এগিয়ে কোনাল ‘চ্যানেল আই : সেরা কণ্ঠ’ প্রতিযোগিতার পাঁচ বিজয়ীর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সোমনূর মনির কোনাল। গানের পাশাপাশি উপস্থাপনা এবং অভিনয়েও নিজের জাত চিনিয়েছেন এই তরুণী। তাঁর প্রথম মৌলিক গান ‘স্বপ্ন মেলেছে ডানা’ শ্রোতারা ভালোভাবেই গ্রহণ করে। ২০১২ সালে কোনাল প্রকাশ করেন নিজের প্রথম একক ‘কোনালস জাদু’। সেমফ অ্যালবামের ‘ছায়ার মাঝে’ গানটি বেশ আলোচিত। কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামেও গেয়েছেন। স্টেজ শোতে নিয়মিত মুখ কোনাল। দেশ-বিদেশের অসংখ্য শোতে শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। গত বছর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া কোনাল রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রুনা লায়লার পছন্দে তাঁরই গান করে প্রশংসা কুড়ান। প্লেব্যাকেও নিজস্ব একটা জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘সম্রাট’ ছবিতে আরফিন রুমির সঙ্গে ‘নিঃশ্বাস’ গানটিতে কণ্ঠ দেন কোনাল। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘তুমি যে আমার’ ছবিতে তাহসানের সঙ্গে, ‘আপন মানুষ’ ছবিতে কনকচাঁপার সঙ্গে, ‘ভালোবাসাপুর’-এ এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে এবং ‘রাজনীতি’, ‘মেঘ কন্যা’, ‘প্রেমের কি সাধ আছে বল’, ‘মনের রাজা’, ‘অসমাপ্ত প্রেমের গল্প’ প্রভৃতি ছবিতে রয়েছে তাঁর গান। ‘লালটিপ’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়েও অভিষেক হয়েছে। এরপর অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেনের পরিচালনায় ছোট কাকু সিরিজের নাটক ‘বখাটে বগুড়ায়’। এয়ারটেলের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে তাঁকে। উপস্থাপনা করেও নজর কেড়েছেন। কোনাল বলেন, ‘মিডিয়া জীবন যখন শুরু করেছি তখন এত মানুষের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। এত কিছু বুঝতামও না। বরং পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। সময় গড়ানোর সাথে সাথে সব কিছু বুঝে কাজ করার চেষ্টা করছি। সফলতাও আসছে। এটাকে ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’ মুগ্ধ কই চ্যানেল আই-সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর ছয় বছর কেটে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র একটি নতুন গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তানজীম শরীফ মুগ্ধ! চারপাশ থেকে সাপোর্টের অভাব ছিল না। কিন্তু মুগ্ধ নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি গানের ভুবনে। এ জন্য অবশ্য তাঁর নিজের কোনো দোষ নেই। পড়াশোনাই কেড়ে নিয়েছে তাঁর সব সময়। আশপাশের যারা মুগ্ধকে চেনে তারা বিষয়টি ভালো করেই জানে। তবে বাইরে থেকে প্রায়ই প্রশ্ন ভেসে আসে কোথায় হারিয়ে গেলেন মুগ্ধ? নিজের হারিয়ে যাওয়ার গল্প শুনিয়েছেন মুগ্ধ নিজেই, “এই প্রতিযোগিতায় যখন চ্যাম্পিয়ন হই তখন আমি এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। পরের বছর ফাইনাল পরীক্ষা। তার পরও আটটি দেশে গিয়ে শো করি। পরীক্ষার পর নামতে হয় ভর্তিযুদ্ধে। ২০১২ সালে বুয়েটে ভর্তি হই (যন্ত্রকোকৗশল বিভাগে)। শুরু হয় পড়াশোনার চাপ। তার পরও সেই বছর আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড’-এ নাম লেখাই। ১০১ জন প্রতিযোগীর মধ্যেও ‘সম্মানজনক স্বীকৃতি’ লাভ করি। দেশে ফিরে আবার পড়াশোনার ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও গানে সময় দিতে পারিনি।” খানিকটা থেমে আবারও বলতে শুরু করেন, “গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগীদের নিয়ে ভারতের হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত হয় কালচারাল প্রতিযোগিতা ‘বিশ্বমিল ২০১৬’। যাতে বাংলাদেশ মোট তিনটি পদক পায়। এর মধ্যে আমি ‘ভারতীয় গান’ পর্বে প্রথম হই। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই কিন্তু ওখানে যাওয়া।” মুগ্ধ বলেন, ‘সময়-সুযোগের অভাবে সংগীতে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারিনি এটা সত্য। তবে হৃদয়ে সংগীতটাকে লালন করি সব সময়। যখনই চান্স আসবে নিজেকে মেলে ধরব।’ নতুন গান আর মিডিয়ার আলো থেকে বাইরে থাকলেও গত কয়েক বছরে যখনই সময় পেয়েছেন তখনই বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে আর স্টেজে গান করেছেন মুগ্ধ। ভবিষ্যতে গানে গানে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার স্বপ্ন দেখেন ময়মনসিংহের এই তরুণ প্রতিভা।