kalerkantho

অভিশংসনে ব্যর্থতার পাঁচ কারণ

ডাব্লিউ জেমস অ্যান্টল থার্ড

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অব্যাহতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি ভেস্তে গেল। জন বোল্টন শুনানিতে উত্তেজনা বিস্তারের প্রয়াস করেছিলেন বটে; কিন্তু তা হলো না। কেন অভিশংসনের বিষয়টি পার্টি-লাইনের (ব্যতিক্রম মিট রমনি) বিষয়ে পরিণত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল? এর কয়েকটি কারণ রয়েছে।

এক. প্রকাশ্য শুনানিতে অভিশংসন-তদন্ত দলীয় বিষয়ে পরিণত হয় : প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটদের অভিশংসন প্রক্রিয়ায় প্রচুর রুদ্ধদ্বার শুনানি ছিল; সেসব আবার মিডিয়ায় ফাঁসও হয়েছে। এ প্রক্রিয়া রিপাবলিকানদের ক্ষুব্ধ করে। অথচ ওই সময়ে অভিশংসনের পক্ষে জনমত বর্ধমান ছিল। তখন ট্রাম্পের ভুলভাল কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট বয়ান দরকার ছিল; বয়ানে স্বচ্ছতারও দরকার ছিল। শুরুর দিকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প-ইউক্রেন কাহিনিতেই নিবিষ্ট ছিল। একপর্যায়ে অভিশংসন প্রক্রিয়া ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের টেলিভিশন শো-তে পরিণত হলে জনমতের ঊর্ধ্বগতি থমকে দাঁড়ায়। এরপর বিষয়টিকে পার্টি-লাইনের বাইরে বিবেচনা করার কোনো অবকাশ ছিল না। প্রগতিশীলদের কাছে অভিশংসন জনপ্রিয় ইস্যু ছিল। আবার তৃণমূল রক্ষণশীলদের কাছে এটি খুবই অজনপ্রিয় ছিল। ইভানজেলিকেলদের কাছে ট্রাম্প যতটা জনপ্রিয় মর্মনদের কাছে ততটা নন। এ কারণে উঠাহর রমনি অভিশংসনের একটি আর্টিকেলের পক্ষে ভোট দিতে পেরেছেন। ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার জন্য ২০ জন রিপাবলিকান সিনেটরের পক্ষত্যাগের দরকার ছিল। কিন্তু বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটা ছিল খুবই অসম্ভব ব্যাপার।

দুই. ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্তকরণে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশায় ঘাটতি ছিল : অভিশংসন প্রক্রিয়া দলীয় হয়ে পড়েছে—এটা স্পষ্ট হওয়ার পর শুধু দুটি উদ্দেশ্যই পূরণ করার বাকি ছিল—১. ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ক্ষতির সম্মুখীন করা এবং যে প্রগতিশীলরা চেয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হোক তাদের উৎসাহ চাঙা করা। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা কখনো ভেবে দেখেনি, অভিশংসিত করতে হলে যথেষ্টসংখ্যক রিপাবলিকান ভোট জোগাড় করতে হবে। ইমপাউন্ডমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের ভিত্তিতে অভিশংসন করার চেষ্টা করলে কর্মীরা সন্তুষ্ট হতে পারে—এ কথাও তারা ভাবেনি। তারা বরং ট্রাম্প-রাশিয়া আঁতাতের কথা বেশি বলেছে এবং রাশিয়াকে শিক্ষা দেওয়াবিষয়ক নব্য রক্ষণশীল ভাষণ দিয়েছে। তারা যা করেছে তার পুরোটাই বাগাড়ম্বরী আর আত্মতুষ্টিমূলক বয়ান—যেন ট্রাম্প ঢোকার আগে হোয়াইট হাউস ছিল সুনসান বিনোদনমঞ্চ, সেখানে ব্যত্যয়ী কিছুই ঘটেনি।

তিন. ট্রাম্প ও সিনেটের রিপাবলিকানদের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়নি : ট্রাম্প নিজ দলের সিনেটরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করেন না, যতটা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্ক রক্ষা করতেন বিল ক্লিনটন। ফলে ট্রাম্পের জন্য বড় ঝুঁকি ছিল। রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা যদি তিনি যতটা চান তত মাত্রায় তাঁকে সহযোগিতা না করতেন তাহলে তিনি খেপে যেতে পারতেন। ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইউক্রেন ফোন কল’ ঠিক ছিল। তবে অনেক রিপাবলিকান সিনেটর মনে করতেন এটা যথাযথ ছিল না, আবার এটা এমন মাত্রার সমস্যা নয় যে এ অভিযোগে নির্বাচনের বছরে একজন প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা যায়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের আইনজীবীরা এবং প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্টকে ততটাই সহযোগিতা করেছেন, যতটা তিনি আশা করেছিলেন। লামার আলেকজান্ডারের মতো সিনেটররা তাঁর পক্ষে ভোটদানের যৌক্তিকতা তেমনভাবেই তৈরি করেন, যেমনভাবে তিনি চেয়েছিলেন। কোনো বিভাজন দেখা দেয়নি, সিনেটে শুধু রমনি বিপক্ষে ভোট দেন।

চার. নির্বাচনের বছর : সব আয়োজনের শেষে যে কথাটি সামনে এসেছে তা হচ্ছে, ‘জনগণকে ভোট দিতে দাও।’ বাইডেন বিষয়ে তদন্তের কথা, ইউক্রেনের জন্য সহায়তা তহবিল ছাড় দেওয়া (যেহেতু কোনো বাস্তব সমস্যা দেখা দেয়নি) প্রভৃতি বিষয়ে তর্ক-বিতর্কের ওপর নির্বাচনের প্রসঙ্গটিই প্রাধান্য পেয়েছে; বরং জনগণের কাছে এসব তর্ক-বিতর্ক নির্বাচনের জন্য বাধা গণ্য হয়েছে। তাদের কাছে বিষয়টির দ্রুত সমাধানই কাম্য মনে হয়েছে। ভোটাররা চেয়েছে, ট্রাম্পের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে হবে বা হবে না সেটা তারা ভোটের মাধ্যমে জানাবে।

পাঁচ. এখন ট্রাম্পের যুগ : ট্রাম্প বরাবরই খবরের মূল বিষয় হয়ে থেকেছেন। যখন থেকে তিনি হোয়াইট হাউসে ঢোকার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তখন থেকে। খবর তাঁর পিছে ছুটেছে। যেদিন তিনি অব্যাহতি পেলেন, সেদিন অভিশংসনের বিষয়টি সম্ভবত তৃতীয় শীর্ষ খবর ছিল। ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক ঘটনাবলি বড় খবর বিবেচিত হয়নি। ট্রাম্প সব পাশে ঠেলে এগিয়ে গেছেন। জনগণও যেন কোনো একটা বিষয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্ট করে নেয়। যাঁরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধাচরণে নেমেছিলেন তাঁদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তাঁরা একটা শিক্ষা পেয়েছেন।

লেখক : দি আমেরিকান কনজারভেটিভের সম্পাদক

সূত্র : স্ট্র্যাটেজিক কালচার জার্নাল অনলাইন

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা