kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

লে খা র ই শ কু ল

ভূমিদাস প্রথা বিলোপের প্রবক্তা আলেকজান্ডার হারজেন

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভূমিদাস প্রথা বিলোপের প্রবক্তা আলেকজান্ডার হারজেন

রাশিয়ার লেখক এবং ‘রুশ সমাজতন্ত্রের পিতা’ বলে পরিচিত আলেকজান্ডার হারজেন কৃষিবিষয়ক লোকানুবর্তিতার প্রবর্তকদেরও অন্যতম। ১৮৬১ সালের ভূমিদাস মুক্তির পেছনে তাঁর অবদান সবার অনস্বীকার্য। তাঁর সময়ের চলমান সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে লেখেন উপন্যাস ‘হু ইজ টু ব্লেইম’। আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘মাই পাস্ট অ্যান্ড থটস’কে মনে করা হয় শ্রেষ্ঠ রুশ কথাসাহিত্যের অন্যতম। ‘নোটস অব আ ইয়াংম্যান’, ‘ড. ক্রুপভ’, ‘ফ্রম দি আদার শোর’, লেটারস ফ্রম ফ্রান্স অ্যান্ড ইতালি’ও যথারীতি পাঠকপ্রিয়। 

১৮৫৩ সালে লন্ডনে ফ্রি রাশান প্রেস নামে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে প্রকাশ করা বইপত্রের মাধ্যমে রাশিয়ার কৃষক সম্প্রদায়ের অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করেন। রাশিয়ার প্রথম স্বাধীন রাজনৈতিক প্রকাশক হিসেবে হারজেন প্রথম প্রকাশ করা শুরু করেন ‘দ্য পোলার স্টার’। এ ম্যাগাজিনটির প্রকাশনা অনিয়মিত চলতে থাকে। কিছুদিন পর ‘দ্য বেল’ নামে আরেকটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে শুরু করেন। গোপনে প্রচারের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এসব ম্যাগাজিন। 

প্রকাশের প্রথম তিন বছর এক কপিও বিক্রি করেননি তাঁর ম্যাগাজিন। রাশিয়ায়ও সহজে বিতরণ করতে পারেননি। সম্রাট নিকোলাসের মৃত্যুর পর অবস্থা আমূল বদলে যায়। হারজেনের নিজের লেখা এবং তাঁর প্রেস থেকে প্রকাশিত ও সম্পাদিত সব ম্যাগাজিন রাশিয়ায় পাইকারি দরে বিক্রি শুরু হয়। নিজের লেখা এবং তাঁর সম্পাদনায় অন্যদের লেখা গোটা রাশিয়া এবং ইউরোপের অন্যান্য এলাকায় প্রতিধ্বনি তুলতে থাকে। তাঁর সম্পর্কে তলস্তয় বলেন, তিনি আর কারো মধ্যে উজ্জ্বল মেধা ও গভীরতার এমন বিরল সম্মিলন দেখেননি। বিশ শতকের ব্রিটিশ দার্শনিক ইসাইয়া বারলিন হারজেনকে গুরু মানেন। বিমূর্ততার পায়ের তলার বেদিতে মানবতার আত্মবলিদান, ভবিষ্যতের গৌরবোজ্জ্বল স্বপ্নের জন্য ব্যক্তির সুখ-দুঃখ বিসর্জন—এসব বিষয় হারজেন অপছন্দ করতেন। বারলিন মনে করেন, হারজেনের আত্মজীবনীমূলক লেখা রাশিয়ার সাহিত্যের অন্যান্য বিশাল অর্জনের সমতুল্য। চেক-ব্রিটিশ নাট্যকার টম স্টপার্ডের নাট্যত্রয়ী ‘দ্য কোস্ট অব ইউটোপিয়া’র পটভূমি তৈরি হয়েছে রাশিয়ার সমাজতন্ত্র-ভাবনার প্রাথমিক স্তরের অবস্থা নিয়ে। নাট্যত্রয়ীতে লেখক হারজেন, অরাজকতা সৃষ্টিকারী মিখাইল বাকুনিন, সাহিত্য সমালোচক ভিসারিওন বেলিনস্কি, কথাসাহিত্যিক ইভান তুর্গেনেভসহ ওই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আরো একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতি আছে। তবে তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হারজেনের জীবনীর ওপর।

উদার নীতির এবং আমূল সংস্কারবাদী—উভয় পক্ষের লোকেরাই হারজেনকে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন। উদার নীতির সমর্থকরা মনে করতেন, যুক্তির হেগেলীয় দৃষ্টি অনুসারে রাশিয়ার সমাজ বিবর্তনের মাধ্যমে আদর্শরূপ লাভ করবে। অন্যদিকে সংস্কারবাদীরা চেয়েছেন, হারজেন যেন তাঁর ‘দ্য বেল’ ম্যাগাজিন হিংস্র সংস্কারবাদের মুখপত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু হারজেন মনে করতেন, তাঁদের মধ্যে তখনো যথেষ্ট ঐক্য তৈরি হয়নি। তিনি তাঁদেন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘তোমরা সুখ চাও? সুখ জয় করে নিতে হয়। যদি জয় করার মতো শক্তি থাকে, তাহলে জয় করে নাও। আর যদি দুর্বল হয়ে থাকো, তাহলে সতর্ক হয়ে কথা বলো।’

১৮৭০ সালে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে প্যারিসে মারা যান আলেকজান্ডার হারজেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা