kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

তাই বলে গান নামিয়ে দিতে হবে!

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাই বলে গান নামিয়ে দিতে হবে!

অভিনয়ের পাশাপাশি চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওনের গানে দক্ষতার কথা জানেন সবাই। এই দুজন একসঙ্গে গাইলেন রাধা-কৃষ্ণের প্রথম দর্শনের অনুভূতি নিয়ে রচিত গান ‘সর্বোত মঙ্গল রাধে’। পার্থ বড়ুয়ার সংগীত পরিচালনায় গানটি ‘আইপিডিসি আমাদের গান’-এর ব্যানারে প্রকাশ পেয়েছে ২০ অক্টোবর রাতে। সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল। ব্যান্ড ‘সরলপুর’ মেধাস্বত্ব দাবি করায় ঘণ্টা চারেক পরেই গানটি সরিয়ে নেয় ইউটিউব। এ প্রসঙ্গে  চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছেন দাউদ হোসাইন রনি

 

ঘটনা কী হলো আসলে?

আমি তো শুধু গেয়েছি, গানের মালিক নই। এত কিছু আমি বুঝিও না। ইউটিউবে গানটির কয়েকটি ভার্সন শুনেছি। এর মধ্যে একটি সুমি মির্জার। আজ শুনেছি, সুমি যখন গানটি প্রকাশ করেছিল তখনো মেধাস্বত্ব দাবি করায় গানটি সরিয়ে নিয়েছিল ইউটিউব। এ ধরনের একটি গানের কপিরাইট থাকতে পারে—আমার কাছে এটাই খুব আশ্চর্যের! আরো চার-পাঁচটি ভার্সন আছে ইউটিউবে, কোথাও কিন্তু সুরকার-গীতিকারের নাম নেই।

 

‘সরলপুর’-এর একটা ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছি। ২০০৮ সালে বকশীগঞ্জের এক সাধুর কাছ থেকে গানটির ৩০ শতাংশ পেয়েছিল তাঁরা, বাকি ৭০ শতাংশ নিজেরাই লিখে নিয়েছেন...

‘মনপুরা’ ছবির গান ‘ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই’—গানটির তিন পার্টের শেষ পার্ট গিয়াসউদ্দিন সেলিম ভাই লিখেছেন। প্রথম দুই পার্টের কথা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। এই গান তো সেলিম ভাই নিজের বলে দাবি করেননি!

 

অতীতে আমরা দেখেছি, অনেক প্রচলিত গান পরে যাঁদের কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়েছে, তাঁদের নামেই মেধাস্বত্ব হয়েছে...

এই যে ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’ গানটা, এটা কিন্তু বাংলাদেশে সবার আগে আমার কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে। এরপর ‘জলের গান’ করেছে, তারও পরে মুন্নী (দিনাত জাহান) আপা। একজনের কাছ থেকে মোবাইলে রেকর্ড করে এনে গেয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করেছিলাম? কোথায় পেলেন কার গান এটা? কিছুই বলতে পারেনি। প্রচলিত একটা গান। তো আমি কি এই গানের কপিরাইট দাবি করব! আরেকটা গান গেয়েছিলাম ‘ফুলগাছটি লাগাইছিলাম ধুলা মাটি দিয়া রে’। বাঁকুড়া অঞ্চলের গান। ছন্দ মেলানোর জন্য নিজে বেশ কিছু লাইন যোগ করেছি। পরে আরো কয়েকটি ভার্সন শুনেছি। দেখলাম, আমার গানটির কথার সঙ্গে অন্যগুলোর কথার ফারাক। এ গানটিও আমার আগে বাংলাদেশে কেউ রেকর্ড করেনি।

 

পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে কি এ ব্যাপারে আপনার কথা হয়েছে?

হ্যাঁ, বুধবার রাতে। তিনি বললেন, আমরা তো জানতাম না এই গানের কথা অন্য কেউ লিখেছেন। জানলে তো আর সংগৃহীত লিখতাম না। ওরা যদি কাগজপত্র দেখিয়ে বলত, অবশ্যই তাঁদের ক্রেডিট দিতাম। তার মানে এই নয়, অভিযোগ করে ইউটিউব থেকে গান নামিয়ে দিতে হবে! আমি বা পার্থদা আমাদের কারো ফোন নম্বর জোগাড় করাই কঠিন কিছু না। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হওয়ার পরে কপিরাইট ক্লেম করতে পারত।

 

আইপিডিসির ফেসবুক পেজে গানটি এখনো আছে। সাড়া পাচ্ছেন কেমন?

পার্থদা সেদিন ফোন করে বললেন, গানটা আজকে রিলিজ করবে, ফেসবুকে শেয়ার দিস। আমি শুটিং করে বাসায় ফিরেই আগে গোসল করি। সেদিন আগে গানটা শেয়ার দিয়ে গোসলে ঢুকেছিলাম। আধঘণ্টা পর বাথরুম থেকে ফিরে এসে দেখি এলাহি কাণ্ড। সবাই দারুণ পছন্দ করেছে গানটি। সেদিন সারা রাত ফোনে এবং ইনবক্সে এ গানটি নিয়েই সবার সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে।

মন্তব্য