kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

বিশ্বময় টিকা ও ওষুধের খোঁজ

আ ব ম ফারুক

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বিশ্বময় টিকা ও ওষুধের খোঁজ

করোনাভাইরাসের দ্বারা বিশ্বজুড়ে মহামারি শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে সারা পৃথিবীতেই চিকিৎসক ও ওষুধবিজ্ঞানীদের কর্মতত্পরতা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেড়ে গেছে। যাঁরা এই ভাইরাস-সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তাঁদের কাছে এর কোনো প্রতিষেধক টিকা কিংবা চিকিৎসা করার কোনো স্বীকৃত ওষুধ এখনো নেই। দেশে দেশে ওষুধ কম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ল্যাবরেটরি আর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সঙ্গে ওষুধবিজ্ঞানীরা নিরন্তর চেষ্টা করছেন কোনো টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার করা যায় কি না। করোনাভাইরাস ঘন ঘন তার রূপ অর্থাৎ গঠন বদল করে ফেলছে বলে এর টিকা বা ওষুধ বের করতে উন্নত বিশ্বের বিজ্ঞানীরাও হিমশিম খাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানা গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার জার্মানির বায়োএনটেক কম্পানির সঙ্গে মিলে কভিড-১৯ এর একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন গবেষণাকাজের পরবর্তী জটিল অধ্যায়টি শুরু করবে। এরই মধ্যেই তারা যা পেয়েছে তা নাকি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সুইজারল্যান্ডের হফম্যান না রোশ এ মাসেই তাদের একটি টিকার উদ্বোধন করবে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলেও শেষ অবধি তা হচ্ছে না। তারা এ মাসে তাদের আবিষ্কৃত টিকা নয়; বরং একটি টেস্ট কিট উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে; গুরুত্বের দিক থেকে এটিও কম নয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ এবং বায়োটেক ওষুধ কম্পানি মডার্না যৌথভাবে করোনার টিকা আবিষ্কারের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবরেশনের আরো একটি চমৎকার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে করোনাকে ঘিরে। ওষুধ কম্পানি এনজেসের অর্থায়নে জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি করোনার একটি টিকা প্রস্তুত করেছে; আগামী সপ্তাহে যা প্রাণিদেহে পরীক্ষা শুরু হবে। এগুলো গেল ভ্যাকসিনের কথা। কিউরেটিভ বা ওষুধের কথা কী?

রোশ বলেছে, কয়েক দিনের মধ্যে তারা তাদের একটেমরা নামের ওষুধটি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কতটুকু কার্যকর তা নির্ণয়ে কাজ শুরু করবে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রিজেনেরন এবং ফ্রান্সের সানোফিও তাদের যৌথ প্রচেষ্টার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ওষুধ কেভজারা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কভিড-১৯ রোগীদের ফেজ-৩ অর্থাৎ প্রায় শেষ দিকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে। রিজেনেরন পরীক্ষাটি চালাবে যুক্তরাষ্ট্রে আর সানোফি চালাবে অন্যান্য দেশে।

ক্লোরোকুইন এবং হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন চিকিৎসক ও ওষুধবিজ্ঞানীদের কাছে ম্যালেরিয়া এবং অন্ত্রনালির বাইরের এমিবিয়াসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত পুরনো কিন্তু কার্যকর পরিচিত ওষুধ। পরবর্তীকালে শরীরে এর ইতিবাচক অটোইমিউন প্রতিক্রিয়ার কারণে এগুলোকে একিউট রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, জুভেনাইল ক্রনিক আর্থ্রাইটিস এবং সিসটেমিক ল্যুপাস এরিথিম্যাটোসাসের বা এসএলইর মতো জটিল অসুখে ব্যবহারের ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে নতুন করে তারা আলোচনায় আসে। বিশেষ করে এই অটোইমিউন প্রতিক্রিয়ার কারণেই ২০০৬ ও ২০০৭ সালে ক্লোরোকুইন সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই সাফল্যের কাহিনি পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিতও হয়েছে। তাই এবার করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ওষুধ আবিষ্কারের প্রক্রিয়ায় ওষুধবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সম্ভাবনার মধ্যে বেশ কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের সঙ্গে এই ক্লোরোকুইন এবং হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকেও অন্তর্ভুক্ত করেন।

সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস এত মানুষকে আক্রান্ত করতে পেরেছে, কারণ নতুন এই ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করার মতো কোনো প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন পৃথিবীর কোনো বিজ্ঞানীর কাছে নেই। তবে জোর গবেষণা চলছে এবং ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারে কিছু কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে। কিন্তু কোনো নব-আবিষ্কৃত কার্যকর ভ্যাকসিন বাজারে আসতে আরো সময় লাগবে, কমপক্ষে সম্ভবত আরো এক বছর।

কিন্তু তত দিনে এরই মধ্যে আক্রান্ত এই বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার কী হবে? বিশ্বের দেশে দেশে চিকিৎসক ও ওষুধবিজ্ঞানীরা প্রাণান্তকর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফল হিসেবে এ বছরের জানুয়ারিতেই উল্লেখযোগ্য অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগগুলোর মধ্যে অসেলটামিভির, লোপিনাভির, রিটোনাভির এবং রেমডেসিভির উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখা যায়। এর মধ্যে প্রথমটি বার্ড ফ্লু, দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি এইচআইভি/এইডসের চিকিৎসায় এতকাল সফলভাবে ব্যবহার হচ্ছিল। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে এই ওষুধগুলো করোনার বিরুদ্ধে কম্বিনেশন ড্রাগ হিসেবে চমৎকার সাফল্য দেখানোর পরিপ্রেক্ষিতে চীনেও এগুলোর ব্যবহার শুরু হয় এবং করোনা আক্রান্ত রোগীদের  বেশির ভাগই ভালো হতে থাকে। ইরান ও ভারতের কিছু চিকিৎসকও এই কম্বিনেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসা করছেন। ইউরোপের বেশ কিছু দেশেও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই চারটি অ্যান্টিভাইরালের মধ্যে শেষোক্ত রেমডেসিভির নতুন ওষুধ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগেই সার্স ও মার্স ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য চীনে এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হচ্ছিল। করোনা প্রাণসংহারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর এটি সেই রোগীদের দেহেও পরীক্ষা করা হয়। আলোচ্য এই চারটি অ্যান্টিভাইরালের মধ্যে করোনাভাইরাসের রোগীরা এই রেমডেসিভির ওষুধটিতে সবচেয়ে বেশি সাড়া দিচ্ছে। 

লাখো মানুষের প্রাণ বাঁচানো কুইনাইন থেকে পরবর্তীকালে রাসায়নিক বিক্রিয়া বা সংশ্লেষণের মাধ্যমে ক্লোরোকুইন এবং হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন তৈরি করা হয়েছে, যা ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে কুইনাইনের চেয়েও কার্যকর। তবে ক্লোরোকুইনের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। তবু কার্যকারিতার কথা বিবেচনা করলে ক্লোরোকুইন এখনো একটি নামি ওষুধ। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হওয়ার কারণে ক্লোরোকুইনের চেয়ে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন অনেক চিকিৎসকের কাছে বেশি পছন্দের।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় দক্ষিণ কোরিয়া ক্লোরোকুইনকে সর্বপ্রথম ব্যবহার এবং সাফল্য পাওয়ার কথা জানায়। এর পরপরই সানোফি নামের ওষুধ কম্পানিটি ফ্রান্সে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে এই চিকিৎসায় ব্যবহার শুরু করে। গণমাধ্যমের খবর থেকে দেখা যায় কোরিয়া, ফ্রান্স ও চীনের সাফল্য দেখে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ তাদের দেশেও ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে নিয়ে করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছে, তবে সেটি ‘ইন ভিট্রো’ পরীক্ষায় ‘ইন ভিভো’ পরীক্ষা, তারা এখনো করেনি এবং সে কারণেই এফডিএ ওষুধটিকে এখনো ব্যবহারের অফিশিয়াল অনুমতি দেয়নি। তবে তারা ‘ইন ভিভো’ পরীক্ষা শুরু করেছে, যার ফলাফল পেতে কিছু সময় লাগবে বলে মার্কিন এফডিএ জানিয়েছে।

ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের সঙ্গে এজিথ্রোমাইসিন যোগ করার পক্ষে নতুন কিছু গবেষণার ফলাফল এসেছে। এজিথ্রোমাইসিন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে খুব ভালো কাজ করে বিধায় একে এই দুটি ওষুধের সঙ্গে বিজ্ঞানীরা সংযুক্ত করেছেন। ২০১৭ ও ২০১৮ সাল থেকে এই অ্যান্টিবায়োটিকটি জিকা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু নিয়ম না মেনে অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকে চিকিৎসা ও পশুখাদ্যে ব্যবহারের কারণে এরই মধ্যেই অনেক অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুদের বিরুদ্ধে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও এজিথ্রোমাইসিনে জীবাণুদের রেজিস্ট্যান্স একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দূর করতে উদ্যোগী হওয়ার বদলে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতার কারণে জনস্বাস্থ্যগত এই চ্যালেঞ্জটি রয়েই গেছে। তবে কখনো কখনো দেখা গেছে রেজিস্ট্যান্ট অ্যান্টিবায়োটিকটিকে অন্য আরেকটি ওষুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে রেজিস্ট্যান্স কেটে গিয়ে কার্যকারিতা বেড়ে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন এফডিএ তাদের ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের সঙ্গে এজিথ্রোমাইসিন সহযোগে ‘ইন ভিভো’ পরীক্ষার ফলাফল কী বলে তার জন্য কিছু সময় অর্থাৎ কমপক্ষে কয়েক মাস অপেক্ষা করতেই হবে।

ক্লোরোকুইন বা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের সঙ্গে এজিথ্রোমাইসিনের কোনো আন্ত ওষুধ বিক্রিয়া নেই। তাই কোনো চিকিৎসক যদি এই মিশ্রণ ব্যবহার করতে চান তাহলে ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশনের কোনো সমস্যা নেই। তবে অন্য বেশ কিছু ওষুধের সঙ্গে রয়েছে। আমাদের দেশের বিবেচনায় এ ব্যাপারে যে সাবধানতাগুলো নিতে হবে সেগুলো হলো :

ক্লোরোকুইন বা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন হৃদযন্ত্রের ছন্দহীনতার ওষুধ এমিওডারোন কিংবা ব্যথানাশক লেভএসিটাইল মেথাডলের সঙ্গে ব্যবহার করলে হৃদযন্ত্রের ভেনট্রিকুলার এরিথমিয়া তৈরি করে। তাই এগুলো একসঙ্গে খাওয়া যাবে না। এ ছাড়া সাইক্লোস্পোরিন ও হৃিপণ্ডের গোলযোগের ওষুধ ডিগক্সিনের প্লাজমায় উপস্থিতি বেড়ে যায়। নিওস্টিগমিন ও পাইরিডোস্টিগমিন নামের প্যারাসিমপ্যাথোমিমেটিকগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এন্টাসিডের কারণে ক্লোরোকুইন বা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের বিশেষণ কমে যায়। কেওলিন শুধু ক্লোরোকুইনের বিশেষণ কমায়।

বাংলাদেশে ছয়টি ওষুধ কম্পানি সিরাপ ও ট্যাবলেট আকারে ক্লোরোকুইন এবং ট্যাবলেট আকারে দুটি কম্পানি হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন তৈরি করে। আর এজিথ্রোমাইসিন তৈরি করে এখানকার ৫০টি ছোট-বড় ওষুধ কম্পানি। তাই এই ওষুধগুলো এ দেশে কোনো চিকিৎসক যদি তাঁর করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহার করতে চান তাহলে এগুলোর উত্পাদন, সরবরাহ ও সহজলভ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যা হলেও আমাদের দেশে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এফডিএ যেহেতু ‘ইন ভিট্রো’ পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছে এবং যেহেতু দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স ও চীনে সীমিত আকারে হলেও ভালো ফলাফল দেখা গেছে; অতএব হয়তো এফডিএ-এর ‘ইন ভিভো’ পরীক্ষাসহ আন্তর্জাতিক বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর ফলাফলেও কভিড-১৯ এর চিকিৎসায় ক্লোরোকুইন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও এজিথ্রোমাইসিন অত্যন্ত সফল বলে প্রমাণিত হবে। এই ওষুধগুলো ব্যবহার করতে হলে আমাদের আরো একটি বড় সুবিধা হলো যে এই তিনটি ওষুধের দামই বিদেশের তুলনায় আমাদের দেশে অনেক কম। ফলে গরিব-নিম্ন আয় ও মধ্যবিত্তরাও এই ওষুধগুলো অনায়াসেই খেতে পারবে। সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কেও এগুলো বিনা মূল্যে বিতরণ করা সরকারের পক্ষে সহজ হবে।

আর যদি এই তিনটি ওষুধ কার্যকর বলে প্রমাণিত না-ও হয়, তাতেও আমাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আমাদের কাছে অস্ট্রেলিয়া-জাপান-থাইল্যান্ড-চীন ও ইউরোপের দেশগুলোর উদাহরণ রয়েছে। সেসব জায়গায় যে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধগুলো যেমন—অসেলটামিভির, লোপিনাভির, রিটোনাভির এবং রেমডেসিভির ব্যবহার হচ্ছে, কার্যকর বলে অফিশিয়ালি স্বীকৃত হলে আমরাও সেগুলো ব্যবহার করতে পারব। তবে সমস্যা একটাই। এসব অ্যান্টিভাইরালের দাম যথেষ্ট বেশি। তাই আমরা কায়মনোবাক্যে চাইতেই পারি যে ক্লোরোকুইন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও এজিথ্রোমাইসিন—এই ওষুধগুলোই যেন সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও স্বীকৃত হয়ে আসে। নিশ্চয়ই তখন আমাদের দেশের চিকিৎসকরা এগুলোর প্রেসক্রিপশন দিতে ভরসা পাবেন এবং চোখ, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের অসুখ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধের প্রেসক্রিপশন সতর্কভাবে লিখবেন।

উন্নত দেশগুলো যেভাবে করোনাকে সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে অতি সীমিত সম্পদ ও সুবিধাদি নিয়ে যেভাবে সরকার, চিকিৎসক ও সেবিকাসহ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত মানুষ, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী যে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা দেখিয়েছে, তা প্রশংসাযোগ্য। এখন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ায় তা আরো সুচারুভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে বিশ্বাস করি। আগামী দিনগুলোতে যদি হাত ধোয়া ও ঘরে থাকার কাজটা আমরা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, চিকিৎসার জন্য স্বীকৃত ওষুধগুলোর প্রটোকলও যদি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে আমরা পেয়ে যাই এবং সামনে যেহেতু কালবৈশাখীর অঝোর বৃষ্টিসহ গ্রীষ্মকাল সমাগত, তখন বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার আমরা ইনশাআল্লাহ অবশ্যই রোধ করতে পারব।

তবে এই ওষুধগুলো বেশ কিছু কম্পানি কর্তৃক আমাদের দেশে তৈরি করলেও প্রেসক্রিপশন দেওয়ার সময় ভালো মানের ওষুধগুলোই যেন সেখানে স্থান পায় তা এই সংকটকালে অন্য সময়ে চেয়েও গভীরভাবে প্রত্যাশা করব।

লেখক : অধ্যাপক  পরিচালক, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কার্যনির্বাহী সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা