kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

বিশ্বসাহিত্য

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বসাহিত্য

চিনুয়া আচেবে

জীবন-মনন পাল্টে দেওয়া ১০০ উপন্যাস

এমিলি ব্রনটির ওয়াদারিং হাইটস নেই, নেই হারম্যান মেলভিলের মবি ডিক কিংবা জেমস জয়েসের ইউলিসিসও। আছে চিমামান্দা নগুচি আদিচির ‘হাফ অব আ ইয়েলো সান, হেলেন ফিল্ডিংয়ের ব্রিজিট জোনস’স ‘ডায়েরি’ ও টেরি প্রাচেটের ডিস্কওয়ার্ল্ড সিরিজের মতো বই। কয়েকজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক-সমালোচককে বিবিসির তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল ইংরেজি ভাষায় লেখা ১০০টি উপন্যাস নির্বাচন করতে, যা পাল্টে দিয়েছে তাঁদের জীবন, যা পাল্টে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পাঠকের মনন। সম্প্রতি ‘১০০ নভেলস দ্যাট শেপড আওয়ার ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের সেই তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি। আইডেন্টিটি, লাভ সেক্স অ্যান্ড রোমান্স, অ্যাডভেঞ্চার, লাইফ ডেথ অ্যান্ড আদার ওয়ার্ল্ডস, পলিটিকস পাওয়ার অ্যান্ড প্রোটেস্ট, ক্লাস অ্যান্ড সোসাইটি, কামিং অব এজ, ফ্যামিলি অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ, ক্রাইম অ্যান্ড কনফ্লিক্ট, রুল ব্রেকার্স—এসব বিষয়ের ভিত্তিতে ইংরেজি ভাষার উপন্যাসের এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় স্থান পেয়েছে বিখ্যাত সব উপন্যাস,  যেমন—জেন অস্টেনের ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, মেরি শেলির ‘ফ্র্যাংকেনস্টাইন’, ওয়াল্টার স্কটের ‘আইভানহো’, অরওয়েলের ‘নাইনটিন এইটিফোর’, ভার্জিনিয়া উলফের ‘অর্লান্ডো’, টনি মরিসনের ‘বিলাভেড’, সিলভিয়া প্লাথের ‘দ্য বেল জার’, চিনুয়া আচেবের ‘থিংস ফল অ্যাপার্ট’, জে এম কোয়েতজির ‘ডিসগ্রেস’, ভি এস নাইপলের ‘আ হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস’ ইত্যাদি। চারজন ভারতীয় লেখকের বইও রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে—আর কে নারায়ণের ‘স্বামী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’, অরুন্ধতী রায়ের ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’, বিক্রম শেঠের ‘আ সুটেবল বয়’ এবং সালমান রুশদির ‘দ্য মুরস লাস্ট সাই’। এ ছাড়া জর্জ আর আর মার্টিন, স্টেফানি মায়ার, জেমস এলরয়ের মতো পপুলার সাহিত্য-স্রষ্টার উপন্যাসও স্থান পেয়েছে তালিকায়। তবে তালিকায় বহু বিখ্যাত উপন্যাসের অনুপস্থিতি থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

রিচেল প্রাইজ জিতলেন এলস ফিেজরাল্ড

রাজ্যজুড়ে খরা। ক্ষেতে ফলন নেই। এলস ফিেজরাল্ডের পরিবার দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। এলস তখন নিতান্তই শিশু। সংসারের অভাব-অনটনের তীব্রতা নাড়িয়ে দেয় শিশুটির ভাবনার জগৎও। সে বুঝতে পারে—প্রকৃতি, জলবায়ু এর প্রধান কারণ। জলবায়ুর ওপরই তাদের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। জলবায়ু সম্পর্কে এই আগ্রহ থেকেই পরবর্তীকালে লেখক হয়ে ওঠা এলস লেখেন বেশ কিছু গল্প। মানুষের জীবনে জলবায়ুর প্রভাব, একে কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে লেখা তাঁর গল্পের সংকলন ‘নিয়ারলি কারটেইনস’ জিতে নিয়েছে এ বছরের ১০ হাজার ডলার অর্থমূল্যের অস্ট্রেলিয়ার রিচেল প্রাইজ। উদীয়মান লেখকদের এ পুরস্কার দেওয়া হয় হ্যাচেট অস্ট্রেলিয়া, গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়া ও এমার্জিং রাইটারস ফেস্টিভালের যৌথ আয়োজনে।

জয়েসকে স্বদেশে ফেরানোর উদ্যোগ

আইরিশ লেখক জেমস জয়েস মারা যান ১৯৪১ সালের ১৩ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে। ওই সময়ে আয়ারল্যান্ড সরকারের ওপর ক্যাথলিক চার্চের ছিল ব্যাপক প্রভাব। জয়েস ছিলেন গির্জার কট্টর সমালোচক। গির্জার বাধার কারণেই সে সময় জয়েসের মরদেহ আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁকে সমাহিত করা হয় জুরিখে তাঁর স্ত্রী নোরা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। তাই দাবি উঠেছে জয়েসের দেহাবশেষ বা কবর আয়ারল্যান্ডে ফিরিয়ে নেওয়ার। ইউলিসিসখ্যাত ২০ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক জয়েসের জন্ম ১৮৮২ সালে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের পাশেই র‌্যাটগার এলাকায়। সম্প্রতি ডাবলিন কাউন্সিল কমিটি আয়ারল্যান্ড সরকারের কাছে একটি আবেদন করেছে তাঁর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। কাউন্সিলর ডারমট লেসি বলেন, ‘অতীতে যাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।’ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউলিসিস প্রকাশের ১০০ বছর পূর্ণ হবে। উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এর আগেই জয়েসকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু ডাবলিনবাসীর যুক্তি, ‘ইউলিসিস’, ‘ফিনেগানস ওয়েক’ ও ‘ডাবলিনারস’—এসব বইয়ে আইরিশ রাজধানীকে ঘিরেই জয়েসের কল্পনার জগৎ ঘুরে বেড়িয়েছে। ডাবলিন সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে যদি শহরটি ধ্বংস হয়ে যেত, তাহলে জয়েসের শব্দ দিয়ে বোনা জগৎ থেকেই ডাবলিন পুনর্গঠিত হতে পারত।                                                                                   রিয়াজ মিলটন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা