kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

বড় সমস্যার সহজ সমাধান পেল শিক্ষার্থীরা

অমিতাভ দাস হিমুন   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় সমস্যার সহজ সমাধান পেল শিক্ষার্থীরা

গাইবান্ধা সরকারি কলেজে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম

হলরুমে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্য থেকে হাত তুললেন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাম্মী আক্তার। শাম্মীর একটি প্রশ্ন আছে। অনুমতি দেন র‌্যাব কমান্ডার আসিফউদদৌলা।

বিজ্ঞাপন

কারণ জবাবটিও যে তাঁকে দিতে হবে। শাম্মী বলেন, ‘আমার অ্যানড্রয়েট মোবাইলটি হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমার ব্যক্তিগত অনেক তথ্য আছে। এখন মোবাইলটি ফিরে পেতে আমার করণীয় কী?’

র‌্যাব কমান্ডার আসিফউদদৌলা এর সহজ উত্তর দেন। ফোন হারালে দ্রুত আইএমইআই নম্বর নিয়ে র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে যেতে হবে। কোনো কারণে চোর কিংবা ছিনতাইকারী সেটটিকে দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ রাখলে সেটটি খোলা হলেই তার সন্ধান বের করা সম্ভব।

শাম্মীর প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই হাত তুলে নতুন প্রশ্ন করেন প্রথম বর্ষের জেমি সুলতানা। তাঁর প্রশ্ন, হ্যাকারদের কবল থেকে ফেসবুক বা মেইল আইডি রক্ষায় করণীয় কী? এই প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাব কমান্ডার বলেন, আইডি বা পিন একটি ব্যক্তিগত বিষয়। এটি কারো সঙ্গে শেয়ার বা কোথাও লিখে রাখবেন না। পাসওয়ার্ড কঠিন করে দিতে হবে। জন্ম তারিখ, রোল নম্বর বা এমন সহজ কিছু দিয়ে পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না। এটি হ্যাকারদের জন্য বের করা একটি সহজাত বিষয়। এ ছাড়া প্রতিটি সেক্টরে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে অবাঞ্ছিত কোনো লিংকে কেউ ঢুকবেন না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক নারী বুলিংয়ের শিকার হন। তাঁদের আইডি থেকে ছবি নিয়ে নতুন আইডি খুলে প্রতারণা করে একটি চক্র। এ ছাড়া ছবি এডিট করে বিভিন্ন অশ্লীল গ্রুপ বা পেজে দেয় তারা। এই ছবি দিয়ে করা হয় ব্ল্যাকমেইল। এ সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন ছিল শুভসংঘের সদস্য শিমু আক্তারের।

এ ক্ষেত্রে র‌্যাব কমান্ডারের পরামর্শ ওই ফেক আইডিটি ব্লক করবেন না। ভুয়া আইডিটির কর্মকাণ্ডের স্ক্রিনশট রাখতে হবে, যাতে তাকে খুঁজে বের করতে সহজ হয়। এ বিষয়ে ওই স্ক্রিনশটসহ সব প্রমাণ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

এই প্রশ্নের উত্তরগুলো কালের কণ্ঠ শুভসংঘ আয়োজিত ‘সাইবার নিরাপত্তা’ বিষয়ক একটি সেমিনারের। গত ১ আগস্ট সোমবার গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সার্বিক সহযোগিতায় শুভসংঘের এই সেমিনারে ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণকর দিকটি অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান অর্জন না করা গেলে পদে পদে হোঁচট খেতে হবে।  

গাইবান্ধা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা শুভসংঘের সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম তালুকদার তুলনার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন র‌্যাব-১৩-এর গাইবান্ধার কমান্ডার এএসপি আসিফউদদৌলা, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান, শুভসংঘের জেলা কমিটির উপদেষ্টা কবি সরোজ দেব, আলোকচিত্র শিল্পী কুদ্দুস আলম, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুর রশিদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সম্পাদক আব্দুর রউফ মিয়া, শুভসংঘের জেলা সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব, সহসভাপতি শিমুল হাওলাদার প্রমুখ।

শুরুতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক শাহরিয়ার রাগিব। অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন শুভসংঘের কেন্দ্রীয় সহক্রীড়া সম্পাদক সামিউল ইসলাম সাকিব, শুভসংঘের জেলা সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, শুভসংঘের বন্ধু দেবী সাহা, জয় কুমার দাস, জান্নাতুল মাওয়া মীম, জুঁই খাতুন তানহা, চয়নিকা আক্তার সীমা, তাহমিদ চৌধুরী, রওশন আলম, ফুয়াদ হাসান, মোরশেদ মারুফ, স্বজন খন্দকার, আহসানিয়া তাসনিম স্নিগ্ধা, তৌফিক মাহমুদ, শরীফুজ্জামান সাগর, আমিনুল ইসলাম আকাশ, সাইদুর রহমান, নাজমুল মোল্লা, আশিকুর রহমান প্রমুখ।

 



সাতদিনের সেরা