kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অস্কারও নিশ্চয় আমার পারফরম্যান্সে খুশি

পিয়াস আহমেদ নোভা এত দিন বসুন্ধরা কিংসের স্কোয়াডে থাকলেও এই তরুণ পরিচিত হলেন অনূধ্বর্-২০ সাফে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জোড়া গোলসহ তিন গোল করেছেন টুর্নামেন্টে। তবে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপেই পুড়ছেন এখনো। সেসব নিয়েই কথা বলেছেন তিনি কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের সঙ্গে।

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্কারও নিশ্চয় আমার পারফরম্যান্সে খুশি

এই টুর্নামেন্টের আগে অস্কারও (বসুন্ধরা কিংসের কোচ ব্রুজোন) বলেছিলেন, আমি এখানে কেমন করি তাতে উনার নজর থাকবে। আশা করি, অস্কার আমার এই পারফরম্যান্সে খুশিই হয়েছেন।

প্রশ্ন : ফাইনালে হার সবারই হৃদয় ভেঙেছে, ম্যাচ শেষে আপনারাও খুব ভেঙে পড়েছিলেন দেখলাম...

পিয়াস আহমেদ নোভা : অনেক কষ্ট পেয়েছি। যেহেতু দেশের জন্য খেলা। আমার দেশ হেরেছে। যদিও ওই কান্নাকাটি বা আবেগে ভেসে লাভ নেই।

বিজ্ঞাপন

কেউ তো আর ট্রফিটা এনে দিয়ে যাবে না আমাদের। তার পরও সবাই মুষড়ে পড়েছিল। কারণ পুরো টুর্নামেন্টে আমরা এই একটা ম্যাচই হেরেছি। আর তাতে আমাদের স্বপ্নটা ভাঙচুর হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : যদিও দেশ ছাড়ার আগে আপনারা ফাইনালের লক্ষ্যের কথাই বলে গিয়েছিলেন, পরে প্রত্যাশাটা বেড়ে যায়...

পিয়াস : আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল চ্যাম্পিয়ন হব। ভারত শক্ত দল, আমরাও শক্ত দল। দুই পক্ষই জিততে চেয়েছে। তবে এটাও জানতাম ভারতের মাটিতে অনেক কিছুই আমাদের পক্ষে থাকবে না। প্রথম মিনিটে যে পেনাল্টিটা দিয়েছে রেফারি, সেটা আসলে পেনাল্টি ছিল না। ওদের ফরোয়ার্ড গুরকিরাতই পরে বলেছে, ওটা পেনাল্টি ছিল না। কিন্তু কিছু করার নেই। ম্যাচে একটু কিছু হলেই রেফারি আমাদের সতর্ক করেছেন, ওরা ছাড় পেয়েছে। ফলে আমাদের ওপর একটা মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে একটা পর্যায়ে আমরা জেতার পথেই ছিলাম। অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণভাগের একটু ভুল-বোঝাবুঝিতে গোলগুলো হজম করতে হয়েছে।

প্রশ্ন : তারপরও সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্ট দিয়ে এই দলটা পরিচিতি পেয়েছে, স্ট্রাইকার হিসেবে আপনার নামটাও জেনেছে সবাই। কেমন লাগছে?

পিয়াস : ফাইনালের পর হোটেলে ফিরে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি সবার একটাই মেসেজ যে, ‘আমাদের শিরোপার দরকার নেই, তোমরা ভালো খেলেছ, এটাই বড় পাওয়া। ’ তাতে আমারও মনে হয়, এই টুর্নামেন্টে আমরা খুব খারাপ করিনি। ভালো ফুটবলই খেলেছি। সে কারণেই সবাই এভাবে বলছে।

প্রশ্ন : ব্যক্তিগততভাবে এই টুর্নামেন্ট আপনার ক্যারিয়ারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে?

পিয়াস : অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। এখানে প্রতিটি ম্যাচ আমি দেখেশুনে খেলতে পেরেছি, গোলও পেয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমি এখন ক্লাবেও একটা ভালো অবস্থানে থাকব। সামনে আরো খেলা আছে, এএফসি অনূর্ধ্ব- ২০ টুর্নামেন্টেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে পরিচিতি আরো বাড়বে, আমার খেলার উন্নতিও হবে।

প্রশ্ন : বসুন্ধরা কিংসে আছেন, কিন্তু সেভাবে তো খেলার সুযোগ পাননি। তার পরও এই আসরে এতটা ভালো কিভাবে খেললেন?

পিয়াস : আমি নিজের সঙ্গে নিজে যুদ্ধ করতাম। কিংসের সিনিয়র খেলোয়াড়রাও বলতেন এখন আমার শেখার সময়। দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে যেন মাথা না ঘামাই। সেটাই মেনে চলার চেষ্টা করেছি। তার মধ্যে থেকেই নিজের উন্নতি করার চেষ্টা করেছি। অনুশীলনে একটা গোল মিস হলে বা একটা পাস ভুল দিলে সারা রাত ঘুম হতো না। আর এই টুর্নামেন্টের আগে অস্কারও (বসুন্ধরা কিংসের কোচ ব্রুজোন) বলেছিলেন, আমি এখানে কেমন করি তাতে উনার নজর থাকবে। আশা করি, অস্কার আমার এই পারফরম্যান্সে খুশিই হয়েছেন।



সাতদিনের সেরা