kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জলবায়ু নিয়ে ভয়ংকর উদ্বেগে কাটছে সময়

অনলাইন থেকে

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জলবায়ু নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের ব্যাপারটা মনস্তত্ত্ববিদরা যেভাবে ব্যাখ্যা করছেন, তাতে এককথায় বলা যায়, নিশ্চয়ই এ উদ্বেগ অর্থবহ। বৈশ্বিক উষ্ণতা যেভাবে বাড়ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে সরকার, ব্যবসায়ী ও সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপ গ্রহণে যে ঘাটতি রয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, তাতে ওই উদ্বেগে হেরফের হবে না।

পরবর্তী সময়ে যা ঘটতে যাচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তা ভীতিকর। পৃথিবীর যেসব জায়গা বসবাসের অযোগ্য, সেসব জায়গার তাপমাত্রা এরই মধ্যে বেড়ে গেছে, বরফচাই গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে আর আবহাওয়া ব্যবস্থায় ভাঙন ধরার কারণে বন্যা, দাবানল, ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি খাদ্য ও পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে জীববৈচিত্র্যের সংকট, যার কারণে আরেক মারাত্মক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী দশকজুড়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কী হবে না, সেটার ওপর নির্ভর করছে আমরা তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে পারব কি না। জাতিসংঘের হিসাবে আগামী দশকজুড়ে আমরা যদি প্রতিবছর কার্বন নিঃসরণের হার ৭.৬ শতাংশ করে কমাতে না পারি, তবে তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রির বেশি বেড়ে যাবে। আর সেটা ঘটলে মানবসমাজের ওপর এর প্রভাব হবে অপরিমেয়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রভাবটা হবে বিপর্যয়কর।

সব কিছু বিবেচনায় নিলে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণগুলো নিয়ে বিতর্কও আছে। সে যা-ই হোক, জলবায়ু উদ্বেগের কারণে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব সীমাবদ্ধ রাখতে অথবা কমাতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়। কোনো ব্যক্তি হয়তো নিজের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছে, কোনো দাতব্য সংস্থা হয়তো নিজেদের জ্বালানি ব্যবহারের ধরন পাল্টাচ্ছে, কোনো পরিষদ হয়তো কার্বন নিঃসরণের লাগাম টানতে লক্ষ নির্ধারণ করছে, এমনও হতে পারে যে গণমাধ্যম জীবাশ্ম জ্বালানি কম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এসব নেতিবাচক চিন্তাভাবনার পাশাপাশি আরো অনেক অনুভূতি মানুষের মধ্যে কাজ করছে। সেসব অনুভূতি হতে পারে অসাঞ্জস্যপূর্ণ অথবা তীব্র, আবার কারো কারো অনুভূতি দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে সেগুলো শিথিল হয়ে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কারো অনুভূতি আবার খুবই সাধারণ পর্যায়ের, যেটাকে সিগমুন্ড ফ্রয়েডের ভাষায় বলা যেতে পারে ‘কমন আনহ্যাপিনেস’। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তার কারণ আছে বটে, তবে সেই চিন্তা যদি কাউকে প্রকটভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তবে উল্টো ফল হতে পারে। সেটা ঠেকাতে মনস্তত্ত্ববিদদের দিক থেকে ছোট হলেও বেশ কার্যকর একটা পরামর্শ আছে। সেই পরামর্শের সঙ্গে জলবায়ুকর্মী জেন ফন্ডার উক্তিটা মিলে যায়, ‘যে মুহূর্ত থেকে আপনি কিছু একটা করতে শুরু করবেন, সেই মুহূর্তেই আপনার হাতাশা উবে যাবে।’ এই উক্তি অনুসরণ করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে কিছু করতে না পারার হতাশা আর অক্ষমতার অনুভূতির উপশম হতে পারে।

ছোট ছোট সব ধরনের হতাশা কেটে যাবে, তেমনটা না-ও হতে পারে। আর জলবায়ু পরিবর্তন ও কঠিন পরিস্থিতির কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। উদ্বেগের কারণ তো এরই মধ্যে আছেই। এই যেমন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে যারা বন্যাসহ চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার শিকার হয়েছে, তাদের হতাশাসহ অন্যান্য সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।

মানসিক সহায়তার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে পেশাদার মনস্তাত্ত্বিকদের দায়িত্ববান হওয়া উচিত। দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে মানসিক চাপের কারণে নিত্যদিনের জীবন যাপনে যে দুশ্চিন্তার জন্ম হয় অথবা অন্যান্য যেসব লক্ষণ দেখা দেয়, সেগুলো পেশাদাররাই শনাক্ত করতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের দাবানল এবং ইন্দোনেশিয়ার বন্যা যত বড় ক্ষতি করেছে, তাতে মারাত্মক মানসিক সমস্যার পাশাপাশি শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও আছে, বিশেষ করে শিশু ও অন্য সব ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মধ্যে। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে মানসিক আঘাতটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা সর্বব্যাপী হয়ে উঠতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা মনস্তত্ত্ববিদরা যদি নিজেদের লেখায় তুলে ধরেন, তবে বিষয়টাকে পৃথিবীর সব জায়গার নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

সূত্র : সম্পাদকীয়, দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : শামসুন নাহার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা