kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

অনলাইন থেকে

প্রহসনের বিচার!

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্যাপিটাল ভবনের বাইরের চিত্রটি সেদিন গতানুগতিক ছিল। একদল লোক বিক্ষোভ করছে, স্লোগান দিচ্ছে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা এক লোকের হাতে ধরা আছে প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা ‘স্রষ্টা দেখছে’। এ রকম আরো অনেক কিছু।

সিনেট কক্ষের দিকে যতই এগোনো যায়, আশপাশের দৃশ্যগুলো ততই অস্বাভাবিক ঠেকতে থাকে। যে রিপোর্টাররা সিনেটকক্ষের দিকে যেতে আগ্রহী, তাঁদের নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখাতে হচ্ছে, বিশেষ টিকিট নিতে হচ্ছে। এত কিছুর পরও তাঁরা সেদিন সিনেটকক্ষের কার্যক্রম নিজেরা রেকর্ড করতে পারেননি; বরং সিনেটের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়েছে। সিনেটের সভাপতিত্বেও ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রচলিত রীতি অনুসারে কোনো সিনেটর কিংবা ভাইস প্রেসিডেন্ট এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেননি। এ দায়িত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। সিনেটের কার্যক্রম চলাকালে সিনেটরদের মোবাইল ফোন জমা দিয়ে দিতে হয়েছে।

এদিন সিনেটরদের হাতে কোনো পাস হওয়া নোট ছিল না; বরং ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত বাগিবতণ্ডার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসনসংক্রান্ত বিচারের জন্য একটি নীতিমালা পাস করেন তাঁরা। পরদিন বিকেলে শুরু হয় শুনানি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন শীর্ষক ভাষণ দেওয়ার আগেই সম্ভবত বিচারকাজ শেষ হয়ে যাবে। আর এর ফলাফল কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কারণ ট্রাম্পকে অপসারণ করতে হলে অভিশংসনের পক্ষে রিপাবলিকান সিনেটরদের ভোট বাড়াতে হবে, যা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। সিনেটে অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষে রিপাবলিকান দলের ওপর ট্রাম্পের কর্তৃত্ব যে স্পষ্ট হবে, তা বলাই বাহুল্য।

অভিশংসনের পক্ষে-বিপক্ষে উভয়পক্ষ নিজ নিজ প্রাথমিক ভাষ্য উপস্থাপন করেছেন। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধান এবং হাউস থেকে নির্বাচিত সাতজন ব্যবস্থাপকের একজন অ্যাডাম শিফ ছিলেন প্রসিকিউটরের ভূমিকায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, ব্যক্তিগত স্বার্থোদ্ধারের জন্য ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতির সর্বনাশ ঘটিয়ে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং হাউসের তদন্তে সহায়তা না করার জন্য অধস্তনদের নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প এযাবৎকালের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে মারাত্মক অসদাচরণ করেছেন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের আইনজীবীদের বক্তব্যে প্রাধান্য পেয়েছে বিচারপ্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি। জে সেকুলোর দাবি, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে তদন্তকালে সাক্ষীদের বক্তব্য যাচাই করার অধিকার থেকে ট্রাম্পকে বঞ্চিত করা হয়েছে। প্যাট সিপোলোন দাবি করেছেন, অ্যাডাম শিফ যে কক্ষে শুনানি পরিচালনা করেছেন, সেখানে রিপাবলিকানদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

দুই পক্ষের বক্তব্য ১২ ঘণ্টায় এতটাই তিক্ততার দিকে চলে যায় যে শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি রবার্টস উভয়পক্ষকে ভাষার ব্যবহারে সংযত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেন। এর এক ঘণ্টা পর ম্যাককনেলের প্রস্তাবিত নীতিমালা পাস হয়। সে অনুসারে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য তিন দিনে মোট ২৪ ঘণ্টা করে সময় পাবে। বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রবিবার বাদ দিয়ে সপ্তাহে ছয় দিনই সিনেটের কার্যক্রম চলবে। প্রাথমিক তথ্য উপস্থাপনের পর সিনেটে প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য ১৬ ঘণ্টা সময় থাকবে। প্রশ্নগুলো লিখিত আকারে সভাপতি রবার্টসের কাছে উপস্থাপন করতে হবে, তিনিই প্রশ্নগুলো পড়ে শোনাবেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে আবার চার ঘণ্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলবে। এর পরের ধাপে আবার বিতর্ক হবে। এ বিতর্কের বিষয়—আরো সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা হবে কি না।

আরো সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা নিয়েই ডেমোক্র্যাটদের যত মাথাব্যথা। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ট্রাম্পকে যখন অভিশংসন করা হয়, তখন তাঁর সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছিলেন, কংগ্রেস চাইলে তিনি সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী। ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান দাতা লেভ পারনাস জানিয়েছেন, জো ও হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়টি ট্রাম্প-বোল্টন জুটি তো জানতেনই, পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারও সেটা ভালোভাবেই জানতেন।

সংশ্লিষ্ট এসব ব্যক্তির পাশাপাশি আরো অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। হোয়াইট হাউস সে ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে। এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর জোর দিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য ছিল, তাঁদের এ দাবিতে কোনো কোনো রিপাবলিকান সিনেটর সমর্থন দেন সেটা জানা। কারণ রিপাবলিকান সিনেটরদের সমর্থনের তথ্যটা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধেই কাজে লাগাতে চায় ডেমোক্র্যাটরা।

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : শামসুন নাহার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা