kalerkantho

লে খা র ই শ কু ল

রাশিয়ার প্রথম জাতীয় সংগীত লেখেন গ্যাভ্রিল দারজাভিন

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার প্রথম জাতীয় সংগীত লেখেন গ্যাভ্রিল দারজাভিন

‘সময়ের নদী ভাসিয়ে নিয়ে যাবে/মানুষের সকল কীর্তি/সকল জাতি, সকল রাজ্য, সকল রাজরাজন্য/ডুবে যাবে বিস্মৃতির অতল তলে’—এ কথাগুলো উচ্চারণ করেন পুশকিনপূর্ব রুশ কবিতার সবচেয়ে সম্মানিত কবি গ্যাভ্রিল রোমানোভিচ দারজাভিন। তাঁর কবিতার ধ্রুপদি পরিচয়ের মধ্যেও প্রকাশ পায় দ্বন্দ্বমুখর ধ্বনি ও প্রকাশভঙ্গির কিছু আপাত-স্ববিরোধিতা। এ কারণে জন ডানসহ আরো কয়েকজন মেটাফিজিক্যাল কবির কথা মনে করিয়ে দেয় তাঁর কাব্যশৈলী। জন্ম রাশিয়ার কাজানের এক ক্ষয়িষ্ণু অভিজাত পরিবারে ১৭৪৩ সালে। জন্মস্থান সম্পর্কে একটি বিতর্কের বিষয় হলো, দারজাভিন মনে করতেন, তাঁর জন্ম কাজানে। সে মোতাবেক কাজানের লোকরা দারজাভিনকে নিয়ে গর্বও করে থাকে। অন্যদিকে অন্যরা মনে করেন, তাঁর জন্ম হয়েছে লাইশেভস্কি কাউন্টিতে তাঁদের কোনো একটি পারিবারিক তালুকে। দারজাভিনের কারণে লাইশেভস্কি ডিস্ট্রিক্টের নাম হয়ে যায় দারজাভিনস্কি ডিস্ট্রিক্ট। 

বয়স যখন আট বছর, তখন তাঁদের পরিবার বর্তমানের কাজাখস্তানের কাছে ওরেনবার্গে চলে যায়। সেখানে এক জার্মান কয়েদি রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণির শিশুদের জার্মান ভাষা শেখান। দারজাভিন তাঁর কাছে জার্মান ভাষা শেখেন। তা ছাড়া কাজানের এক গ্রামার স্কুলে তিনি লাতিন, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষা শেখেন।

তাঁর কবিতায় নানা উপাদানের বিস্ময়কর রকমের মিশ্রণ পাওয়া গেলেও ওস্তাদ কবি হিসেবে কিছুই করেননি তিনি। সাহিত্যরুচির পরিবর্তন কিংবা উন্নয়নের জন্য নতুন কিছু করেননি। কবিতার ভাষা নিয়েও কোনো নিরীক্ষা করেননি। তবে তাঁর কাব্যিক উড্ডয়ন অন্যদের পক্ষে ছিল সত্যিই ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার পরও নিকোলাই নিক্রাসফ পুশকিনকে অনুসরণ না করে বরং দারজাভিনকেই অনুসরণ করেন। দারজাভিনের ভাঙাচোরা ছন্দের প্রবাহ চলে মারিয়া সুয়েতায়েবার বিশ শতকীয় কবিতা পর্যন্ত।

দারজাভিন সুপরিচিত প্রধানত তাঁর অনিয়মিত ছন্দে লেখা গাথা কবিতার জন্য। বিশেষ উদ্দেশ্যে লেখা এই কবিতার অনেকগুলো তিনি সম্রাজ্ঞী ক্যাথরিন এবং তাঁর রাজন্যবর্গকে উৎসর্গ করে লিখেছেন। তাঁর সময়ের প্রচলিত প্রথার দিকে খুব গভীর মনোযোগ দেননি। অনেক গাথা কবিতায় শোক আছে, হালকা রস আছে এবং ব্যঙ্গাত্মক উপাদানও আছে। সম্রাজ্ঞীকে লেখা গাথায় নিজের কবিতাকে লেমোনেডের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

অন্য ক্লাসিক কবিদের সঙ্গে দারজাভিনের কিছু কিছু বিষয়ে পার্থক্য আছে। সতর্কতার সঙ্গে বর্ণনার উপাদান নির্বাচন করেন। যেমন নিজের রুমের ওয়ালপেপারের রং এবং দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে কব্যিক উপকরণ খোঁজেন। বিশ্বাস করেন, ফরাসি ভাষা হলো ঐক্যের ভাষা; আর রুশ ভাষা দ্বন্দ্বের ভাষা। সমধ্বনির শব্দ ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন তিনি। তবে মাঝেমধ্যে বৈচিত্র্যের লক্ষ্যে ভিন্ন ধ্বনির শব্দও ব্যবহার করতেন। রাশিয়ার প্রথম জাতীয় সংগীত ‘গর্জে ওঠো বিজয় বজ্র!’ তিনিই রচনা করেন।

দারজাভিন কিছুদিন সৈনিকের চাকরি করার পর সরকারি কর্মে যোগ দেন। কর্মদক্ষতায় তিনি গভর্নরের পদও পান। এরপর সম্রাজ্ঞীর বক্তিগত সহকারী এবং শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীও হন। ১৮০৩ সালে এসব রাষ্টীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান। তখন কবিতায় পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর সেন্ট পিটার্সবার্গের বাড়িতে মাসে একবার করে ‘রুশ কথা-সমিতির সমর্থক’দের সভার আয়োজন করেন। গ্যাভ্রিল রোমানোভিচ দারজাভিন মারা যান ১৮১৬ সালে।

আল মনসুর

মন্তব্য