kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

রাজনীতির কেন্দ্রে এখনো মাহাথির

আনিসা শুকরি ও হাদি আজমি

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝোড়ো একটি দিন গেল সোমবার—হঠাৎ ধসে পড়ল মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোট। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার: মাহাথির মোহাম্মদ কিংমেকারের আসনে অধিষ্ঠিত।

ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির সোমবার হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করেন। বিরোধের মূল বিষয়: প্রধানমন্ত্রী পদে কে মাহাথিরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

যা হোক, সোমবার দিন শেষে মাহাথিরই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে গেলেন। কারণ রাজা মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে তাঁকেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। ক্ষমতাসীন জোটের বেশির ভাগ দলই তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

মালয়েশিয়ার রাজনীতির বিশ্লেষক ইতালির জন চাবোত ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ব্রিজেট ওয়েলশের মতে, পদত্যাগের বিষয়টি কৌশলগত নাকি পরিকল্পিত সেটা বিতর্কের বিষয়। যা ঘটেছে তাতে কি বলা যায় যে তিনি তাঁর অবস্থান আরো সংহত করেছেন! সরকারে কাকে রাখতে চান সে বিষয়ে ভবিষ্যতে যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, তার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার বিষয়ে তাঁর অবস্থান কি আরো সংহত হয়েছে?

ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফলাফলের বিষয়টি যখন অস্পষ্ট তখন ঘটনাবলি মাহাথির ও আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যকার কয়েক দশকের পুরনো বিরোধে আরেকটি মাত্রা যোগ করে। তাঁদের মধ্যে অবিশ্বাসের সূচনা ১৯৯০ সালের দিকে, যখন মাহাথিরের মন্ত্রিসভা থেকে আনোয়ারকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং সমকামিতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পুনরাবির্ভাব মালয়েশিয়ার অর্থনীতির জন্য হুমকি। এমন একসময় এ হুমকি দেখা দিয়েছে, যখন করোনাভাইরাসজনিত দুর্যোগ এবং বাণিজ্য যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর আঘাত করছে। তবে মঙ্গলবারে অবস্থার উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে; আগের দিন সোমবারের ঘটনায় ধাক্কা খেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার রিঙ্গিতে ০.১ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে; স্টক ইনডেক্সেও অগ্রগতি দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, মাহাথির ও আনোয়ার আবারও হাত মেলান ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে এবং বিস্ময়কর ফল পান। মাহাথির শিগগিরই ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ান এবং প্রায় দুই বছর পার হলেও আনোয়ারকে প্রধানমন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে কি না তা স্পষ্ট করেননি। এর ফলে আনোয়ারের পার্টিতে অস্থিরতা বেড়ে যায়, তাঁর ডেপুটি আজমিন আলী মাহাথিরের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হাজির হন। আজমিন সোমবার আনোয়ারের দল ছেড়েছেন। প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এখনো তাঁর নাম রয়েছে।

মাহাথিরই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এখন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাবিনেট লাইন-আপ নিয়ে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, প্রতিটিতে মাহাথিরের ছবি থাকছে। মঙ্গলবার মাহাথির তাঁর ছাই রঙের স্যুট পরে অফিসে বসে দলিলপত্র দেখায় ব্যস্ত থাকার ছবি শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে বলা হয়েছে, অফিসে আরো একটি দিন।

এখন আইনসভার সদস্যদের সংখ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে আসন ২২২টি। প্রতিনিধিত্ব করছে ১৯টি দল। সোমবার পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোট পাকাতান হারাপানের আসন ছিল ১৩০টি; কিছু সদস্য জোট ছেড়েছে, অন্তত সাময়িক সময়ের জন্য। বিভিন্ন দল থেকে সমর্থনের যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে বোঝা যায়, তিনি এখনো নতুন জোট গঠন করতে পারেন। জোটের ভেতর-বাইরের উভয় পক্ষের দল নিয়ে। বর্তমান জোটের যারা আসতে চায় না, তাদের অপেক্ষায় না থাকলেও চলবে।

মাহাথিরের হঠাৎ পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন জোট গঠনের জন্য দলগুলোর দৌড় শুরু হয়েছে। এর মানে হলো, যারা ছেড়ে চলে গেছে তাদের ছাড়াই পাকাতান হারাপান নিজেকে পুনর্গঠিত করতে পারবে। যদি তা হয় তাহলে ধারণা করা চলে, এ বছরের শেষের দিকে আনোয়ার ইব্রাহিম মাহাথিরের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণের অবস্থানে থাকবেন। সেটা সম্ভব হবে যদি এ মাসের গোড়ার দিকে যে সমঝোতা হয়েছে তা বহাল থাকে।

নতুন সরকার গঠনের জন্য মাহাথির আজমিন এবং ইউনাইটেড মালয়জ ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (উমনো) সঙ্গেও হাত মেলাতে পারেন। একসময় উমনোকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, আবার সে দলই তিনি ত্যাগ করেছিলেন। তবে আনোয়ার বলেছেন, মাহাথির তাঁকে নিশ্চিত করেছেন, এমনটি কখনো ঘটবে না।

বিরোধী পক্ষ বারিসান ন্যাশনাল, যারা ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত ছয় দশক মালয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে, আবার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে—এমনটাও সম্ভব। তবে তার জন্য দলটিকে পাকাতান ছেড়ে আসা প্রায় সব আইনপ্রণেতাকে পক্ষে টানতে হবে। তবে নিজের রাজনীতির যথেষ্ট ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে তাদের।

যা হোক, মালয়েশিয়ায় আগে যেমন ঘটেছে এখনো তেমনি দেখা যাচ্ছে—সবার চোখ নিবদ্ধ মাহাথিরের দিকে।

 

লেখক: দুজনই সাংবাদিক

সূত্র: ব্লুমবার্গ নিউজ

ভাষান্তর: সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা