kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

চীনে দুই অধিবেশনে অসংখ্য সমন্বয়

অনলাইন থেকে

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীনের আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের অধিবেশন বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে। তাদের অধিবেশন পশ্চিমা দেশগুলোর মতো নয়। দুই দফা অধিবেশন বসে। এ সময়ই স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণের সমতুল্য ভাষণ দেন চীনের উপদেষ্টা কমিটি পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী লি কেপিয়াঙের প্রতিবেদনে স্বীকার করে নেওয়া হয়, বেইজিংয়ের সামনে ‘গভীর ও আরো জটিল’ ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে ‘পূর্বানুমান করা যায় এবং পূর্বানুমান সম্ভব নয়’ এমন চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনের ইতি টানা হয় এ কথা বলে যে চীনকে অবশ্যই ২০১৯ সালে ‘কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এটা নিশ্চিতভাবেই বাস্তবভিত্তিক রাজনীতি।

বৈশ্বিক পুঁজিবাদ বাড়ছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ থেকে ৬.৫০ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য সহজ কিছু নয়। বিশেষ করে যখন অনেকেই সন্দিহান যে চীন ‘স্থবির হয়ে পড়েছে’ অথবা গুরুতর সংকটের মধ্যে রয়েছে। এবার জিডিপি ঘাটতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২.৮ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় (২.৬ শতাংশ) সামান্য বেশি। তবে এত বড় অর্থনীতির জন্য বিষয়টি কোনো সমস্যা না। সবচেয়ে বড় বিস্ময়টি হচ্ছে, ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ নামে যে লক্ষ্যটি নির্ধারণ করা হয়েছিল তা সরকারি প্রতিবেদন থেকে বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে। তবে কিছু নীতি একই জায়গায় রয়েছে। নির্মাতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী করদাতাদের কর কমানো হয়েছে। লি বিষয়টিকে সংজ্ঞায়িত করেন এভাবে—শিল্প উন্নয়ন থেকে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনসহ ‘একটি শক্তিশালী নির্মাতা দেশের প্রতিষ্ঠা করতে চাই আমরা।’

জানা গেছে, ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি উচ্চবাচ্য করতে চায় না চীন। চীনারা সফট পাওয়ার প্রযুক্তি খুব দ্রুত শিখে নিচ্ছে। বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য কিন্তু একই জায়গায় রয়ে গেছে—দারিদ্র্যসীমা থেকে তাদের তুলে আনতে হবে। মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ করার নির্ধারিত সময় আগামী দশক। তবে আগেই আগামী বছরের মধ্যেই তারা এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়। এর মধ্য দিয়েই তারা ‘উদার সমৃদ্ধ সমাজ’ মর্যাদায় পৌঁছাতে চায়। যেকোনো দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এটা একটা দুর্দান্ত অর্জন হতে যাচ্ছে।

চীনে কী করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা পশ্চিমাদের পক্ষে বোঝা অনেকটাই অসম্ভব। প্রথমত তারা পরামর্শ করে। তারপর কৌশলগত ঐকমত্যে পৌঁছে। এর চূড়ান্ত ফলাফলই বার্ষিক বৈঠকে জানানো হয়। পরে এটিই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সিল্ক রোড বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) আগামী ২০৪৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চায় চীন। প্রকল্পটি এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে। আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি।

সমান্তরালভাবে ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটাই লির প্রতিবেদন অনুসারে কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি। এখানেই দেং শিয়াওপিংয়ের (চীনের সাবেক নেতা) চ্যালেঞ্জটি নিহিত রয়েছে। তিনি চীনের গণতন্ত্রকে পশ্চিমা গণতন্ত্রের তুলনায় কাদা মল্লযুদ্ধ করার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি একে চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। তবে সত্যিকার অর্থেই যদি বিষয়টি চীনের জন্য কার্যকর হয়, তাহলে একে ভালোই বলতে হবে। চীনের নীতি হচ্ছে ‘শান্তভাবে নিজের কাজ চালিয়ে যাও।’

অ্যান্ডি রোথম্যানের মতো চীনের খোঁজখবর রাখেন—এমন বহু বিশ্লেষকই মনে করেন, ‘চীন খুব শিগগির পিছিয়ে পড়বে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এখন ভোগবাদ বাড়ছে, রপ্তানির ওপর নির্ভরশীলতা কমছে। রাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রাধান্যও কমে এসেছে। কারণ সরকারের দৃষ্টি এখন বহির্মুখী। এতে বিআরআইয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। চীনের কৌশলে পশ্চিমাদের প্রভাব পড়ছে। অনেকটা এই কৌশল নিয়েই বেইজিং সুবিশাল যোগাযোগযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের ক্লগ সেন্টারের ইউএস-চায়না সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সভাপতি মিনসিন পাই মনে করেন, বিআরআই একধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করেছে।

নিককেই এশিয়ান রিভিউতে লেখা এক নিবন্ধে পাই বলেন, ‘চীনের পেনশনভোগীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সেটা দিয়ে দূরে কোথাও রাস্তা নির্মাণের মধ্যেই বিষয়টি আবদ্ধ নেই।’ এখানে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘মেড ইন চায়না’ স্লোগানে বিআরআইকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি থেকে যাচ্ছে।

বিআরআইয়ের মাধ্যমে বেইজিং মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশীদের জন্য অনন্য এক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে শিল্প ও কৃষি এবং সংকর অর্থনৈতিক মডেল তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করা সম্ভব। এ কারণেই বেইজিং বিআরআই প্রকল্প মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ভেতর দিয়ে সম্প্রসারণে আগ্রহী।

 

সূত্র: এশিয়া টাইমস

ভাষান্তর: তামান্না মিনহাজ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা