kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

লে খা র ই শ কু ল

কোনো সোভিয়েত লেখকই দেশের বাইরে থাকতে চান না : মিখাইল বুলগাকফ

দুলাল আল মনসুর   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোনো সোভিয়েত লেখকই দেশের বাইরে থাকতে চান না : মিখাইল বুলগাকফ

বিশ শতকের প্রথমার্ধের রুশ নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক এবং জীবনীকার মিখাইল বুলগাকফ। জন্ম ১৮৯১ সালে। বিশ শতকের সেরা উপন্যাসগুলোর অন্যতম মনে করা হয় তাঁর ‘দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা’কে। ছেলেবেলায়ই নাটকের প্রতি তাঁর টান তৈরি হয়। বাড়িতে কমেডি লিখতেন এবং সেগুলোতে তাঁর ভাই-বোনরা অভিনয় করতেন। তাঁর লেখকমানস তৈরিতে পরিবারের ভূমিকা সম্পর্কে বুলগাকফ বলেন, মায়ের বংশের পূর্বপুরুষরা এসেছেন যাযাবর তাতারদের বংশ থেকে। কোনো কোনো লেখার ওপর মায়ের পূর্বপুরুষদের পরিচয়ের প্রভাব আছে বলেও মনে করেন তিনি। ১৯০১ সালে বুলগাকফ ফার্স্ট কিয়েভ জিমনেসিয়ামে ভর্তি হন। শিক্ষকরা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন তাঁর সাহিত্যরুচি তৈরিতে। সেখান থেকেই রুশ সাহিত্য, ইউরোপীয় সাহিত্য এবং নাটকের প্রতি আগ্রহ জন্মে। তখন তাঁর প্রিয় লেখক ছিলেন গোগল, পুশকিন, দস্তয়েভস্কি, সালতিকভ, ডিকেন্স প্রমুখ। ১৯০৯ সালে জিমনেসিয়াম থেকে স্নাতক করার পর কিয়েভ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিত্সাবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সঙ্গে পাঠ শেষ করেন। চিকিত্সকজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে  লেখেন ‘পল্লী চিকিত্সকের নোটবই’। লেখালেখির শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল। এ সম্পর্কে জানান, ‘১৯১৯ সালে একবার এক রাতের ট্রেনে ভ্রমণ করছিলাম। ট্রেনে বসেই একটা ছোটগল্প লিখে ফেললাম। আমার গন্তব্যের শহরে ট্রেন থামার পর সেখানকার এক পত্রিকা অফিসে নিয়ে গেলাম গল্প। গল্পটি ছাপা হয় সেই পত্রিকায়।’ সে বছরই ‘আত্মরক্ষা’ এবং ‘টারবাইন ব্রাদার্স’ নামে দুটি নাটক লেখেন। নাটক দুটির মঞ্চায়ন হয় ভ্লাদিকাভসকার সিটি থিয়েটারে।

১৯২৮ সাল থেকে লেখা শুরু করেন তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা’। তবে এ উপন্যাসটি প্রকাশ করা হয় তাঁর মৃত্যুর ২৬ বছর পর, ১৯৬৬ সালে। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অবস্থা দেখে লেখক হিসেবে নিজের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে হতাশ হয়ে ১৯৩০ সালে এ উপন্যাসের খসড়া পাণ্ডুলিপি তিনি পুড়িয়ে ফেলেন। এরপর আবার স্মৃতি থেকে লিখে শেষ করেন এটি। সোভিয়েত সমাজ এবং এর সাহিত্যিক উত্থান সম্পর্কিত সমালোচনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ উপন্যাস। অন্তর্নিহিত দার্শনিক স্বর এবং উচ্চমার্গীয় শৈল্পিক গুণের কারণে বোদ্ধা পাঠকদের কাছে আদরণীয় হয়ে ওঠে এ উপন্যাস। দুটি ভিন্ন, তবে সম্পর্কযুক্ত সময়ের আখ্যান স্থান পেয়েছে এ উপন্যাসের কাঠামোতে। নিউ টেস্টামেন্টের ব্যাখ্যা এবং সমসাময়িক মস্কোর বর্ণনা ব্যবহার করে কাহিনি সাজান বুলগাকফ। যিশুখ্রিস্টের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এক আলাপে মত্ত হন এক কবি এবং এক সমালোচক। গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের এই আলোচনায় হাজির হয় শয়তান। আলোচনা শেষ পর্যন্ত সমাজতন্ত্র এবং সোভিয়েত রাশিয়ার দুর্নীতি সর্বজনস্বীকৃত অভিযোগে পরিণত হয়।

লেখক হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নে কোনো ভূমিকা না রাখতে পারলে দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান—এমন হতাশা প্রকাশ করে প্রথমে স্তালিনকে একটা ব্যক্তিগত চিঠি লেখেন। পরে সোভিয়েত সরকারকেও লেখেন। এরপর স্তালিনের টেলিফোন পান বুলগাকফ। তিনি জানতে চান, লেখক সত্যিই দেশ ত্যাগ করতে চান কি না। উত্তরে বুলগাকফ জানান, কোনো সোভিয়েত লেখকই দেশের বাইরে থাকতে চান না। তখন স্তালিন তাঁকে আর্ট থিয়েটারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। ১৯৩০ সালের ১০ মে তিনি সহকারী নির্দেশক হিসেবে আবার কাজ শুরু করেন। পরে মঞ্চের জন্য গোগলের ‘ডেড সৌল’-এর নাট্যরূপ দেন। বুলগাকফ মারা যান ১৯৪০ সালে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা