kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বরিস জনসন জনগণের রায়ে প্রধানমন্ত্রী নন

হানাহ জেন পারকিনসন

২৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বরিস জনসন জনগণের রায়ে প্রধানমন্ত্রী নন

আমরা শেষ পর্যন্ত এখানে এসে পৌঁছলাম! খুব সহজেই লোকটাকে বাতিল করে দেওয়া যেতে পারত। কিন্তু এই অদ্ভুত চরিত্রের মানুষটি এখন দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। এই লোকটির ডিএনএ প্রফাইল হুবহু বার্নার্ড মানিঙের (ব্রিটিশ কৌতুক অভিনেতা) কৌতুকের মতো। যে ২০টি নির্বাচনী জনসভায় বরিস জনসন অংশ নিয়েছেন তার প্রতিটিতেই মানিঙের কথা বলেছেন তিনি। অন্তত ৩০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করেছেন এই ব্যক্তির পিছে।

জনসন পরিবারের অন্তত আট হাজার সদস্য এবং জেরেমি হান্ট ও পুরো বিশ্বের সামনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হিসেবে বরিস জনসনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তাঁর নামটিই শোনা যায়। পুরো দেশের মাত্র ২ শতাংশ ভোটারের রায়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। একে আমরা কোনোভাবেই জনগণের রায় বলে অভিহিত করতে পারি না।

বিষয়টি বেশ অন্য রকম, তাই না? যখন দেশের নতুন নেতা তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে এ কথা বলেন যে ‘এখানে হয়তো এমন বহু লোকই আছেন, যাঁরা হতবাক হয়ে ভাবছেন, কী কাজটি করেছেন তাঁরা?’ অর্থাৎ উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই এ সত্য নিশ্চিতভাবে অনুভব করছেন যে তাঁরা যাঁকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচন করলেন তিনি তাঁদের অনেকেরই পছন্দনীয় নেতা নন।

উদ্বোধনী ভাষণে তিনি দর্শকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি ভীত?’ জবাবটাও তিনি নিজেই দিয়ে দেন, ‘আপনারা আমাকে ভয় পান—এমনটা মোটেই মনে হচ্ছে না।’ তাঁর প্রশ্ন ও জবাব দুটিই যেন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে। একটি মাত্র কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ‘না!’ এই আওয়াজটি সম্ভবত ম্যাট হ্যানকুকের (কনজারভেটিভ দলের সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী)। ডাইসনের (ব্রিটিশ ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা কমিটি) ক্ষমতা শুষে নিচ্ছেন তিনি। বাকি অনেকের চেহারাই প্রথম এলিজাবেথের মতো ফ্যাকাসে।  

জনসনের বক্তব্যে কোনো বক্রোক্তি ছিল না। বক্তব্য রাখার একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডেলিভার্ট, ইউনাইট, ডিফিট’ (প্রদান করো, ঐক্যবদ্ধ হও, পরাজিত করো) স্লোগান হিসেবে হয়তো সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সফল নয়, তবে এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ডিইউডি বা ডুড। এই সংক্ষিপ্ত রূপটি জনসনের বেশ পছন্দ। এর সঙ্গে বাড়তি আরেকটি ইংরেজি অক্ষর ‘ই’ যোগ করে নিয়েছেন তিনি। যার অর্থ এনার্জি বা উদ্দীপ্ত করা। প্রচারের সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ডুড, আমরা আমাদের দেশকে উদ্দীপ্ত করব।’

আমি ভাবছিলাম, জনসনের জন্য অন্য স্লোগানও বেশ জুতসই হতো। ‘কম্পমান, নির্বোধ, ক্লাউন, গৃহহীন’—এই শব্দগুলো দিয়েও তাঁর স্লোগান তৈরি করা যেত। যার সংক্ষিপ্ত রূপ হতো ‘ডিআইই’ বা ডাই। অর্থাৎ মৃত্যু। আপনারা কি লক্ষ করেছেন? হাততালি দেওয়ার জন্য দুই হাতের মধ্যে যে বোঝাপড়া লাগে তাও জনসনের নেই? পুরো ইউরোপীয় ব্লকের সঙ্গে তিনি কী করে বোঝাপড়া করবেন? 

আমি সত্যি জানি না, কী বলতে হবে। একটা লোক অনর্গল মিথ্যা কথা বলেন। তিনি কী করে দেশের সর্বোচ্চ আসনে গিয়ে বসবেন? আমি বুঝতে পারি না, এমন একজন যিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর হুমকি দেন, তিনি কী করে ওই আসনে গিয়ে বসেন? আমি বুঝতে পারি না, যে ব্যক্তি দুবার নিজের দম্ভের কারণে বরখাস্ত হয়েছিলেন তাঁকে কী করে প্রধানমন্ত্রী বানানো যায়? আমি কোনোভাবেই বুঝি না, যে ব্যক্তির সারা জীবনের একমাত্র কাজ ছিল পাঁচমিশালি পণ্য বেচা, তিনি কী করে এ পদে আসীন হতে পারেন? বর্ণবাদী, সর্বৈব মিথ্যুক এই ব্যক্তি দেশের সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদে বসতে যাচ্ছেন।

লন্ডনের তাপমাত্রা এখন ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মানুষ কাঁদছে না ঘামছে তা আপনার জানার কথা নয়। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত কথা বলার সুযোগ না পাব ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের করারও কিছু নেই। এবার আমরা কথা বলার সুযোগ পাইনি। কাজেই সূর্যের শপথ করে বলছি, এই অশান্তির নরকে আবার আমরা ফিরে আসব। 

লেখক : গার্ডিয়ানের কলামিস্ট

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা