kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

প্রিয় শিক্ষক
অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহম্মদ মোকাররম হোসায়েন

পেশাগত জীবনে শিক্ষার্থীদের কখনো প্রাইভেট পড়াননি তিনি

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৫ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেশাগত জীবনে শিক্ষার্থীদের কখনো প্রাইভেট পড়াননি তিনি

কোনো কোনো শিক্ষকের অতীত দিনের পেশাগত জীবনের সততা, নিষ্ঠা, ছাত্রদের প্রতি ভালোবাসা, মেধার কথা জানলে বিস্মিত হতে হয়। শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে এই কৃতী মানুষদের প্রতি। শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা, সম্মান, মহত্ত্ব নতুন করে ভেসে উঠে আসে। অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহম্মদ মোকাররম হোসায়েনের জীবন কাহিনীও অনেকটা তেমন। পেশাগত জীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরিকালীন ঝড়ঝাপটা সামাল দিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। সহকর্মীদের সঙ্গে পথ চলেছেন বন্ধুর মতো। বিস্ময়ের বিষয় হলো, দক্ষ ও স্বনামধন্য ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও তিনি কখনো শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াননি। শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হলে বিনা পারিশ্রমিকেই পরামর্শ দিতেন। প্রফেসর মুহম্মদ মোকাররম হোসায়েন স্যারের নিজের ভাষায়- 'ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা নেব, এটা কখনো ভাবতেই পারিনি।'

প্রফেসর মুহম্মদ মোকাররম হোসায়েনের (৭২) জন্ম ১৯৪২ সালের ১০ জুন। বর্তমান শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার বলাবাড়িতে কাকিলাকুড়া গ্রামে। গ্রামে পারিবারিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত স্কুল ছিল। এ স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে ১৯৫৭ সালে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ কো-অপারেটিভ হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন তিনি। এরপর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে মানবিকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ১৯৫৯ সালে। ভর্তি হন রাজশাহী সরকারি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে। ১৯৬৩ সালে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর করে ১৯৬৪ সালে চাকরি শুরু করেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে। কিছুদিন পর চলে আসেন ঢাকার বদরুন্নেছা কলেজে। ১৯৬৭ সালে কারমাইকেল কলেজ ও পরে সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে যোগ দেন ১৯৭০ সালে। উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য ১৯৭৩ সালে প্রায় ২২ মাস তিনি লেবানন ছিলেন। ১৯৮৯ সালে গফরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। এরপর যোগ দেন নেপে। ১৯৯২ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ ও ১৯৯৪ সালে ফেনী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ টিটি কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দিয়ে এ কলেজ থেকেই ১৯৯৯ সালে অবসর নেন। শিক্ষকতা পেশায় কেন এলেন এ প্রশ্নে মোকাররম হোসায়েন বলেন, 'এম এ কুদ্দুছ নামে আমার এক চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনি জামালপুর কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। আমার সেই ভাই বাড়িতে এলে এলাকার সবাই ওনাকে সম্মান দেখাত। ভাইয়ের চালচলন আর কথাবার্তাও আমাকে আকৃষ্ট করত। এ বিষয়টি আমাকে শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী করে তোলে।'

শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রফেসর মুহম্মদ মোকাররম হোসায়েন মোট ১৯টি বই প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে কবিতার বই ১৭টি, ভ্রমণ কাহিনীবিষয়ক দুটি। এ ছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষকদের জন্য তাঁর একাধিক প্রকাশনা রয়েছে। অবসরজীবনেও তিনি যুক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কাজে। তিনি সচেতন নাগরিক কমিটি ময়মনসিংহের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমানে সদস্য আছেন। ছিলেন রবীন্দ্র পর্ষদের সভাপতি এবং ডেমোক্রেসি ওয়াচের পরামর্শক। শিক্ষকতা পেশায় একসময়ের ব্যস্ত মানুষ অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহম্মদ মোকাররম হোসায়েনের এখন সময় কাটে বই ও পত্রিকা পড়ে এবং টিভি দেখে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা