kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বই আলোচনা

অরুণিমার নদী ও সন্তান

হানযালা হান

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অরুণিমার নদী ও সন্তান

কত ব্যথায় আমি আকাশ হয়েছি/কত দুর্যোগে নদী/বোঝো নি তুমি বোঝো নি হে সখা/কত ক্ষত থেকে কবি...’।— কবি অরুণিমার কবিতার বই ‘নদী ও সন্তান’ শুরু হয়েছে এই কয়েকটি বাক্য দিয়ে। এসব থেকে এই কবির হৃদয়ের ক্ষত অনুমান করা যায়। এই বইয়ের ৫৬টি কবিতা পড়লে এই ক্ষতের গভীরতা কত আরো স্পষ্ট হয়। বইটি প্রকাশ করেছে অনন্যা। কবিতাগুলোর কোনো শিরোনাম নেই।

১২ নম্বর পাতার কবিতায় কবি জানাচ্ছেন, তাঁর মৃত্যুর দিনে সাদা ফুল ফুটবে। অনেকে সাদা পোশাক পরে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আসবে। এই দলে এমন লোকও থাকবেন, যাঁরা জীবিতকালে তাঁর অশান্তি ঘটিয়েছেন। এরপর তিনি লিখেছেন, ‘আবার ভেসে উঠবে কলরব/শুকিয়ে যাওয়া সাদা ফুলের/বীজ থেকে জন্ম নেবে,/ফিরে আসবে মূল স্রোত,—।’ ২৮ নম্বর পাতায় মৃত্যুবিষয়ক আরেকটি কবিতা। এখানে তিনি জানাচ্ছেন, মৃত্যুর জন্য লাল চেরি, চন্দন, অশ্রু রাখা আছে।

মেয়েদের বিয়ে নিয়ে চমৎকার একটি কবিতা আছে ৩৫ নম্বর পাতায়। বিয়েবাড়িতে যেমনটা ঘটে। সকাল থেকে হৈচৈ। নানা সাজের পোশাক পড়া। নানা মানুষের আনাগোনা। কিন্তু যা দেখা যায় না, ‘বাজলো না একবারও অশুভ চরণ/সংঘাতে নিশ্চুপে মেয়ে হলো বলি’। কবি একেবারে অল্প কথায় স্বভাবসিদ্ধভাবে ভাবের চূড়া স্পর্শ করেন।

একেবারে শেষের কবিতায় এক সন্তানের কথা বলা হয়েছে। যে সন্তান জন্ম নিয়েছে নদী হবে বলে। চারপাশের জীর্ণতাকে যে বুকে ধারণ করতে পারে। তার মধ্যে যেমন জঞ্জাল আছে, তেমনি অবহেলা ক্ষুদ্রতা অভিমান রাগ অপছন্দ অপমানও আছে। এর পরের লাইনগুলোতে কবি মোক্ষম কথাটি বলেছেন, ‘তবু যে সন্তান জন্ম নিয়েছে নদী হবে বলে/তার ধমনী রক্ত স্পন্দন প্রতিক্রিয়া/বয়ে চলে উপযুক্ত উপত্যকার খোঁজে।’

এই বইয়ের শেষ প্রচ্ছদে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের মন্তব্য তাৎপর্যবাহী, ‘তাঁর কবিতায় আমি জীবনের নানা দিক দেখতে পাই। কলমের আঁচড়ে তিনি অত্যন্ত নিপুণ ভঙ্গিতে তুলে আনেন মানুষের অন্তর্জগতের হাহাকার, বেদনাবোধ, স্বপ্ন ও সংগ্রামের ছবি। আশা-নিরাশার দোলাচল খেলা করে। নারীজীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অপ্রাপ্তি তাঁর কবিতায় ধরা দেয় রূপক হিসেবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা