kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

মরার আকাল

ফারুক মঈনউদ্দীন

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



মরার আকাল

অঙ্কন : মাসুম

ঘর থেকে বের হতেই যেন লাখোকোটি ভাইরাস ঘিরে ধরে ওকে। নিজের অজান্তেই হাত দুটি শরীর থেকে দূরে সরে যায়। যেন অদৃশ্য শত্রুগুলো হাত দুটিকে ছেঁকে ধরেছে, কিংবা উড়ে এসে আছড়ে পড়ছে গায়ে। তাই হাত থেকে শরীর কিংবা শরীর থেকে হাতকে দূরে রাখার সচেতন চেষ্টায় হাঁটছে বলে কাঠপুতুলের মতো দেখায় ওকে। পাড়ার রাস্তায় দু-চারজন মানুষকে ত্রস্তপায়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়, এক ঝলক মুখের দিকে তাকিয়ে পরস্পরকে পেরিয়ে যাওয়ার সময় গলির দুই পাশের দেয়ালের সঙ্গে প্রায় সেঁটে যায় দুজনই। পরিচিত চেহারার কেউ কাছাকাছি এলেও কুশল বিনিময় হয় না। পরিচিতির হাসি হাসলেও কারো মাথায় আসে না যে নাক-মুখ ঢাকা মুখোশের আড়ালের সৌজন্যমূলক সেই হাসি দেখা যায় না, ভীত চোখ জোড়ায়ও প্রতিফলিত হয় না হাসিমুখ। কাউকে হয়তো দেখেও সহজে চেনা যায় না, অযত্নে বেড়ে ওঠা চুল আর মুখোশের পাশ দিয়ে বের হয়ে আসা প্রশ্রয় দিয়ে বড় করা দাড়িতে পরিচিত মুখ অপরিচিত ঠেকে। সামনের ছোট মাঠমতো পার্কটার এখানে-সেখানে টাক পড়ার মতো ফাঁকা জায়গাগুলোয় অবাধ বেড়ে ওঠা ঘাসের চুল গজিয়েছে। মোড়ের ছোট মুদি দোকানের সামনে জবুথবু দু-চারজন রিলিফ নিতে আসা দুস্থ মানুষের মতো দূরে দূরে রাস্তায় দাঁড়ানো। সবাই একসঙ্গে ঘেঁষতে না পারার জন্য দোকানের সামনে বড় প্লাস্টিকের ক্রেট দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া, ক্রেটের মধ্যে আলু, পেঁয়াজ, আদা—আরো কী কী সব ফেলে রাখা। এখন প্লাস্টিকের প্যাকেটের ভেতর কয়েক ধরনের মাস্কও বিক্রি হয় দোকানে। জায়গাটা পেরোবার সময় রাস্তার উল্টোপাশে সরে গিয়ে জোরে পা চালিয়ে হেঁটে যায় ও। ফেরার সময় ওকেও এখানে একবার দাঁড়াতে হবে। লবণ, ডিম আর ডাল নিয়ে যেতে বলেছে রেজিনা।

বাইরে যাওয়ার জন্য প্রাণ আনচান করলেও এখন ওর ভেতরেও ভর করেছে ভয়, সে ভয় যতটা না অদৃশ্য অণুজীবটির জন্য, তার চেয়ে বেশি ঘরে ফেরার পর জামা-কাপড় ছেড়ে সাবানজলে ভেজানো, গোসল আর লবণজলে গড়গড়া করার দীর্ঘ কষ্টকর প্রক্রিয়াটির কারণে। দুই মাসেরও বেশি সময় পর ছুটি শেষ হলে পাল্টে গেছে জীবন যাপনের বহু চিত্র। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকার সময় কর্মহীন বসে বসে টেলিভিশনে একের পর এক দুঃসংবাদের খবর শুনতে শুনতে এক প্রবল মৃত্যুভয় কাবু করে ফেলেছিল ওকে। নভোচারীদের মতো দেখতে সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা গুটিকয় স্বেচ্ছাকর্মী যখন হন্তারক নিস্তব্ধতা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে একেকটা শরীরকে মাটির গভীরে নামিয়ে দেয়, সেই দৃশ্য দেখে দেখে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ও। অতি সাবধানতার কারণে কাপড় কাচা সাবান দিয়ে ক্রমাগত হাত ধুতে ধুতে হাতের কবজি পর্যন্ত গোসাপের চামড়ার মতো খসখসে হয়ে উঠছে। এই আতঙ্ক আর হতাশা আরো নির্মম হাতে চেপে ধরে যখন দেখা যায় সুরক্ষার ঘেরাটোপে থাকা মানুষগুলোর নিরাপত্তাবোধের দিকে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে এক অদেখা শক্তি নিষ্করুণ হাতে জীবনের একেকটা বাতিকে হারিকেনের সলতের মতো ধীরে ধীরে নিভিয়ে দিয়ে যাচ্ছে রোজ।

পাড়ার নিষ্প্রাণ গলি থেকে বের হয়ে বড় রাস্তায় উঠে এলে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে এসে মানুষের অনিঃশেষ জীবনচাঞ্চল্য টের পাওয়া যায়। ছায়াচ্ছন্ন গলির দমচাপা শোকাবহ পরিবেশ এখানে উধাও। রাস্তার পাশে মলিন পসরা সাজিয়ে বসেছে কয়েকটা অস্থায়ী দোকান। কিছু দোকানপাট খোলা, খদ্দের প্রায় নেই কোথাও। যদু ঘোষের চায়ের দোকানে থুতনির নিচে মুখোশ নামিয়ে চায়ের কাপ হাতে বসা কয়েকজন। বিসমিল্লাহ ফার্মেসির সামনে রাস্তার পাশে গাছের একচিলতে ছায়ায় দাঁড়িয়ে টাইট গোল গলা নীল গেঞ্জি আর চাপা প্যান্ট পরা ধূর্ত চেহারার একজন কানে মোবাইল লাগিয়ে কাকে যেন বলছে, ‘অ্যান্টিবাইটিক হলো গেন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। আপনি একটা শেষ করিছেন কচ্ছেন, তাই না? তাহলি আপনার একটা রোগের প্রতিরোধক্ষমতা হইসে, এহন আরেকটা...,’ হেঁটে যেতে যেতে এটুকু শোনার পর আর কী বলছে ওর কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। যেতে যেতে ও ভাবে, চোখে দেখা না যাওয়া ভাইরাসের চেয়ে এই মূর্তিমান ভাইরাসগুলোও কম ভয়ংকর নয়। টেলিফোনের ওপারে কোন বেচারাকে মুরগি বানাচ্ছে কে জানে।   

ছুটির দিনে এমনিতে ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছা করত না ওর, কিন্তু টানা দুই মাসেরও বেশি সময়ের অঢেল অবসর আর গৃহবন্দি উৎকণ্ঠার বিষ সাপ্তাহিক ছুটির আলস্যের আমেজটাকে নষ্ট করে দিয়ে গেছে যেন। কিন্তু আজ বের হওয়ার দায়টা এড়াবার উপায় নেই। গোরস্তানে যেতেই হচ্ছে একবার। আজকাল কবরস্থানের মতো নির্জন জায়গাও নিরাপদ নেই আর। পাঁচ ফুট মাটির নিচে নামিয়ে দেওয়া লাশও যেন মূর্তিমান হুমকির মতো মানুষের শেষ ঠিকানাটির বাতাসে চুপিসারে ভেসে বেড়াচ্ছে। তবু ভয়কে জয় করে বাবার কবরের পাশে একবার দাঁড়াতে হবে। আজ ওর বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। তাই সব পরামর্শ উপেক্ষা করে এমন ছুটির দিনে বের হওয়া। অন্য বছরগুলোতে মসজিদে কোরআন খতম দিয়ে কিছু গরিব মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কিছু হাদিয়ার বিনিময়ে মৌলভি আর তালেবে এলেমদের দিয়ে কোরআন খতমের চেয়ে নিজ সন্তানের প্রার্থনা অনেক বেশি কার্যকর জেনেও শুধু বিশ্বাসের ভিত্তিতে পিতৃদায়টা করে গেছে এত দিন। এ বছর স্বল্পজ্ঞানে এই কাজটা দীনহীনভাবে হলেও নিজেই করতে যাচ্ছে বলে এক ধরনের শান্তি আছে মনে।

উল্টো দিক থেকে একজনকে ওর দিকে তাকিয়ে হেঁটে আসতে দেখে পরিচিত মনে হয়, মুখ ঢাকা থাকায় ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না কে। কাছে আসার পর বহু কষ্টে চিনতে পারে, ওদের খবরের কাগজ দিত ছেলেটা, অরুণ। থেমে দাঁড়িয়ে মুখোশটা নামিয়ে বলে, ‘কোথায় চললেন দাদা?’

ও মাস্ক সরায় না, বলে ‘এইতো সামান্য কাজ পড়িসে। তোমার বিলটিল বাকি নেই তো?’

অরুণ বলে, ‘না, আপনাগের বাকি নেই। কিন্তু পেরায় সব বাড়িতে বাকি, গেলেই কচ্ছে হাতে টাকা নেই। আপনারা তো কাগজ রাহা বন্ধ কইরে খালাস, আমাগের কী অবস্থা কন দি?’

একটা অপরাধবোধে কুঁকড়ে যায় ও, বলে, ‘কী করব? কচ্ছে খবরের কাগজেও ছড়াতে পারে ভাইরাস। জানের ভয় ছাড়াও পত্রিকা পড়ার খরচ কমায়ে দিতে হচ্ছে।’

অরুণ ম্লান হেসে বলে, ‘ক্যান, কাগজে তো বিজ্ঞাপন দিয়ে কচ্ছে, কাগজে ভাইরাস ছড়ায় না।’

—কিন্তু মানুষ তো সহজে বিশ্বেস যাচ্ছে না ওগের কথায়।

ছেলেটাকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য বলে, ‘দেখ, বেশিদিন হয়তো থাকবে না এই অবস্থা।’ তারপর অরুণের সামনে থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্যই হাঁটতে শুরু করে ও।

এখন প্রথম কাজ কবরস্থানে গিয়ে কালুকে খুঁজে বের করা, ওর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ওর এ মাসের টাকাটা দেওয়া হয়নি এখনো। বাবার কবরটায় কয়েকটা গোলাপ চারা লাগিয়ে দিয়েছিল ও, সেগুলোর যত্ন নেওয়া আর সময়মতো ঘাসটাস ছেঁটে দেওয়ার জন্য ছেলেটাকে মাসে মাসে কিছু টাকা দেওয়া হয়। বাবার কবর জিয়ারতের পর ওকে যেতে হবে বন্ধু হামিদের বাসায়। ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধশক্তি বাড়ানোর একটা হোমিওপ্যাথি ওষুধ দেবে বলেছিল, আর্সেনিক অ্যালবাম ৩০। অনেকেই নাকি জোগাড় করে খাচ্ছে ওটা। আজকাল ভাইরাস ঠেকানো এবং তার চিকিৎসার নানা টোটকা বের হয়েছে। ওষুধটার ব্যাপারে হামিদের পরামর্শের কথা রেজিনার সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়েছিল ও, হোমিওপ্যাথির কয়েক ডোজে যদি ভাইরাস ঠেকানো যায়, তাহলে এতগুলান মানুষ মরতিসে ক্যান।

রেজিনা বলেছিল, সব কিছু নিয়ে হাসি-তামাশা করা তোমার একটা স্বভাব। পরে তো দেখি সব ঠিকই মেনে নাও। আম্মা একটা কথা বলতেন, যারে নিন্দে, তারে পিন্দে। হোমিওপ্যাথির কোনো সাইড অ্যাফেক্ট যখন নাই, বলছে যখন খেয়ে নিলেই তো হয়। হামিদ ভাই আমাদের ওয়েল উইশার বলেই তো বলছেন। ঘরের সবার জন্যই নিয়ে আসবে ওষুধ। বন্ধু দিচ্ছে বলে ফ্রিতে আনবে না। ওষুধের দাম না দিলে নাকি সে ওষুধে কাজ করে না।

কথাটার যুক্তি ফেলতে পারেনি ও। হামিদকে জোগাড় করে রাখতে বলেছিল ঘরের সবার জন্য, সেটাই আনতে যাবে আজ।

একটা সওয়ারিবিহীন রিকশায় বেশ আলস্যে পেডাল মেরে আসছিল ছোকরামতো একজন। আজ বেশ রোদ লাগানো হলো গায়ে, যথেষ্ট ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া গেছে। এখন একটা রিকশা নেওয়া যায়। ওটাকে দাঁড় করানোর পর ছেলেটার মুখে মাস্ক নেই দেখে ও বলল, মাস্ক পরিনি ক্যান?

ছেলেটা একটু গম্ভীর মুখে বলে, ‘ওটা লাগালে দোম বন্ধ লাগে, রিকশা চালাতি পারিনে। মোনে অয় গরুর মুহির ঠুসি পইরে আছি।’

ও বলে, ‘ওডা না লাগালি তোর রিকশায় উঠবো না নে।’

তখন ছেলেটা ময়লা প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা কালো মাস্ক বের করে মুখে লাগিয়ে নেয়।

কবরস্থানের গেটে শুক্রবারে যে রকম ফকির-মিসকিন আর টোকাইদের ভিড় দেখা যায়, আজ সে রকম নেই। হয়তো জুমার নামাজের সময় এসে হাজির হবে। অথবা আসবে না, এখন জুমার নামাজ পড়তে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা, যে কয়জন আসে তাদের কেউই গোরস্তানে আত্মীয়-মুরব্বিদের কবর জিয়ারতে যায় না। ঢোকার মুখে বড় কাঠবাদাম গাছটার ছাতার নিচে সিমেন্ট বাঁধানো রোয়াকের মতো একটা গোল বেদি। ওটার ওপর বসে থাকা কয়েকজন পেশাদার ভিক্ষুক ওর দিকে এগিয়ে এলে দ্রুততার সঙ্গে ওদের পাশ কাটিয়ে ঢুকে পড়ে ও।

ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের স্তব্ধতা ঘিরে ধরে ওকে। জায়গাটার চৌহদ্দি ঘিরে গম্ভীর দর্শন বড় ঝুপসি  গাছগুলোর ডালপালার ভেতর থম মেরে থাকা ছায়ার ভেতর থেকে অশ্রুত ফিসফিসানি নিঃশব্দে নরম আঠার মতো চুইয়ে পড়ে একাকী কবরগুলোর ওপর। বৃষ্টিভেজা মাটি থেকে জ্যৈষ্ঠের উত্তাপে উঠে আসা গরম ভাপের গন্ধ নাকে এসে লাগে। ভেতরে কোনো মানুষের সাড়া-শব্দ মেলে না, একেবারেই সুনসান। গল্প-উপন্যাসে লেখা কবরের নিস্তব্ধতা যেন সত্য হয়ে নেমে এসেছে আয়তাকার চতুষ্কোণ ক্ষেত্রগুলোর ওপর।

খুব উদাসভাবে হাঁটতে হাঁটতে বাবার কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় ও। গোলাপের চারাগুলো বড় হয়েছে, ফুল আসেনি এখনো। সাফসুতরো দেখে বুঝতে পারে ছেলেটা ফাঁকি দিচ্ছে না। অনেক বেশি দোয়া-দরুদ জানা নেই ওর, তাই সুরা ফাতিহা আর সুরা ইখলাস পড়েই জিয়ারত সারে ও। বুক চেপে ধরা নিস্তব্ধতার মধ্যে ওর সুরা পড়ার ফিসফিস ধ্বনিও যেন শব্দ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। সার বাঁধা কবরগুলোর শিথান ও পায়ের মাঝখান দিয়ে পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে ঘামে পাঞ্জাবি ভিজে পিঠের সঙ্গে সেঁটে গেছে। এ সময় এক ঝলক বাতাস বয়ে গেলে একটা ভৌতিক পরশে যেন ঘামেভেজা শরীর শিরশির করে ওঠে ওর। অফিসঘরের বারান্দায় মারফত আলিকে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়।  ষাটোর্ধ্ব ঢ্যাঙা শরীরটাকে বারান্দার থামে ঠেকিয়ে শূন্যদৃষ্টিতে একদিকে তাকিয়ে বসে ছিল লোকটা। কাছে গেলে ‘সেলামালেকুম’ বলে একইভাবে বসে থাকে বৃদ্ধ গোরখোদক, সাদা চুল আর দাড়ির মাঝখানে কালো মুখটার ওপর মরা মাছের মতো চোখ জোড়ায় ঘোলাটে আভা। ওর কাছ থেকে কবর দেখাশোনা করার ছেলেটার কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। বলে, ‘ওরে দেখিতিসি না বহুদিন ধইরে। কোয়ানে কোয়ানে যায় বলতি পারব না নে। কাজকাম তো নেই বিশেষ।’ ছেলেটাকে দেওয়ার জন্য টাকাটা ওর কাছে রেখে আসতে চাইলে রাজি হয় না লোকটা, বলে, ‘আমার দারে রাইখে যাওয়া ঠিক অবে না। অভাবে পড়লি খরচ কইরে ফেলায়ে গুনাগার হতি পারব না নে। ওর হাতে দিলি ভালো অয়।’ লোকটার হাতে ৫০০ টাকার দুটি নোট তুলে দিয়ে বলে, ‘এইডে আপনার জন্যি। অ্যাহন এই ছাওয়ালডারে পাই কোয়ানে। ওর ফোন বন্ধ।’ মারফত আলি বলে, ‘আমার সঙ্গে দ্যাহা হলে কবানে আপনারে ফোন দেওয়ার জন্যি।’

ও বের হওয়ার আগে বলে, ‘অ্যাহন তো আপনাগের কাম বাইড়ে গেছে, এত মানুষ মারা যাচ্ছে রোজ।’

মারফত আলি বলে, ‘কিডা কলো কাম বাড়িসে? কবর খোদার পর লাশ আনলি আমাগের হ্যাট হ্যাট কইরে ভাগায়ে দেয়। লাশের আত্মীয়-স্বজনেরও কাছে যাতি দেয় না। মুর্দার মতোন সাদা পোশাকের কয়েকজন দূরে দূরে দাঁড়ায়ে জানাজা পড়ে, তার বাদে বস্তার মতো কইরে লাশ নামায়ে মাটিচাপা দিয়ে পেরায় পালায়ে যায় য্যান। এডারে দাফন কয়?’

ও বলে, ‘হয়, টিভিতে দেহিসি। করোনার লাশ ছাড়াও তো লাশ আসে। তহন তো আপনাগেরই সব করতি অয়।

মারফত আলি ওকে থামিয়ে দিয়ে বলে, ভালো লাশ বহুত কইমে গেছে অ্যাহন।’

—ক্যান, করোনা ছাড়া মানুষ মারা যাচ্ছে না?

মারফত আলির কথায় চমকে ওঠে ও, মানুষ যায়ে মরবে কোয়ানে? লকডাউনির মদ্যি ক্লিনিকগুলান সব বন্ধ আছে না?   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা