দেশে ফিরেই একটা ব্যান্ড গড়েছেন, নাম ‘আরশিনগর’। সদস্যদের সবাই রুমির পুরনো বন্ধু। দলের সঙ্গে স্টেজ শো করেই শুরু হলো তাঁর সংগীতজীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। পাশাপাশি নিজের তৃতীয় সলো অ্যালবামের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আগের দুটি সলো অ্যালবামের নাম ‘তারছেঁড়া’ [২০০৮] ও ‘বোকা’ [২০১১]। প্রিন্স মাহামুদের সুরে মিক্সড অ্যালবাম ‘নির্বাচিতা’য় ছিল তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত গান—‘ভালোবাসে না’। তৃতীয় অ্যালবামটি এখন প্রকাশের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তবু একটু বিলম্ব। গানগুলোকে নীরিক্ষার জন্য আরো কিছুটা সময় নিতে চাচ্ছেন। ঈদের পর পরই প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেন। এ অ্যালবামের নামও ‘আরশিনগর’। আসলে রুমির একমাত্র মেয়ের নাম আরশি, সে কারণেই এমন নাম। সব গানের সুর, সংগীত ও কথা লিখেছেন রুমি নিজেই। এবারই প্রথম নিজের সুর-সংগীতে গান করেছেন। ‘অ্যালবামটির কাজ শুরু করেছিলাম আমেরিকায় বসেই। বাংলাদেশে এসে শেষ করলাম। গান নিয়ে নিজের কিছু ভাবনা আছে, অ্যালবামে তার প্রয়োগ করেছি। আজকাল সংগীতায়োজকরা ডিজিটালাইজড করতে গিয়ে সংগীতের আসল টেস্ট নষ্ট করে ফেলেন। সেদিকটাও বিবেচনায় রেখেছি’—বললেন রুমি। ‘আরশিনগর’ প্রকাশের আগেই প্রকাশ পাবে রুমির গাওয়া আরেকটি অ্যালবাম ‘মুসাফির’। এতে গান থাকবে তিনটি। জিয়াউদ্দিন আলমের কথায় সুর-সংগীত করেছেন রেজওয়ান শেখ ও রাব্বি। আসছে সপ্তাহেই এটি প্রকাশ করবে সিএমভি। “অনেকটা হঠাৎ করেই এ অ্যালবামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। নিজের সলো অ্যালবামটা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। জিয়াউদ্দিন ভাই প্রস্তাব করলে আর ‘না’ করতে পারিনি। তবে এ তিনটি গানের কথা ও সুরেও ভিন্নতা আছে”—বললেন রুমি। আমেরিকায় গিয়েও গান নিয়েই ছিলেন। নিয়মিত শো করতেন। মিউজিকের ওপর বেশ কয়েকটি কোর্স করেছেন। সে সবের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের গান নিয়ে কিছু করতে চান। প্রথমেই নিজের জন্য একটা অত্যাধুনিক স্টুডিও করবেন। সেখানে নিজে তো গানের চর্চা করবেনই, তরুণ মেধাবীদেরও গান করার সুযোগ করে দেবেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যাঁরা ভালো প্লাটফর্ম খুঁজে পাচ্ছেন না, তাঁরাই পাবেন এমন সুযোগ। একটা ইনস্টিটিউট করারও ইচ্ছে। যেখানে দেশীয় সংগীতজ্ঞদের পাশাপাশি বিদেশিরা প্রশিক্ষণ দেবেন। গুরু প্রিন্স মাহমুদের সঙ্গে নতুন করে কাজ শুরু করবেন, তার আগে তাঁকে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি উপহার দেবেন। সে গাড়িতে ঘুরে বেড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করবেন। এটা রুমির অনেক দিনের স্বপ্ন। একটা মজার ঘটনা বললেন রুমি, ‘আমি সাধারণত চোখ বুঝেই গান করি। সেদিন এক মেয়ে এসে তো আমাকে জোর করে হাজার হাজার মানুষের সামনে নাচালো। গান রেখে সেই উত্ফুল্ল মেয়ের সঙ্গে নাচতে হলো। পরে আবার সেই ভিডিও এক বন্ধু মেইল করেছে। এখন দেখলেই হাসি আসে। আমি এরকম নেচেছি!’—বললেন রুমি। বাবা, মা, স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সংসার জীবনটাও সুখের। মেয়ের বয়স সাত। স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। বাবা না বললেও নিজেই গানের তালিমে বসে যায়। গিটার নিয়ে টুংটাং করে। রুমির আরেকটা ইচ্ছে, বাবা-মাকে নিয়ে এবার হজ পালন করে আসবেন।