kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

এক দুঃসময়ের আখ্যান

জান্নাতুল নাঈমা, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১ মিনিটে



এক দুঃসময়ের আখ্যান

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের আগমনবার্তা তুলে ধরেছেন ‘অশনিসংকেত’ উপন্যাসে। ভাতছালা গ্রামের  বেশির ভাগ মানুষ কাপালি ও গোয়ালা বিধায় একমাত্র ব্রাহ্মণ হিসেবে টোলে ছাত্র পড়িয়ে, কবিরাজি ও পৌরোহিত্য করে গঙ্গাচরণের বেশ পসার। পরিবারে অভাব-অনটনের বালাই ছিল না। গঙ্গাচরণের স্ত্রী অনঙ্গ বউ কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি মিশতেন সবার সঙ্গে। কিন্তু এই সুখের জীবনে গ্রহণ লাগল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে। কালোবাজারি, মজুদদারি, ব্রিটিশ সরকারের সেনাদের জন্য রসদ সংগ্রহ প্রভৃতি কারণে বাংলাজুড়ে দেখা দেয় খাদ্যসংকট। অনাহারে মতি নামের এক মহিলা মারা গেল। এভাবে অন্ন-বস্ত্রে সমৃদ্ধ বাংলা ধীরে ধীরে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠল। গঙ্গাচরণের পরিবারের শেষ পরিণতি তিনি দেখাননি। শুধু বার্তা দিয়ে গেছেন চারদিকে যখন মৃত্যুর অশনিসংকেত বেজে ওঠে, তখন জাত-ধর্মের ভেদাভেদ থাকে না। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে মারা গিয়েছিল প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। উপন্যাসটি সেই সময়কার ইতিহাসের এক বাস্তব দলিল।