kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রগতিশীলদের ঐক্য রুখতে পারে টোরিদের

পলি টয়েনবি

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রগতিশীলদের ঐক্য রুখতে পারে টোরিদের

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছে। লেবাররা এগিয়ে যাচ্ছে উৎকণ্ঠার নির্বাচনের দিকে। কিন্তু তারা কি টোরিদের ঠেকাতে পারবে? একটা বিষয় নিশ্চিত, লেবাররা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ১২ ডিসেম্বর তারা যদি জেতে, তবে তারা বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে।

যেটা ঘটার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি সেটা হলো কনজারভেটিভদের নীল পতাকার জয়জয়কার। তেমনটা ঘটলে বলা যায়, ব্রেক্সিটটা নিশ্চিত হয়ে গেল আর বরিস জনসন যেন মুক্ত আকাশের পাখি হয়ে গেল। স্বাস্থ্য, খাদ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা—সব কিছু বিপদাপন্ন হবে। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে বলাই আছে, মানবাধিকার প্রশ্নে আমরা ইউরোপীয় নীতিমালার আওতার বাইরে চলে যাব। সেই সঙ্গে নিজের লোকরঞ্জনবাদী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আরো বাধাহীন হবে জনসনের পথ।

ইউরোপের সভ্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে ব্রিটেন ডানপন্থী স্বৈরাচারীদের দলে যোগ দেবে—এ যেন এক দুঃস্বপ্ন। জনসন সত্যটা আবিষ্কার করে ফেলেছেন। তিনি জানেন, নিয়ম-কানুন সবই সাধারণ মানুষের জন্য। তিনি বুঝে ফেলেছেন, লেবারদের ভোটগুলো বাগিয়ে নিতে পারলে এরপর তাঁর শাসন ঠেকানোর মতো কোনো শক্তি প্রমিত উচ্চারণে কথা বলা ফুলবাবুদের নেই। চ্যানেল-৪-এর লাইসেন্স পর্যালোচনার ঘটনার কথাই ভেবে দেখুন। ওই চ্যানেল আয়োজিত বিতর্কে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিলেন জনসন। সে সময় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাঁর জায়গায় বরফের তৈরি পৃথিবীর ভাস্কর্য বসিয়ে দেয়। তাতে রেগে গিয়ে জনসন ওই চ্যানেলের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন, যদিও শেষমেশ ওই হুমকি বাস্তবে পরিণত হয়নি।

এ অবস্থায় একটামাত্র বিকল্প আছে। সেই বিকল্পটা কিন্তু ভালোই। চরম বিভক্ত এ দেশে এমন এক পার্লামেন্ট দরকার, যাতে এ দেশের প্রতিফলন ঘটবে এবং কনজারভেটিভদের রুখে দেবে। একমাত্র সমাধান হলো পার্লামেন্টে প্রগতিশীলদের সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া। অন্য কোনো রাস্তায় সমাধান সম্ভব নয়।

কার ঝুলিতে কত ভোট পড়বে, সেটা আরেক মাথাব্যথার বিষয়। জনসন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন না। জনগণের বড় একটা অংশ জেরেমি করবিনকে ভোট দেবে, তেমনটাও হবে না। সে ক্ষেত্রে লেবার, লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি), গ্রিন ও প্লাইড সাইম্রু মিলে একটা সুষ্ঠু সরকার গঠন করতে পারে, সেই সরকারকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন। এমন একটা সরকার গঠনের পর বিভিন্ন ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

প্রশ্ন হলো, লেবাররা কি আসলেই কনজারভেটিভদের ঠেকাতে পারবে? এ ব্যাপারে নির্বাচনী জরিপ ততটা নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারে না। কিন্তু আমরা যারা বাসের জন্য লাইন দেওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলি কিংবা পাবে, স্কুলের গেটে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলি, তাদের কাছে সত্যটা বেশ খোলাসা। চোখ-কান খোলা রাখলেই আপনি আভাস পেয়ে যাবেন।

আমি সেই ওয়েকফিল্ডে লোকজনের কথা শুনতে গিয়েছিলাম, যেখানে ৬৩ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এখনো যদি সেখানকার মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষেই অবস্থান করে থাকে এবং সেখানকার লেবার নেতা মেরি ক্রিগকে ভোট না দেয়, তবে ক্রিগের ১৪ বছরের রাজত্ব ধসে পড়বে, যদিও পরিবেশসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে তিনি কাজ করেছেন।

২০১৬ সালে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিলেও এখন আফসোস করছেন লেবার সমর্থক ব্রেন্ডা ট্রেনাম। তাঁর ধারণা, ব্রেক্সিট তাঁর সন্তানদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। আর লেবারদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকলেও তিনি এখন শঙ্কিত। তিনি কর্মস্থল থেকে অবসর নিতে চান; কিন্তু তাঁর পেনশন ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন কী করবেন, তা ঠিক করে উঠতে পারছেন না। এবারের নির্বাচনে জিতে লেবাররা ক্ষমতায় এলে তাঁর পেনশন ফিরিয়ে দিতে পারবে কি না, সেটাই এখন তাঁর বড় চিন্তা। এদিকে ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে তাঁর স্বামী এখন কনজারভেটিভদের সমর্থন দিচ্ছেন। স্বামীর টোরিপন্থী অবস্থানের কথা জেনে ভীষণ বিস্মিত হয়েছেন ট্রেনাম।

সব মতামত ছাপিয়ে বর্তমান সরকারের একাংশ ব্রেক্সিট কার্যকরের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে খুব কম লোকের সমর্থন আছে। এ চেষ্টার ফলে রাজনীতিতে ভাঙন ধরবে, তা আমাদের অজানা নয়। সেই ভাঙন ঠেকাতে যুক্তিবাদী প্রগতিশীলদের মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ সেই অংশের উচিত হবে ব্রেক্সিট সিদ্ধান্ত ভোটারদের হাতে ছেড়ে দেওয়া।

 

লেখক : গার্ডিয়ানের কলাম লেখক

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : শামসুন নাহার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা