kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সামাজিক ব্যাধিগুলোর জন্য দরকার সামাজিক চিকিৎসা

মোফাজ্জল করিম

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



সামাজিক ব্যাধিগুলোর জন্য দরকার সামাজিক চিকিৎসা

বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে মুশকিল হলো, কোনো বিষয়ে তাঁদের কিছু বলতে বললেই তাঁরা অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুলে বসেন। হাজিরানে মজলিস তাঁদের ‘আমাদের সময়ের’ গল্প-গাথা বা ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ শিরোনামের কিচ্ছা-কাহিনী শুনতে আদৌ আগ্রহী কি না, তাঁরা একটু পর পরই মনোযোগ হারিয়ে হাই তুলছেন কি না, পেছন দিক থেকে কে আস্তে করে কেটে পড়লেন, এগুলোর দিকে বক্তার নজর নেই। তিনি তাঁর আমলের এক টাকায় পদ্মার দুটো সোমত্ত ইলিশ, আর ছয় টাকা মণ (প্রায় সাড়ে সাঁইত্রিশ কেজি) চালের গল্পে দ্রুত হারিয়ে যান সুদূর অতীতে। আর আমার মতো স্মৃতিভুক কেউ হলে তো আর কথাই নেই। তাঁর কথা বলা মানেই তো সোনালি অতীতে অবগাহন করা। যে অতীতে যেমন আজকের মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টিভি, বিদেশি ফ্যাশন আর কথায় কথায় হিল্লি-দিল্লি ঘোরা ছিল না, তেমনি ছিল না খুনাখুনি, রাহাজানি, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ প্রভৃতি জঘন্য অপরাধের মহামারি।

কথাটা একটু খোলাসা করে বলি। এখন যেমন বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি, উনিশ শ পঞ্চাশের দশকে এই ভূখণ্ডে তা ছিল কুল্লে ৬ কোটি বা তার চেয়ে একটু বেশি। তেমনি অপরাধ-অপরাধী এবং অপরাধদমনকারীদের সংখ্যাও ছিল অনেক কম। আর অপরাধ বলতে ছিল চুরি-চামারি আর কালে-কস্মিনে দু-একটা ডাকাতি। হ্যাঁ, মারামারি, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ, খুন-জখম যে হতো না তা নয়, তবে এগুলো এবং অন্যান্য ঘৃণ্য অপরাধের সংখ্যা ছিল কম। যেমন—ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন এগুলো ছিল না বললেই চলে।

আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে কুলাউড়া, মৌলভীবাজার, বগুড়া, মাইজদী কোর্ট (নোয়াখালী), রাঙামাটি ও কুমিল্লা শহরে। মোটামুটি পঞ্চাশের দশকের পুরোটাই আব্বার চাকরির সুবাদে পরিযায়ী পাখির মতো এক শহর থেকে আরেক শহরে গমন ও কিছুদিনের জন্য বসবাস। ওই বয়সেই কত কিছু দেখেছি এবং কখনো চমত্কৃত, কখনো বিস্ময়াভিভূত হয়েছি। সেই সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল-ক্রিকেট-বেডমিন্টন-ডাংগুলি না খেললে, রোজ পুকুরে নেমে দাপাদাপি, ঝাঁপাঝাঁপি না করলে ভাত হজম হতো না। এই এতগুলো শহরে বছর দশেক কাটালাম, একেবারে যে অবোধ কোলের শিশুটি ছিলাম তা না, নিয়মিত খবরের কাগজ, গল্পের বই (তখন বলা হতো আউট বই) পড়া ছিল ‘ফর্য্’। শুধু আমার নয়, সব ছেলেপেলেরই। কিন্তু ওই শহরগুলোর কোথাও কোনো নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতনের কথা কোনো দিন শুনিনি। ধর্ষণ তো দূরের কথা।

তবে হ্যাঁ, ১৯৫১ বা ৫২ সালে বগুড়া শহরে একটা ঘটনা ঘটেছিল, যা ক্লাস সিক্স না সেভেনে পড়ুয়া আমার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। বগুড়া শহরের মাঝখানে বিখ্যাত এডওয়ার্ড পার্কের ভেতরে মেরিনা হল বলে একটা সিনেমা হল ছিল। অন্য সিনেমা হলটি, নাম উত্তরা, ছিল আরেকটু উত্তরে থানা রোডে। এডওয়ার্ড পার্কের দক্ষিণ গেটের সঙ্গে লাগোয়া একটি দোকান ছিল। সেই দোকান ও তার মালিকের নাম, চেহারা-সুরত সবই আজও আমার মনে আছে। তিনি বহুকাল আগে গতায়ু হয়েছেন। কিন্তু তাঁর বংশধররা মনে কষ্ট পাবে সে জন্য তাঁর নামধাম-পরিচয় গোপন রাখছি। একদিন সকালে সারা শহরে ঢি ঢি পড়ে গেল, ওই মালিক ভদ্রলোক(?), বয়স অনুমানিক ৩০/৩৫ ও তার আরো দু-তিনজন সঙ্গীসাথী নাকি মেরিনা হলের সেকেন্ড শো, অর্থাৎ রাতের শেষ শো, শেষ হওয়ার পর সিনেমাদর্শক এক গ্রাম্য তরুণী ও তার স্বামীকে ভুজুঙ্গা-ভাজুঙ্গা দিয়ে পার্কের (নাকি ওই দোকানের?) নির্জনতায় নিয়ে গিয়ে স্বামীটিকে পাছমোড়া করে বেঁধে স্ত্রীকে পালাক্রমে...ইত্যাদি। বগুড়া শহরের লোকসংখ্যা তখন কত হবে, বড়জোর হাজার বিশেক। এই ঘটনার কথা ভোর না হতেই বারুদের মতো ছড়িয়ে পড়তে না পড়তে সারা শহর ক্ষোভে-উত্তেজনায় ফেটে পড়ল। আসামিদের ধরতে পুলিশ ওই দিনই আশপাশের সব বাড়িতে তন্ন তন্ন করে খোঁজাখুঁজি শুরু করল এবং দুই-তিন দিনের মধ্যে সেই পালের গোদাসহ সব আসামি ধরা পড়ল। আমার আজও মনে আছে, ওই গ্রাম্য বালার পরিণতি হাল আমলের সাগর-রুনি, ত্বকী বা তানুর মতো হয়নি : মাসকয়েকের মধ্যেই বিচার শেষ হয়ে প্রধান আসামির ২০ বছর ও অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। এরপর আরো প্রায় চার বছর আমরা বগুড়ায় ছিলাম। বিশ্বাস করুন, এ রকম জঘন্য অপরাধের কথা আর শুনিনি। শুধু বগুড়া কেন, পঞ্চাশের দশকে অন্য যেসব শহরে ছিলাম, সেগুলোর কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে শুনিনি।

এই কাহিনীটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো কয়েকটি মেসেজ দেওয়া : ১. সেই ১৯৫০-এর দশকে সমাজ এখনকার মতো ‘যাহাই সহাও তাহাই সয়’ ছিল না, সমাজের চামড়াটা তখনও গণ্ডারের চামড়া হয়ে যায়নি। ২. সমাজ এত ‘পারমিসিভ্’ বা অনুমতিদায়কও হয়ে ওঠেনি। যদি মনে করা হয় বাংলাদেশের মানুষ তখন আনকালচার্ড বা ক্ষ্যাত ছিল, তাহলে নিশ্চয়ই দারুণ ভুল করা হবে। আসলে বাঙালির আবহমানকালের যে কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, নিষ্কলুষ মূল্যবোধ ও চারিত্রিক যে স্বকীয় বাঙালিয়ানা, তা তখনো বজায় ছিল। হয়ত মূল্যবোধের অবক্ষয় তখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল কিন্তু এখনকার মতো তা এত প্রকট ছিল না। ৩. তখন একটি থানায় বড়জোর ১৫/২০ জন পুলিশ কর্মচারী ছিল। জেলা সদর ছাড়া অন্যান্য স্থানে পুলিশের সংখ্যা ছিল আরো কম। কনস্টেবলদের প্রধান ‘অস্ত্র’ ছিল লাঠি। আর তাদের পদবি ছিল ফুট কনস্টেবল। বোধ হয় সব সময়ই পায়ে হেঁটে অপরাধী ধরতে যেতে হতো বলে ওই নাম। তবু তদন্তকার্য চালিয়ে যাওয়া, অভিযোগপত্র দাখিল করা, সাক্ষীসাবুদ হাজির করানো ইত্যাদি কাজে খুব একটা গাফিলতি ছিল না। এর প্রধান কারণ, ওই আমলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ—তা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক যাই হোক না কেন—ছিল না বললেই চলে। ৪. আইনের প্রয়োগের বেলায় অমুককে ধরা যাবে না। কারণ সে অমুক দলের নেতা বা পাতি নেতা কিংবা তমুক নেতার পোলা বা ভাতিজা বা শ্বশুরের খালাতো শালার সমুন্দি—এসব ছিল না। অর্থাৎ ওই আমলটা আমাদের জন্য অন্যান্য সব ব্যাপারেই—যেমন বাঙালিদের প্রতি পশ্চিমাদের বৈষম্যমূলক আচরণ, পূর্ব বাংলার উন্নয়ন হতে না দেওয়া, পূর্ব বাংলাকে শোষণ করা ইত্যাদি—নিঃসন্দেহে খারাপ ছিল, কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগে সচরাচর কোনো ব্যত্যয় ছিল না। ৫. আজকের মতো সমাজ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এত বিভাজিত হয়ে যায়নি। তখনো দেশে বিভিন্ন মত ও আদর্শের রাজনীতি ছিল কিন্তু সেই রাজনীতি থেকে পরস্পরের প্রতি সম্ভ্রমবোধ, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ উধাও হয়ে যায়নি। মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ছিল। সামাজিক বিচার-সালিশ ছিল ও তার ওপর মানুষের আস্থা ছিল, যেমনটি ছিল প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগের ওপর।

২.

এখন সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। পাকিস্তানি শাসকদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা, আর ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভেতর যেখানে যত ‘অযোধ্যা’ ছিল সবগুলি হয়েছে মোটামুটি আধুনিক শহর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আধুনিকায়ন হয়েছে : অস্ত্রশস্ত্র, গাড়ি-বাড়ি, টেলিফোন-ওয়্যারলেস, মোবাইল ফোন, অপরাধী পাকড়াও করার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ইত্যাদি কত কী। আর সেই সঙ্গে ১৯৫১ সালের এক যুগে একটি ধর্ষণের জায়গায় এখন প্রায় রোজই সংঘটিত হচ্ছে নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ইভ টিজিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধ। খবরের কাগজের পাতাভর্তি এসবের গায়ের লোম খাড়া হওয়ার মতো, বিবমিষার উদ্রেক হওয়ার মতো সব খবর। অবিবাহিতা নারীরা—যাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্ত বয়স্কা কিশোরী, স্কুলগামী ছাত্রী—আইনের আশ্রয় বা সামাজিক ন্যায়বিচার না পেয়ে লজ্জায়, অপমানে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। আর সমাজ তার দায়িত্ব পালন করছে কেবল বক্তৃতা-বিবৃতি-সেমিনারের মাধ্যমে। প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসা এই দেশ ভোট এলে শোনে শুধু বড় বড় বুলি।

খুন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি সব ধরনের অপরাধ দমনের জন্য আমরা আমাদের ট্যাক্সের পয়সায় প্রতিপালিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায়িত্ব দিয়েই খালাস। কিন্তু পঞ্চাশের দশকের ৬ বা ৭ কোটি লোকসংখ্যা যে বাড়তে বাড়তে এখন ১৬/১৭ কোটি হয়ে গেছে, ১০/১২ জন লাঠি-কনস্টেবলের জায়গায় ৫/৭ গুণ আধুনিক অস্ত্রধারী প্রশিক্ষিত স্মার্ট পুলিশ দিয়েও যে আর কুলাচ্ছে না, সে কথাটা বোধ হয় আমরা সিরিয়াসলি ভেবে দেখছি না। পুলিশের ওপর দায়িত্ব দেওয়াটা যে এখন প্রায়শই বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো হয়ে পড়ছে সেটাও তো বাস্তব। এমতাবস্থায় কালবিলম্ব না করে এখনো বিদ্যমান অথচ নিষ্ক্রিয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুলিশের পাশাপাশি কিছু কিছু দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হতে হবে। মনে রাখতে হবে, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ—এগুলো হচ্ছে এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি। আর সেই ব্যাধির বড় চিকিৎসক পুলিশ বা প্রশাসন নয়, এমন কি সরকারও নয়—সমাজ। আমাদের হাজার হাজার সামাজিক প্রতিষ্ঠান আছে, যেমন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্লাব, বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সমিতি ও সংগঠন, মসজিদ-মন্দিরের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যারা তাদের নির্দিষ্ট গণ্ডীর বাইরে সমাজের অনাচার-অবিচার দূর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাদের উদ্দীপনামূলক কথায় অনেকেই উদ্বুদ্ধ হতে পারে। একজন শিক্ষক বা মসজিদের ইমাম, একজন সাংস্কৃতিক কর্মী কি তাঁর এলাকায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে পারেন না? জনমতের চেয়ে বড় অস্ত্র আর কী হতে পারে। আর কেউ না হোক ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের কর্মীদের মতো হাজার হাজার তরুণ-তরুণী নিশ্চয়ই এ ধরনের একটি আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমে আসবে। সমাজটা পচে যাচ্ছে বা পচে গেছে ঠিকই, তবু নিশ্চয়ই এখনো অন্যায়কারীদের চেয়ে আইন মান্যকারীদের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। আর অন্যায়কারীরা তো ভীরু, কাপুরুষ। তাকে ভয় পাওয়ার কী আছে? ‘যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে’, এই কথা তো কবিগুরু বলে গেছেন বহুকাল আগে। অতএব? অতএব আর দেরি নয়, আসুন, আমরা এইসব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সময় থাকতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। তবে ডেঙ্গু দূর করার আন্দোলনের মতো ‘ফটোসেশন আন্দোলন’ নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সাম্প্রতিক ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের মতো বজ্র কঠিন আন্দোলন, যা দেখে ধর্ষক ও তার বাপ-দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠী ভয় পায়।

আরেকটা বিশ্বাসের কথা জোর দিয়ে বলতে চাই। আমাদের স্থানীয় সরকার সংগঠনগুলো আর কবে তাদের শৈশবের হামাগুঁড়ি দেওয়া অবস্থা ছেড়ে দুই পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে শিখবে? ধর্ষণের মহামারি ঠেকাতে কি তাদের কোনো সামাজিক দায়িত্ব নেই? যে ভোটারদের কাছে গিয়ে অনেক অলীক স্বপ্নের কথা বলে ভোট নিয়েছেন, যান না তাঁদের কাছে আবার, গিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাঁদের জেগে ওঠার ডাক দিন। দুঃখের বিষয়, স্থানীয় সরকার আজ থেকে দেড় শ বছর আগে যেভাবে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে জন্মেছিল তার থেকে আর কোনো উন্নতি হয়নি। বলা উচিত, উন্নতি হতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার সব সময় মনে করে স্থানীয় সরকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে তাদের সাম্রাজ্য ছোট হয়ে যাবে, ক্ষমতা কমে যাবে মন্ত্রীদের, এমপিদের, আমলাদের। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

৩.

১৪ জানুয়ারি তারিখে জাতীয় সংসদে কয়েকজন মাননীয় সংসদ সদস্য ধর্ষকদের তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে গুলি করে মারার প্রস্তাব দিয়েছেন। শুনে আঁতকে উঠলাম। এতে করে কি বন্দুকযুদ্ধ নামক আইন-কানুন-ন্যায়বিচারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্রদর্শনমূলক সম্পূর্ণ অবৈধ, বেআইনি, মধ্যযুগীয় একটি পন্থাকে বৈধতা দেওয়া হবে না? একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ কি এটা বন্ধ না করে সত্যি বৈধ করতে চায়? নিশ্চয়ই না। তার চেয়ে ‘ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি’ হতে হবে বলে যে দাবি ছাত্র-জনতা তুলেছে, সেটাই দ্রুত মেনে নিয়ে আইনপ্রণেতারা আইন সংশোধন করলে কাজের কাজ হবে বলে মনে করি। ইন্ডিয়া নির্ভয়া-ধর্ষণের পর সেটা করে সাফল্য পেয়েছে, আমরাও পাব নিশ্চয়ই। নিকট-অতীতে এসিড নিক্ষেপকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আমাদের দেশেই ওই বিশেষ অপরাধটির পায়ে বেড়ি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আর সব প্রশ্নের বড় প্রশ্ন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব? এর থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে অপরাধপ্রবণতা, সেটা ধর্ষণজনিতই হোক আর ব্যাংকলুট, শেয়ার মার্কেট লুটই হোক, বৃদ্ধি পেতেই থাকবে—মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

 [email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা