kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার ছিন্নপত্র : ১৭

জাহিদ হায়দার

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সামনের আমগাছের পাতার আড়ালে তিন-চারটি শালিক এই মানুষ কাঁপানো আর সব কিছুকে কাবু করা শীতে ডানায় ডানা ঘেঁষে বসে আছে। আমার চাদর ওদের দিকে উড়িয়ে দিলে ভয়ে উড়ে যাবে। মুখ পূর্বের দিকে। মনে হলো, সূর্য খুঁজছে। কুয়াশায়, কবিরা যেভাবে বলে থাকেন, সূর্যটা আকাশে একটা বাসি শাদাটে ডিম।

 

পাখি বিশেষজ্ঞ আমার এক বন্ধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের করুণ জলের লেকগুলিতে শীতের দেশ থেকে আসা কয়েকটি মনার্ক পাখিকে দেখিয়ে বলল :

ওই পাখিরা জানে কোন্ দেশে কম শীত, বেশি শীত

ওরা বাঁচার জন্যে বিস্মিত হওয়ার মতো কাজ করে। যখন হাজার হাজার মাইল পথ চিনে চিনে, যেন উড়ন্ত পথিক, উড়তে উড়তে আকাশের পর আকাশ পাড়ি দেয়, সামনে থাকা দলের পেছনে যে সঙ্গী পাখিরা থাকে তারা ঘুমাতে ঘুমাতে ওড়ে।

এবং একসময় সামনের পাখিগুলি ক্লান্ত হলে ঘুমাবার জন্যে পেছনে চলে আসে, আসবার সময় ঘুমন্ত পাখিদের জাগিয়ে দেয়। বোধ হয় বলে : ‘সামনে যাও, আমাদের মতো পথ চিনে ওড়ো, আমরা ঘুমাবো, ভুল পথে যাবে না।’

মনে হয়, মানুষ কখনো এ রকম কাজ করতে পারবে না। মনে হয়, ঐ পাখিরা ধ্রুবতারার গতিপথ ভালো বোঝে।’

 

তোমাকে বলেছি, মানুষ কখনো পরিযায়ী, কখনো পান্থপাখি।

ঘুম আর জাগরণের যুগল সত্য নিয়ে, শূন্যতায় পথ চিনে, পথ করে ওই পাখিদের মতো অনন্ত অন্ধকারে, নাক্ষত্রিক যাপনে আমরা কি কখনো গন্তব্যের দিকে উড়তে পারব না?

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা