kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনলাইন থেকে

বরিস জনসনের বড় জয়

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কনজারভেটিভ পার্টির জন্য বৃহস্পতিবার রাতটা যতটা অসাধারণ ছিল, ঠিক ততটাই দুর্বিষহ ছিল লেবার ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য। গ্রেট গ্রিমসবাই আসনটি ৭৪ বছর ধরে লেবার পার্টির খাস তালুক। রাত ঘন হতেই জানা গেল, এ দফায় আসনটি টোরিদের দখলে চলে গেছে। এর আগে থেকেই অবশ্য লেবার পার্টির ওই আসনের সদ্য সাবেক এমপি মেলানিয়া অন বলছিলেন, রাজনীতি থেকে একটু বিরতি চান তিনি। অন্তত সাপ্তাহিক ছুটিগুলো যেন তাঁকে দেওয়া হয়। ওই রাতেই তাঁর ছুটি মঞ্জুর হয়ে গেছে!

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পার্লামেন্টের অচলাবস্থা নিরসন এবং ব্রেক্সিট সম্পন্নের জন্য বরিস জনসন আগাম ভোট চাইছিলেন। এখন স্পষ্ট, সারা দেশের ভোটারদেরও তাঁর সঙ্গে সহমত ছিল। ২০১৬ সালের জুনে গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার (ব্রেক্সিট) পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে ভোটাররা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা জনসনের সঙ্গেই আছে। জনসনের দল ৮০ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। খুব সহজ কিছু পদ্ধতি বেছে নিয়ে এগিয়েছেন তিনি। সহজ স্লোগান, সহজ নির্বাচনী ইশতেহার (যা মানুষ শুনবে এবং ভুলে যাবে) এবং সর্বোপরি যতটা সম্ভব গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা। পত্রিকা বা টেলিভিশনে জনসনের সাক্ষাৎকারও খুব একটা দেখা যায়নি। 

লেবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকা এবার কনজারভেটিভ দলের দখলে এসেছে। ব্রেক্সিটবিরোধীদের ভোট ভাগ হয়ে যায় লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। এই আগাম নির্বাচন আয়োজনের অন্যমত প্রধান মুখ ছিলেন লিব ডেম নেতা জো সুইনসন। বৃহস্পতিবার রাতটি তাঁর জন্য ছিল বিপর্যয়কর। তাঁরা লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্বে কয়েকটি আসন পেলেও বাকি সব জায়গায় ধরাশায়ী হয়েছেন। সুইনসন নিজেও তাঁর স্কটিশ আসনটি স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির কাছে হারিয়েছেন। 

লেবার পার্টির এভাবে ধরাশায়ী হওয়ার বিষয়টিও বিস্ময়কর। ১৩ ডিসেম্বর ভোর হতে হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, লেবার পার্টি ২০০-এর কিছু বেশি আসন পেতে যাচ্ছে। ১৯৩৫ সালের পর এত বাজে ফলাফল লেবার পার্টির আর হয়নি। স্কটল্যান্ডের কোথাও লেবার দলের কোনো চিহ্ন নেই। নর্থ ওয়েলস থেকে ইয়র্কশায়ার পর্যন্ত তাদের অবস্থা নৈরাশ্যজনক। যদিও কয়েক দশক ধরে এর বেশির ভাগ আসনই লেবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওয়েলসের রেক্সাম থেকে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের উলভারহাম্পটন, ইস্ট মিডল্যান্ডের অ্যাশফিল্ড থেকে গ্রিমসবে—বৃহস্পতিবার সারা রাতে সব লাল বিন্দু  (লেবার পার্টি) ক্রমেই নীল (কনজারভেটিভ পার্টি) হয়ে গেছে। টোরিরা স্বপ্নেও হয়তো এই সব আসনে জেতার কথা ভাবেনি কখনো।

লেবারের জ্যেষ্ঠ নেতারা এর জন্য ব্রেক্সিটকে দায়ী করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দলের দ্বিমুখী অবস্থানের কথাও বলেছেন তাঁরা। লেবার পার্টি কখনোই ব্রেক্সিট গ্রহণ বা বর্জনের কথা স্পষ্ট করে বলেনি। টোরিদের সাফল্যের অন্যতম কারণ নিঃসন্দেহে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি। তবে শুধু এই একটি কারণেই যে লেবার পার্টি পরাস্ত হয়েছে বিষয়টি তেমন নয়। লেবার প্রার্থীদের মতে, দলের বহু সমর্থকই নেতা হিসেবে জেরেমি করবিনকে খুব একটা পছন্দ করেন না। অতি বামপন্থী ইশতেহারই এর একমাত্র কারণ নয়।

এই জয়ের পর জনসন খুব সহজেই তাঁর আনা ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করিয়ে নিয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন। অনেকেই মনে করেন, বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে জনসন হয়তো ইইউর সঙ্গে দুর্বল বাণিজ্য চুক্তি করেও পার্লামেন্টে পাস করিয়ে নিতে পারবেন। তিনি হয়তো আরো সংরক্ষণবাদী ও অভিবাসন উদাসী হয়ে উঠবেন।

জনসনের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সব সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি টানার প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এত কম সময়ের মধ্যে সমন্বিত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এ ধরনের চুক্তিতে কয়েক মাস নয়, কয়েক বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজেই বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য জনসনকে ইইউর কাছ থেকে সময় চাইতে হবে। নয়তো রপ্তানিসহ বাণিজ্যে বিপর্যয় দেখা দেবে।

জনসনের এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে করবিনের অতি বামপন্থী নীতি নিয়ে ভীতি ছিল। তবে জনসন ইইউর সঙ্গে খুব ভালো দর-কষাকষি করতে পারবেন—এতটা আশা করাও বোধ হয় বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা