পর পর দুটি হিট গান উপহার দিয়েছেন মৌমিতা তাশরিন নদী—‘পোড়ামন ২’ ছবির ‘সুতো কাটা ঘুড়ি’ ও নাটক ‘সেই ছেলেটি’র ‘তোমাকে’। নদীকে নিয়ে লিখেছেন মাহতাব হোসেন ‘ছোটবেলায় নাচতাম, একই সঙ্গে গাইতাম। নাচে আমার মনোযোগটা ছিল বেশি। মা-বাবার পছন্দ গান। তাঁদের স্বপ্ন, বড় শিল্পী হবে মেয়ে। অগত্যা গানে মনোযোগী হলাম। পাঁচ বছর বয়সে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিতে শুরু করলাম, এখনো চলছে’—গানে আসার কথা বলছিলেন নদী। মা-বাবার কথা শুনে লাভই হয়েছে, ‘সুতো কাটা ঘুড়ি’র মতো গান এখন সারা দেশে অজস্র কণ্ঠে ভাসছে। কী বলেন নদী? একগাল হেসে উল্টো প্রশ্ন করলেন, ‘আজ যদি নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমার ইন্টারভিউ নিতে আসতেন, তখন কী বলতেন?’ উত্তরের অপেক্ষা না করেই নদী বলেন, ‘আসলে আমাদের এখানে অনেক নামি নৃত্যশিল্পীকেই একটা সময় থেমে যেতে হয়—হয় বয়সের কাছে, কিংবা নৃত্যের গ্রহণযোগ্যতার কাছে। সেটা ভেবেই হয়তো মা-বাবা আমাকে গানে আগ্রহী করে তুলেছিলেন। মা শিরিন আখতার জাহান বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী। বড় ভাই সারোয়ার জাহান বিতানও সংগীতশিল্পী। অবশ্য আমার সব প্রেরণার উৎস মেজো ভাই শাহরিয়ার জাহান সেজান। সে গান করে না, কিন্তু অদ্ভুত কারণে সে আমার অনেক প্রিয়।’ জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। পড়েছেন রাজশাহী পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। গানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত ঝুলিতে ভরেছেন পঞ্চাশেরও বেশি সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। ২০০৪ সালে হন ‘নতুন কুঁড়ি’ চ্যাম্পিয়ন। ২০০৯ সালে দু-দুটি বড় অ্যাচিভমেন্ট—জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনে প্রথম বিভাগে প্রথম হলেন এবং ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ’তে দ্বিতীয় রানার আপ। এত বড় দুটি ঘটনার পর যখন তাঁর এগিয়ে যাওয়ার কথা, সে সময়ই চুপ মেরে যান। নদী বলেন, ‘আসলে আমি তখন পড়াশোনায় মনোযোগী হই। ঢাকায় থাকব বলে আজিমপুর গার্লস কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলাম না। প্রথম বর্ষের পরই রাজশাহী ফিরে গেলাম। ভর্তি হলাম রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে।’ চার বছর পর গানে ফেরেন দ্বৈত অ্যালবাম ‘মুগ্ধতা’র মাধ্যমে। কিছুদিন পরই প্রকাশ করেন প্রথম একক অ্যালবাম ‘নদী’। ২০১৫ সালে প্রথম প্লেব্যাকের সুযোগ পান। দ্বৈত গানটিতে তাঁর সঙ্গে গেয়েছেন এফ এ সুমন। ছবির নাম মনে করতে পরেননি নদী। এখন পর্যন্ত ২০টি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘ধ্যাততেরিকি’তে গেয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সুযোগ পেলেন ‘পোড়ামন ২’-এ। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথা এবং কলকাতার আকাশ সেনের সুরে তাঁর সঙ্গেই দ্বৈত গাইলেন। পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছেন সিয়াম ও পূজা। মিজানুর রহমান আরিয়ানের নাটক ‘সেই ছেলেটি’র ‘তোমাকে’ গানটিও খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নাটকে গানটিতে পারফরম করেছেন অপূর্ব ও শার্লিন ফারজানা। সাম্প্রতিক এ দুই গানের মধ্যে নদীর প্রিয় নাটকের গানটি। এ দুই গানের বাইরে নদীর আরেকটি গানও বেশ জনপ্রিয়—শওকত আলী ইমনের সুরে ‘দেশি গার্ল’। গানটির ভিডিও ইউটিউবে দেখা হয়েছে ৩৭ লাখেরও বেশিবার। একবার কানাডায় শো করতে গিয়েছিলেন নদী। বাংলাদেশ থেকে মাইলস ব্যান্ডও ছিল সেখানে। মঞ্চে নদীর নাম ঘোষণার পর হলজুড়ে ‘দেশি গার্ল দেশি গার্ল’ চিত্কার। নিজের গাওয়া আরেকটি প্রিয় গানের কথাও বললেন—‘জলছায়া’। বাপ্পা মজুমদারের সুরে গানটি নদী গেয়েছেন বাপ্পার সঙ্গেই। ‘গানটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। আমাকে ভালো লাগায় আচ্ছন্ন করে রাখে সব সময়’—যুক্ত করেন নদী। গান নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই নদীর। ভক্তদের জন্য নিশ্চয়ই এটা দুঃসংবাদ। ‘আমি এখন ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ছি। এরপর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন করব, তারপর এমফিল ও পিএইচডির পরিকল্পনা’—বললেন নদী। পড়াশোনা নিয়েই সব পরিকল্পনা? ‘আপাতত পড়াশোনা নিয়েই আছি। সামনে বিজনেস করতে চাই। রিয়েল এস্টেট বিজনেস কিংবা ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম দেব, পাশাপাশি চলতে থাকবে গান, এখন যেমনটা চলছে। আমি তো এমনিতেই কম গান করি। এভাবেই চালিয়ে নেব’—বললেন নদী।