kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের আয়োজন

২০ হাজার এতিমের জন্য ইফতারি ও সাহরি

অমিতাভ দাশ হিমুন   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০ হাজার এতিমের জন্য ইফতারি ও সাহরি

গাইবান্ধা আর দিনাজপুরের ছয়টি উপজেলার এতিম শিশু-কিশোরদের জন্য রমজানের বিশেষ আয়োজন করছে বেসরকারি সংগঠন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র। ‘ওমরা’ নামে এই মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে ২০ হাজার এতিম পাচ্ছে ইফতারি ও সাহরি। সংগঠনের একজন প্রতিনিধি জানান, বেসরকারি এতিমখানাগুলো মূলত এলাকাবাসীর সাহায্য-সহযোগিতায় চলে। বিশেষ করে রমজানে সিয়াম সাধনা এবং ঈদ উদযাপন করে তারা মানুষের সাহায্যেই। আগে রমজান মাসগুলোতে তারা বাড়িতে বাড়িতে এক একটি দলে বিভক্ত হয়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরির সময় হাজির থাকত। এবার করোনাকালে নানা সংকটে আছে মানুষ। পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। বাইরে থেকে অন্যবারের মতো অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারছে না। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব রক্ষার বিষয়টিও মানছে অনেকে। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বন্ধে বাড়ি চলে গেলেও এতিম শিশু-কিশোরদের যাওয়ার জায়গা নেই। তাদের জন্য মমতার হাত বাড়িয়েছে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র। এতিমখানাগুলোতে প্রতিদিন ইফতারি তৈরি ও রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের দুর্যোগ ও ভাঙনকবলিত এলাকার এতিমখানাগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন জানান, এতিম শিশুরা যাতে নির্বিঘ্নে পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার দিয়ে ইফতার ও সাহরি করতে পারে তাই রমজানের প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এতিমখানাগুলোতে খাবার রান্না হয়। দুর্গম চরাঞ্চলের এতিমখানাগুলোতে নৌকায় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যান সংগঠনের কর্মীরা। সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ও রাজীবপুর, সদরের নশরত্পুর, চকমামরোজপুর ও কাবিলের বাজার, ফুলছড়ির গজারিয়া, ভুষির ভিটা ও কেতকীর হাট, সাঘাটার সাঘাটা বাজার, উত্তর দীঘলকান্দি ও ভূতমারা এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ী এলাকার এতিমখানাগুলোতে একই ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। সাঘাটার চরাঞ্চল উত্তর দীঘলকান্দি এতিমখানার ১০০ জন নিবাসীর মধ্যে ৩০ জন মেয়েশিশু। নৌকায় করে গণ উন্নয়ন কর্মীদের সহযাত্রী হয়ে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, নদীভাঙনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ্তুদুর্দশাকবলিত এলাকার এতিমখানার নিবাসীরা রমজানে ভালো আছে। ছোট্ট বিলকিস, সালেহারা জানায়, মাছ, মাংস, ডিম, সবজি, ডাল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকছে। পাশাপাশি ইফতারে অন্য সব কিছুর সঙ্গে আপেল, কমলা, খেজুর ও আঙুরও দেওয়া হচ্ছে। এই মানবিক উদ্যোগের মূল সংগঠক গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম আবদুস সালাম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে এতিম ও অতি দরিদ্র  শিশুরা যাতে স্নেহ-ভালোবাসা নিয়ে রমজানে সিয়াম সাধনা করতে পারে এবং মানসম্মত খাবার পায় সে জন্যই সাধ্য অনুযায়ী এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছি আমরা।’