kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ভাইরাল

জেডি এডউইন
অনুবাদ : ফাহমিদা দ্যুতি

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



ভাইরাল

অঙ্কন : প্রসূন

[লেখকের কথা : এ গল্পটি পুরোপুরিই চলতি সময়ের উহান কোয়ারেন্টিনে আটকে থাকা পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বয়ানের ওপর ভিত্তি করে লেখা।]

 

ভারী কোট। গ্লাভস। রেইনকোট। বুট। হেডস্কার্ফ। মাস্ক। লোকজন বলছে, মাস্কে নাকি কাজ হয় না। তবু আমরা মাস্ক পরছি। হয়তো আরামের জন্য।  নিজেদের বোকা বানিয়ে পাওয়া আরাম।

‘তাড়াতাড়িই ফিরে আসব, মা,’ আমি জোরে জোরে বলি। কোনার ছোট শোবার ঘর থেকে মায়ের গুনগুন শুনতে পাই। মা গান ভালোবাসেন। অতীতে তাঁর চুল যখন তেলের মতো চকচকে কালো ছিল, পাইনগাছের মতো সোজা ছিল পিঠ, তখন শহরের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া সৈনিকদের উদ্দেশে গান গাইতেন মা। এখন পিঠ কুঁজো হয়ে গেছে। চুল সাদা। নিঃশ্বাস ফেলার মতো করে ফিসফিসিয়ে ছোটখাটো ঘুমপাড়ানি গান কোমল গলায় গুনগুন করেন। মাকে আমি আবার বাইরে যাওয়ার কথা বলি। মা গুনগুন করেই যান। একেকটা দিন পার করার মধ্যে ভালো মুহূর্ত ক্রমেই কমে যাচ্ছে তাঁর।

নাক-মুখের ওপরকার পেপার মাস্কটা ঠিক করে, পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে নিচে নামতে থাকি। পাঁচটা তলা। অনেক দরজা। দুই সপ্তাহ আগের কথা মনে পড়ছে : আমি মাছের বাজার থেকে ফিরছি, চারতলার যমজ দুটো সিঁড়ি দিয়ে শোরগোল করতে করতে নামছে, উঠছে, চিত্কার-চেঁচামেচি আর হাতে ডালপালা নিয়ে এপাশে-ওপাশে বাড়ি মারছে, অল্পের জন্য আমার গায়ে লাগেনি। গত সপ্তাহে ৪-বি বাসার নবীন যুগল ঝগড়া করছিল। কিছুটা হতাশ লাগল আমার, এইতো বড়দিনে তাদের বিয়ে হয়েছে। নিচে হলে মি. লি কয়েক দিন আগে এক সন্ধ্যায় এগিয়ে এসে জানালেন, তিনি নববর্ষের জন্য ডাম্পলিং পুডিং বানিয়েছেন, জিজ্ঞেস করলেন আমার অতিরিক্ত কয়েকটা লাগবে কি না। মনে হচ্ছে, এসব এক জীবন আগের কথা। আজকে হলরুমগুলো ঘন চুইয়ে পড়া নীরবতায় ভরে আছে। সিঁড়িতে শুধু আমার পায়ের আওয়াজ। আমার মতো পালানোর চেষ্টা করার চেয়ে ভেতরে আটকে থাকাই নিরাপদ মনে করছে ভীত মানুষেরা। তাতে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পারবে।

পলায়ন। কথাটা মনে হতেই গোপনে হাসি পায় আমার। সারা জীবন এখানেই থেকেছি। এখন কোথায় যাব?

বাজারটা মাত্র চার ব্লক পরেই। লতানো গাছে ঢাকা পুরনো অ্যাপার্টমেন্টের দুটো সারি আর একটা পার্ক পার হয়ে আরামে অল্প একটু পথ গেলেই বাজার। আমি প্রায় সব সময় এ পথ দিয়েই যাওয়া-আসা করতাম, কখনো কখনো দিনে দুবার। বিকেলে এখান দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছি, বয়স্ক লোকেরা বাঁশের পাখায় মাছি তাড়াচ্ছে। ধুলোর রাস্তার পাশে সাধারণত মাহজোং টাইলস খেলার টেবিলের ব্যবস্থা থাকে। তাদের টেবিল আজ ফাঁকা। রাস্তার মোড়ও জনশূন্য। পার্ক, রাস্তা, প্রতিটা বারান্দা ফাঁকা। আমি হেঁটে এলাম। নীরবতা আমার পাশে পাশে চুইয়ে পড়তে থাকল।

বাজারের স্টলগুলো ফাঁকা ফাঁকা, খুব ঘন হয়ে বসেনি। সব সময় মানুষের ভিড় আর হৈচৈ থাকে; এখন ডজনখানেক ক্রেতা গোমড়ামুখে কেনাকাটা করছে, মাথা নিচু, মুখে মাস্ক, একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলতে শঙ্কিত বোধ করছে, কিংবা আরেকজনের দিকে তাকাতেও ভয় পাচ্ছে, যেন অন্যজনের চোখের দিকে তাকালেই আশঙ্কাজনক প্যাথোজেন সংক্রমণ হবে। লোকজন বলে, এ রকম আবরণে ছোঁয়া কোনো কিছুতে ভাইরাস ছড়ায় না। কিন্তু আসলে কী হয় তা কে জানে!

আমি মাংস আর মাছ কিনি। খানিকটা সবুজ, খানিকটা পিছলে পিছলে হয়ে গেছে। কিন্তু ভিক্ষার চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া কী? আমরা সবাই এখন ভিক্ষুক। যতটা টানতে পারি, বেশি করে টাটকা শাক-সবজি আর ফল কিনে নিচ্ছি। খুব বেশি পরিমাণ তো টানতেও পারি না। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে আবার আসতে হবে।

বাজারের ব্যাগগুলো নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা শুরু করি। ব্যাগগুলোর ওজনের কারণে আমার হাঁটা ধীর হয়ে যাচ্ছে। ব্যাগগুলো যতটা ভারী, নীরবতাও ঠিক ততটা ভারী হয়ে বসেছে আমার কাঁধের ওপর। বাতাসে হালকা ধোঁয়াশা আটকে আছে। গতকালের চেয়ে কি বেশি ঘন হয়ে আছে আজ? গুজব ছড়িয়েছে, সরকার নাকি মরদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলছে। দিনকে দিন নাকি সংখ্যায় বেশি মরছে। কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে পারে না। কে জানে!

আমি বাড়ি পৌঁছনোর মুহূর্তে আমার ফোন তীক্ষ শব্দ করে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া দিই না; আমার ‘বর্ম’ খুলতে হবে আগে। মাস্ক, হেডস্কার্ফ, বুট, রেইনকোট, গ্লাভস, ভারী কোট। আমার ফোনে শুধু একটা শব্দই অপেক্ষা করছে।

ঠিক আছ তো?

আমি উত্তর দিই, আপাতত এখনকার মতো।

আমরা কথা বেশি খরচ করি না। সবাই বলে, সরকার শুনছে, দেখছে। বেশি কথা বললে রাতের বেলা গুম হয়ে যাওয়া লাগতে পারে। মৃতদেহগুলোর সঙ্গে চুল্লির আগুন শেষ। সত্যি নাকি? কে জানে! জেকের কথা খুব মনে পড়ে। ও চেয়েছিল আমরা যেন ওর ওখানে চলে যাই। বারবার বলছিল, নানির জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারি আমি। আমরা এখানেই থাকতে পারব। কিন্তু কথাটা শুধুই মনের চাওয়া ছাড়া আর কী! আমরা দুজনই বুঝেছিলাম তখন। কোথাও যাওয়া-আসার শক্তি আমার মায়ের শরীরে নেই আর। তাঁকে একা ফেলেও যাওয়া অসম্ভব। সুতরাং শেষে শুধু এক রাতের মতো কাপড়চোপড় গুছিয়ে জেক একাই যেতে বাধ্য হলো। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়ার আগে আগে যেতে পেরেছিল ও। প্রতিদিনই ওর কাছ থেকে বার্তা আসে। সাবধানে থেকো।

লিলি?

আমার চিন্তার ঘোর থেকে বের হই। ফোনটা রেখে বলি, হ্যাঁ, মা। আমি এলাম।

তুই কি নিচতলার সুন্দর মেয়েটার জন্য ধোয়ার কাপড়চোপড় রেখে দিয়েছিস? মেয়েটা অনেক কষ্ট করে কাজটা করে। ওকে সামান্য কিছু টাকা দিতে ভুলিস না।

নিচতলার সুন্দর মেয়েটা প্রায় এক সপ্তাহ ওপরে আসে না। মেয়েটার মুখ আসলেই সুন্দর, গোলগাল। চাহনিও মিষ্টি। কত কষ্ট করে আমাদের জামা-কাপড় ধুয়ে দেয়; কিন্তু বিনিময়ে কোনো দিন কিছুই চায় না। জেক চলে যাওয়ার আগে থেকেই দেখছি, ওর দরজা বন্ধ। বাসা ছেড়ে চলে গেছে, কিংবা ভেতরেই আটকে আছে। কে জানে!। ওর যদি জ্বর হয়ে থাকে তাহলে তো ওকে নিয়ে গেছে। কে জানে!

আমি মাকে বলি, হ্যাঁ, মা। অবশ্যই দিয়ে দেব। তুমি বিশ্রাম নাও। তোমার জন্য স্যুপ বানাই আমি।

আমরা নীরবে স্যুপ খেতে থাকি। আমার মায়ের হাত কাঁপে। চামচ থেকে স্যুপ পড়ে যেতে পারে ভেবে আমি বেশ কয়েকবার তাঁর হাত ধরে মুখের কাছে নিয়ে যাই। দুই সপ্তাহ আগে একসঙ্গে স্যুপ খেতে খেতে আমরা টেলিভিশন দেখেছি, কমেডি দেখে হেসেছি, রান্নার অনুষ্ঠানে জটিল রেসিপি দেখে কথা বলেছি, আমরাও বাসায় রান্নার চেষ্টা করব; অবশ্য কখনো করা হয়নি। কিন্তু এখন টেলিভিশন নীরব। বিশ্লেষকদের একঘেয়ে বক্তৃতা শোনা আর অশেষ খবর দেখা, ভিড়ের হাসপাতালের রাস্তার ভাইরাল ভিডিও, গাদাগাদি করা অ্যাম্বুল্যান্স আর ব্যাগে ভরা মৃতদেহ দেখার সহ্যক্ষমতা আমার নেই। রাস্তার ওপরে আরেক দল রোগী মারা যাচ্ছে। তবু বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তারা বলছে, আমরা জয়ী হবই।। কিন্তু বাস্তবতা? কে জানে!

জানিস, লিলি—মা হঠাত্ বলে ওঠেন। আমার চামচ মুখের দিকে অর্ধেকটা তুলে আমি তাঁর দিকে তাকাই।

কী, মা?

কত আলো ছিল আগে।

তাঁর বিছানার পাশের জানালার দিকে তাকান মা। আমিও তাকাই জানালায়; রাস্তার ওপারে অ্যাপার্টমেন্ট দেখি। বেশিদিন আগের কথা নয়—প্রতিদিন সকালে আমি জানালা খুলতাম, শীতের সকালেও খুলতাম, চিত্কার করে আমাদের প্রতিবেশীদের সুপ্রভাত জানানোর জন্য খুলতাম। রাতে প্রায়ই আলোকিত জানালা এবং ব্যস্ত ব্যালকনি থেকে ভেসে আসত আনন্দের চিত্কার-চেঁচামেচি আর গান-বাজনার সুর।

একজীবন আগের কথা। এখন বেশির ভাগ জানালাই অন্ধকার। পর্দা ফেলে দেওয়া। আমাদের পাশের এই বিল্ডিংগুলোতে কি কেউ আছে? কে জানে!

আমি মায়ের কথার সঙ্গে একমত হই—ঠিকই, মা। আগে অনেক আলো ছিল।

মা অর্ধেক শেষ করা বাটিটা আমার হাতে দিয়ে দেন। গত কয়েক সপ্তাহে তাঁর রুচি একদম কমে গেছে। তবে আমি কিছু বলি না। মা বলেন, একটু চা করতে পারবি? এটা কোনো প্রশ্ন নয়। আমি বাটিগুলো কিচেনে নিয়ে সংক্ষেপে ধুয়েমুছে ফেলে কেটলিতে জল দিই। শুনতে পাই, শোবার ঘর থেকে মায়ের একটা গুনগুন সুর আসছে। অন্য সময়ে যেমন মনোযোগ না দিয়ে কোনো রকমে গেয়ে যান তেমন নয়, স্পষ্ট এবং উদ্দেশ্যমূলক সুর মনে হচ্ছে। আমি যখন চা নিয়ে আসি, মা থেমে যান।

আশা করেছিলাম, আবার আলোগুলো দেখতে পাব— মা কথার ছলে বলেন। একটু আগে স্যুপের চামচ মুখের কাছে তুলতেই পারছিলেন না প্রায়, অথচ এখন গরম চায়ের কাপ সতর্কতার সঙ্গেই তুলে ঠোঁটের কাছে এনে সতর্ক চুমুক দিতে দেখছি তাঁকে।

তাঁর কথার জবাবে ভরসা দিয়ে বলি, ‘অবশ্যই আবার আলো দেখতে পাবে, মা। খুব শিগগির দেখা যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে তারা।’

যেন আমাকে বাইরে হাঁটতে যাওয়ার আগে ছাতা নিয়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এমন হালকা সুরে মা বলেন—বোকার মতো কথা বলিস না তো। 

পরদিন সকালে মায়ের জ্বর আসে। আমি তাঁর কপালে ভেজা ন্যাকড়ার পট্টি বদল করে দিতে থাকি। মা খুব নিচু স্বরে, ফিসফিস করার মতো করে গুনগুন করেন। আমি আর নিজেকে জিজ্ঞেস করি না, বাজারের খাবার থেকে, নাকি আমার ময়লা কাপড়চোপড় থেকে বাড়ি পর্যন্ত প্যাথোজেন চলে এসেছে। যেকোনোটাই হতে পারে। কে জানে! জ্বর কমানোর মতো ওষুধপত্র কিংবা অন্য ব্যবস্থা আমাদের নেই বললেই চলে। আর যা আছে সেগুলোও যে কাজ করবে, তা-ও তো নয়। দুই দিন পরই মা চলে গেলেন। ঘুমের ভেতর ভাসতে ভাসতে, নিঃশ্বাসের ভেতর একটা গানের সঙ্গে চলে গেলেন নীরবে। আমি তাঁর মুখটা এক টুকরো কাপড়ে ঢেকে দিই। বিছানার পাশে একটা লোবান জ্বালিয়ে দিই।

আমি কাউকে ডাকি না। ডাকলে লোকজন এসে মাকে নিয়ে যাবে; আমার মা নামহীন, মুখচ্ছবিহীন একটা মৃতদেহের ব্যাগে পরিণত হবেন। তারপর তারা আমার টেস্ট করবে, আমাকেও নিয়ে যাবে। গলার ভেতরও চুলকানির মতো অনুভব করছি। আমি হয়তো পরাজিত করতে পারব, না-ও করতে পারি। কে জানে! অমি বরং বাড়িতে থেকেই দেখতে চাই।

আবার বাজারে যাই। গ্লাভস পরি, মুখে মাস্ক পরি। আমি যে জিনিসগুলো কিনি শুধু সেগুলোই ছুঁই। কারো চোখের দিকে তাকাই না, কারো নিঃশ্বাসের আয়ত্তের মধ্যেও থাকি না। ক্যাশিয়ার আঙুলের ডগা দিয়ে চামচের মতো করে তুলে নিয়ে টাকাটা দেরাজে রেখে দেয়। আমার ফোনে আওয়াজ পাই।

ঠিক আছ তো?

আপাতত আছি।

আমি খাবার বাড়িতে নিয়ে যাই। বর্ম খুলে ফেলে সব কিছু সরিয়ে রাখি। তারপর আবার বাইরে যাই। এবার আর গ্লাভস, মাস্ক, কোট—কিছুই পরি না। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে থাকি। দরকারমতো থেমে বিশ্রাম নিই। গত দিনের ধকলে আমার নিঃশ্বাস দুর্বল হয়ে গেছে। ফুসফুসে ফাটলের মতো শব্দ অনুভব করি। তবু আমি উঠতেই থাকি।

একমুহূর্তের জন্য আশঙ্কা আসে, ছাদে উঠার দরজা বন্ধ না তো! তবে আমি ঠেলা দিতেই দরজা খুলে যায়। একটা দমকা হাওয়া আমাকে ঢেকে ফেলে; সূর্যের আলো এসে আমার মুখে আদর করে দেয়। মাস্কহীন মুখের ওপর সূর্যের আলোর পরশে মনে হয়, আগের সেই সময়টাতেই আছি। ছাদের প্রান্তে হেলান দিয়ে ফাঁকা নীরব রাস্তায়, অন্ধকার নীরব জানালাগুলোতে এবং নিঃসঙ্গ নিস্তব্ধ পার্কে দৃষ্টি ফেলি।

তারপর আমি গান গাইতে থাকি। প্রথমে গুনগুন করে, তারপর গলা ছেড়ে।

চোখের এক কোনা দিয়ে কিসের একটা নড়াচড়া দেখতে পাই। নিচে একটা জানালা খুলে যাচ্ছে। একজন কৌতূহলে মুখ বের করে তাকিয়েছে। তাকে দেখে আরেকজন। তারপর আরো জানালা খুলে যায়, জানালা থেকে সব পর্দা সরিয়ে ফেলা হয়। কে যেন আমার গানটা জানে; সেও আমার সঙ্গে গলা মেলায়। আরেকজন ফোন বের করে আমাকে ক্যামেরায় ধারণ করতে থাকে। আমি গান গাইতেই থাকি।

হয়তো আগামীকালই অফুরন্ত সংবাদ প্রতিবেদনের কোনো একটা ভিডিও হয়ে যাব। হয়তো আমি ভাইরাল হয়ে যাব, বিষণ্ন বর্তমানের আশার প্রতীকে পরিণত হব। হয়তো আমার নাম যত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে তত দ্রুতই আবার অখ্যাতির ভেতর বিলীন হয়ে যাব। হয়তো আমি একজন ব্যক্তির আলো হব, তার ফোনের একটা ছোট ক্লিপ হব, গানের অস্তিত্ব এখনো আছে, সে কথাই মনে করিয়ে দিতে থাকব।

কে জানে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা