kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মহাদেব সাহার দুটি কবিতা

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিসর্গের ছায়া

এই নিসর্গের ছায়া জুড়ায় আমার প্রাণ, জলধারা

                  মেটায় পিপাসা,

আমাকে মোহিত করে পাখির মরমিকণ্ঠ

আগলে রাখে হরিণের ত্রস্ত চোখ,

            মুগ্ধ করে জোনাকির জাদু;

 

উদ্ভিদ, ওষুধি আমাকে সুস্থতা দেয়, সস্নেহে জড়িয়ে রাখে

                  বৃক্ষের ব্যাকুল বাহু,

মেঘদল দেয় শান্তিবারি, আমাকে উদ্বুদ্ধ করে নদীর কল্লোল

লতাগুল্ম, পুষ্প দেয় আনন্দসৌরভ;

 

শরিশশির অন্তরে জাগায় শিহরণ, বনভূমি করে

                        রোমাঞ্চিত,

আমাকে পরম স্নেহে ধরে রাখে প্রকৃতির প্রসারিত হাত, লালন করে উদার

                               আকাশ।

 

ভেবেছিলাম

 

ভেবেছিলাম, পাখির কণ্ঠ মুখস্থ করব, নদীর কল্লোল

                  তুলে আনব গলায়,

চোখে ভরে আনব দিঘির ছায়া

বনভূমির নির্জন শব্দ গেঁথে রাখব মনে

হলো না, পাখির কণ্ঠ ভুলে গেলাম, দিঘির ছায়া

                  হারিয়ে ফেললাম;

 

ভেবেছিলাম, আহরণ করব বনের মাধুর্য

ফুলের গন্ধ সংগ্রহ করে রাখব বুকের মধ্যে

তক্ষশিলার প্রত্নমুদ্রা সাজিয়ে রাখব দুহাতে,

নায়াগ্রার জলশব্দ গ্রথিত করব,

তার কিছুই হলো না, বনের মাধুর্য হারিয়ে ফেললাম, প্রত্নমুদ্রা

                        খুইয়ে ফেললাম;

 

ভেবেছিলাম, নক্ষত্রের নৃত্যকলা ধরে রাখব, পাহাড়ের

                  স্তব্ধতা টেপ করব,

সর্ষের সৌরভ সংগ্রহ করব,

বৃষ্টি ও ঝরনাধারা আয়ত্ত করব সহস্র বছর

হলো না, কিছুই হলো না, পাঠশালার প্রথম পাঠের মতো

                  সেসব হারিয়ে ফেললাম।


আমি এখন

কামরুল আলম সিদ্দিকী

 

যে মাঠে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে সন্ধ্যা দেখি,

সূর্যাস্তের মায়া দেখি বিধুরের রঙে;

বিকেলের ছায়া দেখি, দেখি মুখ মেকি

স্বপ্নের মায়া আমার আমারই সঙ্গে।

পূর্বপুরুষেরা ছিল এইখানে হন্যে,

জীবনের বাজি রেখে বীজ বুনে কেন্

আমারই আত্মাফুল পৃথিবীর জন্যে

এই মাঠে একদিন ফুটিয়ে গেলেন!

 

আমি এখন সময় চাবুকের রক্তে

ভিজলেও এ বিকেল খুব ভালোবাসি।

বাতাসের বিপরীতে প্রতি অক্তে অক্তে

আমিও বুনেছি বীজ আত্মজার হাসি।

আমার উত্তরপুরুষেরা ভোরবাসী,

অস্ত-উদয়ের মাঝে আমি কাঁদি-হাসি!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা