ফেসবুকে কোনো পোস্ট করলে সঙ্গে ‘এক্স’ শব্দটি জুড়ে দেন তিশমা। তাঁর আপলোড করা বেশির ভাগ ছবির সিগনেচারেই থাকে ‘এক্সও এক্সও তিশমা’। ‘এক্স’ আদ্যক্ষর দিয়ে এর আগে ‘এক্সফ্যাক্টর’, ‘এক্সপেরিমেন্ট’ ও ‘এক্সপেরিমেন্ট রিলোডেড’ শিরোনামে একক অ্যালবাম করেছিলেন। এবার ‘এক্স’ শিরোনামে নিজের ১৪তম একক অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণা দিলেন তিশমা। এত দিন এই ‘এক্স’ রহস্য উদ্ঘাটন না করলেও এবার মুখ মুখলেন গায়িকা, “ছোটবেলায় ম্যাডামদের কেউ কেউ আমাকে ‘এক্স’ ডাকত। আমি নাকি খুব মিস্টেরিয়াস ছিলাম। তখন থেকেই ‘এক্স’ শব্দটার প্রতি একটা ফেসিনেশন হয়ে গেছে।” মোট ১৩টি গান দিয়ে অ্যালবামটি সাজিয়েছেন তিনি। কয়েকটির শিরোনাম—‘দুঃখের সাতকাহন’, ‘হু কেয়ারস’, ‘এক্স’, ‘টাচ’, ‘দ্য ওয়ান’ প্রভৃতি। সব গানেরই সুর-সংগীত করেছেন তিশমা নিজে। কথা নিয়েছেন বিভিন্ন গীতিকারের কাছ থেকে। নিজের সুর-সংগীতে এটি তাঁর ষষ্ঠ অ্যালবাম। জানুয়ারিজুড়ে সপ্তাহে দু-তিনটি গান করে পুরো অ্যালবামটি প্রকাশ করবেন নিজস্ব ওয়েবসাইট, ইউটিউব, আইটিউনস, অ্যামাজন, স্পটিফাই, রিভার্বনেশনসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। বছরের প্রথম দিন প্রকাশ করেছেন ‘ফায়ার অ্যান্ড আইস’। বলেন, ‘আমি সব সময় নীরবেই কাজ করি। কাজ শেষ না হলে কাউকে জানাই না। দুই বছর ধরে এই অ্যালবামের কাজ করেছি। গানগুলো রক, আর অ্যান্ড বি, হিপহপ ও হার্ড রক।’ ২০০২ সালে প্রথম একক ‘তারা’ দিয়ে মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এরপর চারদিকে ছড়িয়ে যায় তিশমার নাম। ক্যাসেটের পর সিডি জামানায়ও বেশ কাটতি ছিল তাঁর। কিন্তু একসময় ধীরে ধীরে মিডিয়া থেকে আড়াল হতে থাকেন। এখন নিজের মতো করে গান করলেও মিডিয়ায় সেভাবে চোখে পড়ে না তাঁকে। পাওয়া যায় না টিভি লাইভেও। তিশমা বলেন, ‘আমি নিজের মতো থাকতেই পছন্দ করি। যখন সময় পাই গানের কথা লিখি, সুর করি, মিউজিক বানাই। পরে একসময় সেখান থেকে বাছাই করে অ্যালবাম করি। আমার কোনো তাড়াহুড়া নেই। আর টিভি লাইভ না করার কারণ বেশির ভাগ লাইভ শো হয় রাতে। এত রাতে আমার বাইরে থাকতে ভয় লাগে! মা-বাবাও চান না এত রাতে বাইরে থাকি। বছর পাঁচেক আগে বৈশাখী টিভির একটি লাইভে গান করেছিলাম। সেটা ছিল দিনের বেলা। এখন দিনের বেলাও যদি কোনো চ্যানেল লাইভে ডাকে, মন টানে না।’ কয়েক বছর আগে স্বনামে ব্যান্ড গড়েছিলেন। সেটিরও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। তিশমা জানিয়েছেন, নানা ব্যস্ততার কারণে এত দিন ব্যান্ডে সেভাবে সময় দিতে পারেননি। লাইনআপেও পরিবর্তন এসেছে কয়েকবার। সর্বশেষ লাইনআপে থিতু হয়ে প্র্যাকটিস করছেন কিছুদিন ধরে। একক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এবার ব্যান্ডের জন্যও কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন তাঁর। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগেই ইটিই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকম ইঞ্জিনিয়ারিং) বিষয়ে পড়া শেষ করেছেন। এখন পড়ছেন ট্রিপল ই (ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইকেলট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিষয়ে। ‘শখের বসেই কোর্সটা করছি। তবে কাউকে জানাইনি’—বললেন তিশমা। বিয়ে করবেন কবে? এমন প্রশ্নে তাঁর সরাসরি উত্তর—‘বিয়ে করব না। একা থাকতেই আমার ভালো লাগে।’ এরপর একটি হাঁসের সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে হেসে বলেন, ‘আজকে আমি সিঙ্গল থেকে ডাবল হয়েছি! আমার এক আত্মীয় এই হাঁসটি পাঠিয়েছিলেন খাওয়ার জন্য। দেখে খুব মায়া হলো। সারা দিন হাঁসটিকে কোলে নিয়ে আদর করছি। ছবি তুলেছি। মাকে বলেছি, এটা জবাই করা যাবে না। ওর সঙ্গে আমি সারা দিন খেলব।’