kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

আশফাক যেন বুনো বাইসন

মাধব রায়, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আশফাক যেন বুনো বাইসন

অমিয়ভূষণ মজুমদার

ভারতবর্ষের ভৌগোলিক মানচিত্রে একসময় গভীর ও সমৃদ্ধ অরণ্য ছিল। ইতিহাসে তার বিবরণ আছে। কিন্তু ইতিহাস কি সবটা সত্য বলে? অমিয়ভূষণ মজুমদার তাই বলেছেন, ‘ইতিহাস খুব গোলমেলে গল্প’।

শিল্পীর ক্যানভাসে ইতিহাসের সেই সত্যকে উদঘাটন করতে হলে পড়তে হবে বিভূতিভূষণের উপন্যাস ‘আরণ্যক’ কিংবা অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘মহিষকুড়ার উপকথা’য়।

বিজ্ঞাপন

কৃষিভিত্তিক সভ্যতার জাঁতাকলে কিভাবে অরণ্য ও অরণ্যকেন্দ্রিক জীবনের নিষ্পেষণ হয়েছে তার চাক্ষুষ বিবরণ মহিষকুড়ার উপকথা। এটি কোচবিহারের মহিষকুড়া নামের একটি গ্রামের বিবরণ। ভূস্বামী কর্তৃক বাস্তুচ্যুত হয়ে স্বামীহারা ও দলচ্যুত বাউদানী নারী কমরুনের সাক্ষাৎ লাভ করে আশফাক। কমরুনের সঙ্গলাভে কিছুদিনের জন্য আদিম বনচারী জীবনে গমন করে সে। কালক্রমে সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগ আরেক ভূস্বামী জাফরুল্লাহ চাকরে পরিণত হওয়া যে কি না তার বনচারী সঙ্গী কমরুনের শয্যাসঙ্গী। জাফরুল্লাহর বাড়িতে আশফাক হয়ে যায় গাড়িটানা মোষ। কিন্তু উপরিভাগের ঘটনার আড়ালে উপন্যাসের অন্তর্ভাগে রয়েছে এক বিশেষ আবেদন। আশফাকের অবচেতন মন সেই আবেদনে কখনো হারিয়ে যায় আদিম বনচারী জীবনে। তাই সে স্বপ্নে হয়ে যায় মোষ। তার মনের অজান্তেই বুনো বাইসন হাঁক দেয়। আমাদের মনে করিয়ে দেয় একসময়ের অরণ্যচালিত নারী-পুরুষের সম্মিলিত শিকারি জীবনের কথা। আধুনিক সভ্যতায় সেই অরণ্য নেই। কিন্তু আমরা অবচেতনে সেই অরণ্যে যাই, লালন করি সেই জীবন।          

অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক



সাতদিনের সেরা