kalerkantho

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

‘মুই তো বুইঝতে পারছি না মহারাজ। তবে এইটা যে মনপাগলা ঘেরান বুইঝতে পারছি।’ ইতস্তত করে হরনাথ বলল।

‘আমিও তা-ই ভাবছি হরনাথ।’ মহারাজ শান্তনু হরনাথের কাছে অনেক সহজ এখন। এই কদিনে তাঁর গাম্ভীর্য, তাঁর রাজকীয় চালচলন, এমনকি তাঁর বলার ভঙ্গিটাও পালটে গেছে। এই সাত-আট দিনের মধ্যে এমন কী হয়ে গেল যে রাজার বোলচাল একেবারেই বদলে গেল! শান্তনু বুঝতে পারে না।

মহারাজ যেখানে বুঝতে পারেন না, সাধারণ হরনাথ কোত্থেকে বুঝবে? সাধারণ মানুষ ও রকমই। ভয় দেখালে ত্রস্ত সান্নিধ্য দিলে নির্ভয়। হরনাথের বেলায়ও হয়েছে তা-ই। এই কদিন মহারাজ শান্তনুর সহজ সান্নিধ্য পেয়ে হরনাথের ভয়ডর কেটে গেছে।

তাই সহজ গলায় হরনাথ বলে, এইটা মইত্তের গন্ধ নয় কো মহারাজ, মোর মনে লয়, এ স্বগ্গ থেকে ভেইসে আসা সুঘ্রাণ।’ মহারাজ মনে মনে বললেন, ধুর পাগলা, এই মাঝনদীতে স্বর্গের সুগন্ধ আসবে কেন? ওই গন্ধ তো দেবতাদের জন্য। স্পষ্ট করে বললেন, এ যেনতেন সুবাস নয়। লৌকিক সুগন্ধও নয় যেন। আমার মনে হচ্ছে এই সুঘ্রাণের পেছনে কোনো কার্যকারণ আছে।’ হরনাথ মাথা চুলকিয়ে নিশ্চুপ হয়ে থাকে।

রাজা বলেন, ‘কী হরনাথ, চুপ করে রইলে যে?’

‘কী বইলব মহারাজ, খুঁইজে পাই না।’

‘কী খুঁজে পাও না?’

‘উত্তর খুঁইজে পাই না।’

মহারাজ এবার হেসে উঠলেন। হঠাৎ যেমন হেসে উঠেছেন, তেমনি হঠাৎ থেমে গেলেন। পুব দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন। ওদিক থেকেই বাতাস বইছিল। বাতাসে মনমাতানো সৌরভ। শান্তনু মুখটা একটু উঁচু করলেন। চোখ বুজলেন। তারপর নাসিকারন্ধ্র দিয়ে সেই সুঘ্রাণঋদ্ধ সমীরণ বুক ভরে টেনে নিলেন। রাজার ভেতরটায় সুমধুর সুগন্ধে আমোদিত হয়ে উঠল। তাঁর মনের সব চঞ্চলতা সহসা দূরীভূত হয়ে গেল। সবাইকে, সব কিছুকে তাঁর ভালো লাগতে শুরু হলো। রুচি স্নিগ্ধ গাঢ় সুবাতাস তাঁকে ঘিরে আবর্তিত হতে লাগল। রাজা কিছু সময়ের জন্য বিহ্বল হলেন। সংবিতে ফিরতে একটু সময় নিলেন তিনি।

তারপর মহারাজ শান্তনু বললেন, ‘এর তো সন্ধান করা দরকার।’ মহারাজের একটু আগের অবস্থা দেখে হরনাথ মনে মনে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। কী ব্যাপার, রাজামশাই এ রকম করছেন কেন? এ রকম করে চোখ-মুখ উল্টিয়ে নাক দিয়ে ওভাবে বাতাসই বা টানছেন কেন? এ রকম পাগলা পাগলা লাগছে কেন মহারাজ শান্তনুকে? হায় হায়, কিছু একটা হলো নাকি রাজামশাইয়ের? কোনো অসুখবিসুখ? হা ঈশ্বর, রাজার যদি কিছু হয়, তাহলে বেভুলা নদীর মাঝখানে আমি কী করব ঈশ্বর? রাজার সব দায়ভার আমার ওপরে দিয়েই তো পাঠানো হয়েছে আমায়। আহা রাজামশাইয়ের যদি কোনো অনিষ্ট হয়, তাহলে আমার দেহে তো মাথা থাকবে না ভগবান। এই রকম যখন ভাবছে হরনাথ, ঠিক ওই সময় মহারাজ কথা বলে উঠলেন।

মহারাজের স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনে হরনাথের বুক আনন্দে ভরে উঠল। কী বলবে প্রথমে দিশা পেল না হরনাথ। নিজেকে সংযত করে হরনাথ বলল, ‘কিসের সন্ধানের কথা বইলছেন মহারাজ?’

‘এই যে সুঘ্রাণ, কোথা থেকে আসছে তার সুলুকসন্ধান করা দরকার।’

‘বাতাইসের ওপর ভর কইরে যে ঘেরান ভেইসে আইসতেছে তার সন্ধান কি লওয়া যাইবে মহারাজ?’

‘যাবে না কেন? নিশ্চয় নেওয়া যাবে।’

‘কী কইরে মহারাজ। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বুইঝতে পারছি না।’

মহারাজ শান্তভাবে বললেন, ‘দেখো হরনাথ, কোনো না, কোনো আধার থেকে এই গন্ধ আসছে, সেই আধারটাই খুঁজে বের করতে হবে।’ ‘আধার! আধার অর্থ কী মহারাজ। হরনাথ জানে আধার মানে খাদ্য। মাছের খাদ্য, পাখির দানাপানিকে আধার বলে। সে কিছুতেই মেলাতে পারছিল না মাছ বা পাখির খাদ্যের সঙ্গে ওই সুঘ্রাণের সম্পর্ক কী? তাই তার এ রকম হতবিহ্বল প্রশ্ন।

মহারাজ শান্তনু না হেসে পারলেন না। বললেন, ‘হরনাথ, আধার মানে পাত্র, উৎসস্থল। কোনো বস্তু বা স্থান থেকে এই পাগলকরা সুবাস ভেসে আসছে, তার খোঁজ নেওয়ার কথা বলছি আমি।’ হরনাথ বেশ লজ্জা পেল। এত সামান্য জ্ঞান তার?

গরিব ঘরে জন্ম। মাথা তোলা হলেই বাপ তাকে নাও-দাঁড়-নদী—এসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। মুনিঋষি বা রাজাগজার মতো তো সে গুরুর কাছে যেতে পারেনি। ওসব তো তাদের মতো মানুষদের জন্য নিষেধ। লেখাপড়া, ধর্মপাঠ শাস্ত্রালোচনা—এসব তো ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণের জন্য তোলা। সেখানে তো মাজিমাল্লা কৈবর্তদের ঠাঁই নেই। তাইতো তার জ্ঞান এত সীমিত। তার মতো আরো অনেক মাঝি আর কৈবর্তের জীবন-মরণ, নৌকা-জাল আর জলে গণ্ডিবদ্ধ থেকে গেছে। তাদের জীবনে তো জ্ঞানের আলো ঢোকেনি কখনো। রাজামশাই ভাগ্যিস তাকে বোকা মূর্খ ডাকেননি। ডাকলেও কী করত হরনাথ! আসলে তো সে মূর্খই।

‘এতক্ষণে বুঝতে পারছি মহারাজ। মরমে ম্রিয়মাণ হয়ে বলল হরনাথ।’ তারপর বলল, ‘আপনি বুদ্ধি দেন মহারাজ। যেই রকম বুদ্ধি দেবেন, সেই রকম কাজ কইরব।’

‘তুমি এক কাজ করো হরনাথ। বজরার গতি কমাও। হালে গিয়ে বসো। সোজা পূর্ব দিক ধরে চালাও। আমি বুঝতে পারছি সুগন্ধের উৎসস্থান খুব বেশি দূরে নয়। কারণ বজরা যত পূর্ব দিকে এগোছে, সুঘ্রাণ তত তীব্র হচ্ছে।’

সসংকোচে মহারাজের মতো করেই নাকটা একটু উঁচু করল হরনাথ। কী বুঝল কে জানে। তবে তার চোখ-মুখ দেখে মনে হলো—মহারাজের কথা যথার্থ। সুগন্ধ আগের চেয়ে কড়া। এক পা-দুই পা করে সে হালের দিকে এগিয়ে গেল। মথুরের হাত থেকে হালের দখল নিল। মথুরকে কী যেন একটা নির্দেশ দিল হরনাথ।

বজরা সোজা পূর্বমুখী হয়ে চলতে লাগল। বজরা যত এগোয়, সুগন্ধ তত বাড়ে। সুগন্ধ যত বাড়ে, শান্তনুর হৃদয়টা তত আলোড়িত হয়। মহারাজ একবার এদিক, আরেকবার ওদিক তাকান। দূরে-কাছে জেলেরা জাল ফেলেছে যমুনায়। মাছ ধরায় ব্যস্ত কৈবর্তরা। ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে দু-একজন মাথা তুলে তাকায়। বলে, ওই দেখ বড়লোকের বজরা যায়।’

অন্যজন বলে, নিশ্চয় বাণিজ্যের নৌকা। নইলে এত বড় কেন? প্রথমজন বলে, ‘ঠিক কয়েছ তুমি। বাণিজ্য নাও বলি মনে লয়।’

কৈবর্তরা ভাবতে পারে না—এ কুরু অধিপতি শান্তনুর বজরা। ভাববে কী করে? যদি মহারাজার বজরা হয়, তাহলে শানশওকত কই, গোটা বজরা জুড়ে রঙিন পতাকার পতপতানি কই? ঢোল-বাদ্যি কই? সৈন্যসামন্ত কই? বজরা ঘিরে নৌসেনারা কই?

কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকানোর পর কাজে মন দেয় কৈবর্তরা। আজ যে যমুনায় মাছ বেশি।

বাম পাশের কূল ধরে বজরা এগোয়। ওই কূলে চর পড়েছে। এ কূলের দিকে যমুনা গহিন। বজরার স্বচ্ছন্দে এগোনোর জন্য বাম ধারটাই অনুকূল। ওকূল দিগন্তে হারা। একূল দৃষ্টিগ্রাহ্য। কুলজোড়া শস্যক্ষেত। ফলে-ফুলে ভরা। পারে পারে বনবনানী। মাঝেমধ্যে বসতি। একটি-দুটি খেয়াঘাট। বজরা এসব অতিক্রম করে এগোয়। নিচ থেকে বেসে আসে দাঁড়ের শব্দ—ঝুপ ঝুপ।

রাজা শান্তনু চোখ বন্ধ করলেন। তিনি জানেন, চোখ বন্ধ করলে অন্যান্য ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শ্রবণ-ইন্দ্রিয় আর ঘ্রাণ-ইন্দ্রিয় অধিকতর সতর্ক হয়। তাই চোখ বুজে ঘ্রাণশক্তি বাড়াতে চাইলেন মহারাজ। বাড়লও। তাঁর নাসিকা দিয়ে আগের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুবাস ঢুকছে। এ গন্ধ গোলাপের নয়, এ গন্ধ জুঁই ফুলের নয়, এ গন্ধ রজনীগন্ধারও নয়। এ এক অবিমিস্ত্র সুবাস। এ গন্ধ কারুকার্যময়। এ গন্ধ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, এ গন্ধ অন্তর্ভেদী। বজরা এগোয়, রাজা নিমজ্জিত হতে থাকেন সুঘ্রাণ সমুদ্রে। রাজা আত্মহারা হতে থাকেন, আলোড়িত হতে থাকেন।

হঠাৎ সুগন্ধ বন্ধ হয়ে গেল। চট করে চোখ খুললেন শান্তনু। দেখলেন একটা খেয়াঘাট এইমাত্র অতিক্রম করে এলো বজরাটি। যেই না অতিক্রম করল, অমনি সুগন্ধ তিরোহিত হলো।

বিচলিত কণ্ঠে রাজা বলে উঠলেন, ‘থামাও থামাও।

ফিরাও ফিরাও।’

এতক্ষণ হরনাথ একমনে বজরার গতি ঠিক রাখছিল। অন্য কিছুতে বেখেয়ালে মগ্ন ছিল হরনাথ। এই স্থানে যমুনা সংকুচিত বটে, কিন্তু গহিন। গহিনতার কারণে নৌচালনায় হরনাথ একটু কম মনোযোগী ছিল। দেখছিল সে ঘাটপাট মানুষজন। ওই সময় রাজাদেশ কানের কাছে ঝাঁপিয়ে পড়ল— থামাও, ফিরাও। হরনাথ জোরগলায় হুংকার দিল। দাঁড় বাওয়া বন্ধ করো মাল্লারা। মাল্লারা দাঁড় থামাল। ধীরলয়ে বজরার গতি কমে এলো। হরনাথ কৌশলে বজরার মুখ ঘোরাল। ফেলে আসা পথের দিকে বজরার মুখ করে হরনাথ উঁচু গলায় বলল, ‘দাঁড় ফেল জলে। বাইবে ধীরে।’

মাল্লারা বুঝে গেল হরনাথের কথার মানে। অতি ধীর গতিতে বজরা এগোতে লাগল।

রাজা শান্তনু পাটাতনে দণ্ডায়মান। অস্থির অস্থির লাগছে তাঁকে। বাতাসে মুখ তুলে ঘন ঘন শ্বাস টানছেন। জলের মাছ ডাঙায় তুললে যে অবস্থা হয়, রাজারও সে রকম দশা। চাঞ্চল্য তাঁকে ঘিরে ধরেছে। একবার এদিক, আরেকবার ওদিক করতে লাগলেন শান্তনু। আসার সময় যমুনার যে তীর বজরার বাম পাশে ছিল, পেছনে ফেরার পর সে তীর ডান দিকের হয়ে গেল। এগোতে এগোতে একটা খেয়াঘাট পড়ল। যে-ই না ঘাট অতিক্রম করল বজরা অমনি পূর্বের সুঘ্রাণ ঝাঁপিয়ে পড়ল রাজার নাসিকারন্ধ্রজুড়ে।

রাজা শান্তনু পুনরায় চিত্কার করে উঠলেন, ‘থামাও, থামাও। বজরা থামানো হলো। নোঙর ফেলা হলো।

ইশারায় রাজা শান্তনু হরনাথকে কাছে ডাকলেন। কাছে এলে হরনাথকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘এখানেই হবে সেই সুগন্ধের উৎস।’

হরনাথ বোকার মতো প্রশ্ন করে বসল, ‘যমুনা নদীর এই জলের মধ্যে ঘেরানের আধার কোথায়? নতুন শেখা শব্দটি ব্যবহার করতে পেরে হরনাথ পুলক অনুভব করল।’

‘দূর বোকা’ বলে চিত্কার করে উঠতে ইচ্ছে করল শান্তনুর। করলেন না। ভাবলেন—মূর্খ মানুষ! ওর বোঝার ক্ষমতাই বা কদ্দুর?

নিজেকে সংযত করলেন রাজা। বললেন, ‘জলের মধ্যে সুঘ্রাণের উৎসস্থল নয়, জানি হরনাথ। কিন্তু ডাঙায় তো হবে। দেখো আমাদের ডান পাশে খেয়াঘাট দেখা যাচ্ছে একটা। পানসিও বাঁধা কয়েকটি। ঘাটের এখানে-ওখানে দু-চারজন মানুষজনও যে নেই, এমন তো নয়। দেখো, দেখো, ভালো করে দেখো পানসির ওপর দু-একজন মাঝিকেও দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে—ওই খেয়াঘাট অথবা তার আশপাশের কোথাও থেকে সুগন্ধটা ভেসে আসছে। হরনাথ আর কী বলবে! রাজা যা বলছেন, তা-ই তো মেনে নেওয়া উচিত হরনাথের।

হরনাথ মাথা ওপরে-নিচে নেড়ে বলল, ‘আপনার আন্দাজ সইত্য বইলে মনে হইচ্ছে রাজামশাই।’ আমার অনুমান মিথ্যা হতে পারে না হরনাথ। তুমি এক কাজ করো হরনাথ। বললেন শান্তনু।

হরনাথ বিনীত মুখটা তুলে মহারাজের দিকে তাকাল। তার চোক-মুখ জানতে চাইছে—কী কাজ মহারাজ?

রাজা আবার বললেন, ‘পেছন দিকে বজরার গায়ে রশি বাঁধা ছোট্ট একটা নৌকা আছে না? দেখেছি আমি।’

হরনাথ বলল, ‘মোরা ওই রকম নাওরে কটি নাও কই।’

অই কটি নৌকাটাই জলে নামাও হরনাথ। দুজন মাল্লা সঙ্গে নাও।

ঠিক আছে মহারাজ। আমি ওদের সঙ্গে কূলে যাচ্ছি। বলল, হরনাথ।

রাজা বলে উঠলেন, শুধু তুমি যাবে কী! আমিও সঙ্গে যাব তোমার।

‘আপনিও যাবেন মহারাজ! আপনার নিরাপত্তা!’ ভড়কানো গলায় বলল হরনাথ। রাজা অস্থির কণ্ঠে বললেন, ‘আমি যাব তো বটেই। আমি না গেলে জানব কী করে সুগন্ধের উৎসকথা।’ একটু থামলেন রাজা। তারপর বললেন, ‘তুমি আমার নিরাপত্তার কথা বলছে, আচ্ছা একটু দাঁড়াও, আমি কক্ষ থেকে ফিরে আসছি। বলে নিজ কক্ষে চলে গেলেন শান্তনু। ইত্যবসরে কটি নৌকাটি নামানো হলো। গাট্টাগোট্টা ধরনের দুজন মাল্লা নৌকাটিতে উঠে বসল। হরনাথ কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করতে লাগল। রাজা শান্তনু কক্ষ থেকে যখন বেরিয়ে এলেন, তাঁকে চেনা দায়। রাজার বসন-ভূষণ সব ত্যাগ করেছেন তিনি। পরেছেন সাধারণ মানুষের পোশাক। তার পরও ওই সাধারণ পোশাক ভেদ করে রাজদেহের গৌরকান্তি জানান দিচ্ছে—তিনি বনেদি কেউ, রাজবংশের কেউ।

চলবে

মন্তব্য