kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এতিম অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি ভালোবাসা

জাকারিয়া জামান   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এতিম অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি ভালোবাসা

কল্যাণপুর বস্তির এতিমখানার শিশু এবং আরো কিছু পথশিশুকে শীতের লোশন, লিপজেল এবং খাবার বিতরণ করেন শুভসংঘের বন্ধুরা

রাজধানীর কল্যাণপুর বস্তির ভেতরেই দারুল উলুম এতিমখানা। সব মিলিয়ে কমবেশি ৪০ জন শিশু আছে এখানে। কারো বাবা নেই, কারো মা-বাবা কেউ নেই। ছোট্ট এই শিশুগুলো এখানে কোরআনে হাফেজ হওয়ার জন্য পড়ছে। অন্যের দানের ওপর চলে এতিমখানাটি। তিন বেলার একটু ভালো খাবার জোগাড় করাই যেখানে দুষ্কর, সেখানে এই শিশুগুলোর শরীরের যত্ন নিতে বেশ হিমশিম খান এতিমখানার শিক্ষকরা। শীত পড়া শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে শিশুগুলোর চেহারাও মলিন হচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসে কল্যাণপুর শুভসংঘ বন্ধুদের। কী করা যায় এই শিশুদের জন্য, এমন আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসেন তাঁরা। শিশুদের শীতের সুরক্ষাসামগ্রী দেবেন আর কিছু ভালো খাবার। কাজে লেগে যান শুভসংঘের বন্ধুরা।

গত ২৮ নভেম্বর রবিবার কল্যাণপুর বস্তির সেই এতিমখানার শিশু এবং আরো কিছু পথশিশুকে শীতের লোশন, লিপজেল এবং খাবার বিতরণ করেন শুভসংঘের সদস্যরা। খাবার ও শীতের সুরক্ষাসামগ্রীগুলো পেয়ে কী যে আনন্দ তখন শিশুদের! এমন আনন্দের অংশীদার হতে পেরে গর্ববোধ করেন শুভসংঘের বন্ধুরা। শাখা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক রুবায়েদ হোসেন ফাবী বলেন, ‘এমন মনোমুগ্ধকর দিন আমার জীবনে আর আসেনি। এই এতিম, অসহায় শিশুদের আনন্দ দেখে খুব ভালো লাগছে। আমাদের মতো সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে এই শিশুরাও একদিন সমাজ ও দেশের সম্পদ হবে। তারা ভালো মানুষ হয়ে দেশের সেবা করবে।’

কায়দা পড়া শেষ করে মাত্রই কোরআন পড়া ধরেছে শিশু রাফি, সোহান আর সুমন। তাদের কারোরই বাবা নেই। মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। মাঝেমধ্যে তাদের মায়েরা এসে দেখা করে যান। কিছু খাবারও কিনে দিয়ে যান। শুভসংঘের উপহার পেয়ে তাদের চোখে-মুখে দেখা যায় আনন্দের ঝিলিক। এই শিশুরা বলে, ‘মা আহে মাজে-মইদ্যে। বাইরের কেউ আমাদের এত আদর কহনো করে নাই। আজকে এই ভাইয়েরা আমাদের অনেক উপহার দিছে। প্যাকেটে খাবার দিছে। শীতের সময় লোশন আর মেরিল কাজে লাগব। আল্লার কাছে আমরা হেগো লাইগা দোয়া করি।’

এতিমখানার শিক্ষক মাওলানা ফারুক বলেন, ‘আমরা অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে এতিমখানা চালাই। খাবারদাবার দেওয়ার পরে শিশুদের অন্য যত্ন আসলে তেমন করে চাইলেও নেওয়া কঠিন। আজকে শুভসংঘ তাদের জন্য যে ভালোবাসা দেখাল—এটা অনন্য নজির। সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে এই শিশুরাও যত্নে বেড়ে উঠতে পারবে।’

পুরো আয়োজন সমন্বয় করেন ফাবী, আহাদুজ্জামান কুশল, অর্ণব, ওয়াছিফ, অতনু, শিহাব, উমর, সৌরভ প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা