kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

ভেনিজুয়েলায় কী চায় যুক্তরাষ্ট্র?

স্টিফেন ল্যান্ডম্যান

৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ফেলার চেষ্টা করছে সেই ২০০২ সাল থেকে। তবে এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেনি তারা। দেশটি প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তবে ক্ষীণ হলেও ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কা একেবারে বাতিল করে দেওয়া যায় না।

যুক্তরাজ্যের সাবেক এমপি জর্জ গ্যালোওয়ে মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি সত্যিই ভেনিজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায়, তাহলে ভিয়েতনামের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। অন্তহীন গেরিলা যুদ্ধ শুরু হবে। কোটি কোটি ভেনিজুয়েলাবাসী তাদের দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এই সংগ্রামে জড়িয়ে পড়বে। এসংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে (গেরিলা প্রশিক্ষণ) স্থায়ী করতে ভেনিজুয়েলায় বিশেষ আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশজুড়ে স্বাধীনতা রক্ষায় প্রায় ৫০ লাখ ভেনিজুয়েলান প্রস্তুত রয়েছে।’ ফলে সামরিকভাবে হামলা চালালেও ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরও ব্যর্থতাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়তি।

তবে সামরিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কম সংকটপূর্ণ নয়। কারণ তাদের সামরিক ব্যয় লাফিয়ে বাড়ছে। তবে তার পরও তাদের নিজের তৈরি করা শত্রুদের সঙ্গে লড়াই করার আগ্রহ যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে দেশটির সব দলই একাট্টা। তাদের সিদ্ধান্তে কোনো হেরফের নেই।

এখন পর্যন্ত ভেনিজুয়েলায় হামলা চালানোর যে তৎপরতাগুলো যুক্তরাষ্ট্র চালিয়েছে সেগুলো হচ্ছে—২০০২ সালের এপ্রিলে হুগো শাভেজকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করে তারা। সে দফায় সামরিক বাহিনীর সমর্থন অর্জনে ব্যর্থতা এবং গণ-আন্দোলনের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। ওই সময় থেকে পরের বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মদদে সাধারণ ধর্মঘট চলে। তেলক্ষেত্রগুলোতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশটি। কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৪ সালের গণভোটে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হন শাভেজ। ভেনিজুয়েলার ওপর বুশ বা চেনি প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ২০০৬ সালে। তাঁদের অভিযোগ ছিল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে কারাকাস তাদের সমর্থন দিচ্ছে না।  এই সংকট ওবামার আমলেও অভিন্নরূপে বজায় ছিল। তবে ট্রাম্পের কট্টরপন্থী প্রশাসনের আমলে তা চরম অবস্থায় চলে আসে। তারা ভেনিজুয়েলার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অর্থবাজারে তাদের প্রবেশের ওপর প্রতিবন্ধকতা জারির চেষ্টার পাশাপাশি তেলের উৎপাদনও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।

ওবামার আমলে শাভেজকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বিষ প্রয়োগ অথবা তাঁর শরীরে ক্যান্সারের জীবাণু প্রবেশের চেষ্টা করার মাধ্যমে। তাঁকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হলেও তাঁর প্রশাসনের পুরোপুরি মূলোৎপাটন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এবার অন্যভাবে চেষ্টা শুরু করে তারা। ২০১৫ সালে এক নির্বাহী আদেশে ওবামা ভেনিজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভয়াবহ হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। অস্তিত্বহীন এক হুমকির বিরুদ্ধে তারা রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করে। ট্রাম্প আসার পর তো ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর জানুয়ারি থেকে প্রচারণা, অর্থনৈতিক সংকট এমনকি দেশটির বিদ্যুৎ খাতেও হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এতেই থেমে যাবে না। আবার চেষ্টা করবে। এবার হয়তো ছায়াযুদ্ধ শুরু করবে তারা। এ কাজে ব্যবহার করা হবে আঞ্চলিক কোনো শক্তি বা আইএসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে। কিন্তু তাতে কী যুক্তরাষ্ট্র সফল হবে। কিউবার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করছে ৬০ বছর ধরে। ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ বছর এবং ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে ২০ বছর ধরে। সাফল্য আসেনি। 

তবে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে তার সঙ্গে কারাকাসের বন্ধু চীন ও রাশিয়ার ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভেনিজুয়েলার ওপর হামলায় তাদের সম্মতি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সফল হবে না। আবার যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভেনিজুয়েলার ওপর সামরিক হামলা চালাতে পারে। যদিও সে আশঙ্কা কম।  তবে সে ক্ষেত্রেও ব্রাজিল-কলম্বিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে তাদের। কারণ সে ক্ষেত্রে পুরো অঞ্চলে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে।

ইরানের ক্ষেত্রেও ক্ষমতাসীন প্রশাসনকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের তেল বেচা বন্ধ করে দিতে চায় ওয়াশিংটন। সে ক্ষেত্রে অবশ্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে তেহরান। রোজ এক কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে পার হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়, সামরিক হামলা চালানোর কথা ভাববে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন ভেনিজুয়েলা ও ইরানের মতো দেশগুলো মার্কিন রোষানলে পড়েছে? জবাব একটাই—তাদের সুবিশাল তেলের মজুদ নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র : গ্লোবাল সার্চ

লেখক : শিকাগোভিত্তিক লেখক

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ



সাতদিনের সেরা