kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

পিতার হেদায়েতের জন্য ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিতার হেদায়েতের জন্য ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া

৪৬. সে [ইবরাহিম (আ.)-এর পিতা] জবাব দিল, হে ইবরাহিম, তুমি কি আমার দেব-দেবী থেকে বিমুখ? যদি তুমি নিবৃত্ত না হও, তাহলে আমি পাথরের আঘাতে তোমাকে শেষ করে দেব। তুমি চিরদিনের জন্য আমার কাছ থেকে চলে যাও।

৪৭. সে [ইবরাহিম (আ.)] বলল, আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আমার রবের কাছে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪৬-৪৭)।

তাফসির : ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতাকে শিরক ও মূর্তি পূজা ত্যাগ করতে বলেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছিলেন; কিন্তু তাঁর পিতা ছিলেন মুশরিক। তিনি ইবরাহিম (আ.)-এর দাওয়াত গ্রহণ করার পরিবর্তে কঠোরভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। আলোচ্য দুই আয়াতে তাঁর পিতার প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করা হয়েছে। ইবরাহিম (আ.)-এর পিতা তাঁর কথা ও যুক্তি না শুনে ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে কঠোর আচরণ করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে ‘আমি তোমার ধর্ম তো গ্রহণ করবই না; বরং তুমি আমার কাছ থেকে দূরে চলে যাও। আর যদি আমার কাছে থেকে যাও, তাহলে আমি তোমাকে কঠিনতম প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করব।’ কিন্তু ইবরাহিম (আ.) অন্যায়ের বিপরীতে অন্যায় পক্ষে অবস্থান নেননি। তিনি বরং ভালোবাসা ও নম্রতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে আমার যুদ্ধ ও বিবাদ নেই; বরং আমি আপনাকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছি। এর পরও আপনি সত্যের পথে আসছেন না; কিন্তু আমি আপনার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেব না; বরং আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করব, তিনি যেন আপনাকে মাফ করেন। আল্লাহ আপনাকে ধ্বংস করে দিক, এমন কোনো প্রার্থনা আমি করব না।’ এভাবেই ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতার জন্য হেদায়েতের দোয়া করতে থাকেন। ইবরাহিম (আ.)-এর জানা ছিল না যে তাঁর পিতা জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কুফরের ওপর অবিচল থাকবেন এবং কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবেন। তাই তিনি তাঁর পিতাকে বলেছিলেন, ‘আপনার জন্য আমি আমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব...।’

পরে দেখা গেল, তাঁর পিতা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তখন তিনি তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করাও বন্ধ করে দেন। ইবরাহিম (আ.)-এর বিশ্বাস ছিল, মহান আল্লাহ ক্ষমাকারী। তাই হয়তো তিনি তাঁর পিতাকে ক্ষমা করে দেবেন। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘ইবরাহিম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল শুধু ওই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা সে তার পিতার সঙ্গে করেছিল। তারপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে সে আল্লাহর শত্রু, তখন সে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। নিশ্চয়ই ইবরাহিম বড় কোমল হৃদয় ও সহনশীল।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৪)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা