশে বসা সহযাত্রী ঘুষি মেরে তার চোয়াল ভেঙে দিয়েছে ইত্যাদি খবর আজ মানুষকে তাড়া করে ফিরছে। এই মুহূর্তের ভাবনা—মৃত্যুর শঙ্কার ভাবনা। কে আর ভবিষ্যৎ সমাজ ও রাষ্ট্রের কথা জানতে চায়? তবু লিখছি। মৃত্যুভীতির মাঝে বসেও লিখছি। মানুষ মরছে। আরো মরবে; কিন্তু মানবতা অমর।

লন্ডন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা