kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

অনলাইন থেকে

ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়ার ধারা

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারা প্রকাশ করেছেন বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট তাঁর দপ্তরের ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠার পর এ পদক্ষেপ নিল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে অভিশংসনের দুটি ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়া। এই ধারা দুটি ঘোষণা করেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিচারবিভাগীয় কমিটির প্রধান জেরি নাডলার। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, গোয়েন্দা কমিটির প্রধান অ্যাডাম স্কিফ এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্য নেতারা।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তিনি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা হিসেবে প্রদেয় ৪০ কোটি ডলার আটকে দেন বলেও জানা যায়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া নয়; বরং ইউক্রেন হস্তক্ষেপ করেছিল বলেও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়গুলো প্রকাশ পাওয়ায় তিন মাস ধরে তদন্ত চালায় হাউসের গোয়েন্দা এবং বিচারবিভাগীয় কমিটি। এর পরই অভিশংসনের ধারা দুটি প্রকাশ করা হলো।

ডেমোক্র্যাটরা চারটি ধারা নিয়ে কাজ করছিল। বাকি দুটি হচ্ছে বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুলার যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে কাজ করছিলেন তখন তাঁর কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক।

অভিশংসনের উপস্থাপিত ধারাগুলোতে ট্রাম্পের ইউক্রেন কেলেঙ্কারির বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে নাডলার দাবি করেন, এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের আচরণ ‘ধরন’ সম্পর্কেও একটি ধারণা পাওয়া যাবে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম ধারায় বলা হয়, ট্রাম্প ‘প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা যেভাবে ব্যবহার করেছেন তাতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাহ্য করেছেন, আহত করেছেন। এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিশংসন ও বিচারের মুখে পড়তে যাচ্ছেন, তাঁকে দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অধীনে সম্মান, আস্থা ও লাভজনক কোনো দপ্তরে প্রবেশের যোগ্যতা হারিয়েছেন।’

দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়, ‘রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে এর আগে আর কেউ অভিশংসনের তদন্ত বা নিজের আচরণ নিয়ে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে চলমান তদন্তে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দেননি।’

এই পদক্ষেপের অর্থ হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ ট্রাম্প অভিশংসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। এর আগে ১৮৬৮ সালে অ্যান্ড্রু জনসন এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও বেঁচে যান। ১৯৯৯ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকেও পদ ছাড়তে হয়নি। আর ১৯৭৪ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিশংসিত হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।

যে ধারা দুটি প্রকাশ করা হয়েছে, তার ওপর ভোটাভুটি হবে প্রথমে হাউসের বিচারবিভাগীয় কমিটিতে, তারপর পূর্ণ হাউসে। নিম্নকক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে, কাজেই এখানে সহজেই প্রস্তাব পাস হয়ে যাবে। জানুয়ারিতে বিচার শুরু করতে বাধ্য হবে উচ্চকক্ষ সিনেট। এর নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। ফলে ট্রাম্প অভিযুক্ত হয়ে পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন—এমনটি হয়তো হবে না।  

রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কমিটির প্রধান ইলিয়ক অ্যাঙ্গেল বলেন, মুলারের তদন্ত থেকে কোনো তথ্য নেননি ডেমোক্র্যাটরা। তাঁরা মনে করছেন, যে দুটি ধারা তাঁরা প্রকাশ করেছেন সে দুটিই যথেষ্ট হবে।

এই তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপারে কর্মকর্তাদের ওপর বিধি-নিষেধ জারি করে হোয়াইট হাউস। এ ব্যাপারে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ওঠে। বলা হয়, অপেক্ষা করে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদেরও সাক্ষ্য নেওয়া হোক। চিফ অব স্টাফ মিক মালভানি ও সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সাক্ষ্য এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ব্যাপারে স্কিফ বলেন, আদালতে আপিল প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির। এ ক্ষেত্রে অপেক্ষা করলে আমাদের পরবর্তী নির্বাচন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। তিনি আরো বলেন, ‘কেন অপেক্ষা করলাম না? এটা শুনতে অনেকটা এমন লাগে যে কেন তাঁকে নির্বাচনে আরো জালিয়াতি করার সুযোগ দিলাম না? কেন তাঁকে আরেকবার বিদেশি সাহায্য নিতে দিলাম না?’ নাডলার বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) সংবিধান, আমাদের গণতন্ত্র ও দেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। ট্রাম্প মানুষের বিশ্বাস ভেঙেছেন।’

 

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা