kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

পাশের বাড়ির তাপস আর নেই

রংবেরং ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পাশের বাড়ির তাপস আর নেই

কলকাতার অভিনেতা ও সাবেক সাংসদ তাপস পাল আর নেই। মঙ্গলবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুরোগ ও রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন তাপস। গত মাসে মুম্বাই গিয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হলে ১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১৭ ফেব্রয়ারি তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মুম্বাই বিমানবন্দরে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ফের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। ১৯৫৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে তাপস পালের জন্ম। ২২ বছর বয়সে তরুণ মজুমদারের ‘দাদার কীর্তি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি রুপালি পর্দায় পা রাখেন। এরপর বাংলা চলচ্চিত্রকে উপহার দিয়েছেন ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘সাহেব’, ‘তবু মনে রেখো’, ‘মায়া মমতা’সহ বেশ কিছু ব্যবসাসফল ছবি। ‘সাহেব’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান তাপস পাল। ‘উত্তরা’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ ও ‘জানালা’ ছবিতে ভিন্ন ধারার চরিত্রে তাঁর অসামান্য অভিনয় দর্শকের হৃদয় জয় করে নেয়। দেবশ্রী, শতাব্দী রায়, ইন্দ্রাণী হালদার থেকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ নামি অভিনেত্রীদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছেন নিজেকে। তরুণ মজুমদার, তপন সিংহ, অঞ্জন চৌধুরী, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, হরনাথ চক্রবর্তীসহ নামি পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের প্রথম ছবির নায়কও ছিলেন তাপস পাল। ১৯৮৪ সালে হীরেন নাগের ‘অবোধ’ ছবিতে মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেন তিনি। চার দশকের অভিনয় জীবনে প্রায় ৮০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তাপস পাল। বিনোদনজগৎ থেকে এরপর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এই অভিনেতা। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ নির্বাচিত হন। অভিনয়ের মতো রাজনীতিতে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি এই পোড় খাওয়া অভিনেতা। রোজভ্যালি ও চিটফান্ড দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সিবিআইয়ের হাতে একবার গ্রেপ্তারও হন। রাজনীতি ছেড়ে তাই আবার অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তি তাঁকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করল। তাঁর একমাত্র মেয়ে সোহিনী পালও অভিনয়জগতে আছেন। করেছেন ‘অটোগ্রাফ’ ও ‘জ্যাকপট’-এর মতো জনপ্রিয় ছবি। নিয়মিত টিভি ধারাবাহিকেও দেখা যায় তাঁকে।

সূত্র : আনন্দবাজার

 

‘ওর মধ্যে ক্ষমতা ছিল, ও জানত না’

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

আজ একটা অদ্ভুত দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভাসছে। ‘উত্তরা’র জন্য আমি আর তাপস পাল ভেনিসে পৌঁছেছি পুরস্কার নিতে। ও এতটাই খুশি হয়েছে যে ভেনিসের রাস্তায় নাচতে শুরু করে দিল। আমি এই তাপসকেই চিনি। ওর প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেতা। ওকে ঠিকমতো ব্যবহার করা হলো না। এই আফসোস থেকে যাবে চিরকাল।

ওকে আমি খুব অদ্ভুত চরিত্র দিয়েছিলাম আমার ছবিগুলোতে। ‘উত্তরা’য় কুস্তিগির। অন্যদিকে ‘জানলা’য় চোর। অসামান্য অভিনয় করেছিল। আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আসলে বেশির ভাগ মানুষই জানে না, সে জীবনে কী চায়। তাপসের ক্ষেত্রেও এ রকমটাই হয়েছিল। ও আরো অনেক নজরকাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে পারত। ওর মধ্যে এই ক্ষমতা ছিল। অথচ সেটা ও নিজে জানত না। ও চলে গেল রাজনীতিতে।

মানুষ হিসেবেও খুব কাছ থেকে দেখা আমার। এই তো ছ’মাস আগে ওর অ্যাটেনডেন্টকে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে হাজির। এসে বলল, ‘আপনাকে সারা কলকাতায় খুঁজছি। আপনার ঠিকানা পেতে বহুদিন লাগল।’ আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। একটা কথার সঙ্গে পরের কথা সামঞ্জস্য হারিয়ে ফেলছিল। বুঝেছিলাম কোথাও একটা গণ্ডগোল হচ্ছে। সেদিন কিছু কথা হয়েছিল। একটানা পুরনো কথা  বলার চেষ্টা করছিল। আসলে পুরনো সময়টাকেই ধরে রাখতে চেয়েছিল ও।

এর পরেও কয়েক বার ফোন করে আসতে চেয়েছে। আমার সময় হয়ে ওঠেনি। হয়তো আমাকে সম্মান করত, শ্রদ্ধা করত। সেই কারণেই বোধ হয় যোগাযোগ রাখতে চেয়েছিল। শুট করতে গিয়েও দেখেছি, অভিনেতা বা স্টার হিসেবে ওর কোনো দম্ভ ছিল না। আলাদা মেকআপ ভ্যান, আলাদা খাবার—এসব দাবি করত না। বরং আমাকে বলেছিল, ‘আমি কিন্তু দুবার লাঞ্চ করব।’ প্রচণ্ড খেতে ভালোবাসত।

অনেক পথ খুঁজে ও সেদিন আমার ঠিকানা পেয়েছিল। কিন্তু আজ ওর ঠিকানা আমার জানা নেই।

সূত্র : আনন্দবাজার

প্রথম নায়ক

সালটা ১৯৮৪। মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রির খ্যাতনামা প্রযোজনা সংস্থা রাজশ্রী প্রডাকশনের ‘অবোধ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তাপস পাল। বাংলায় তখন তিনি সুপারস্টার। এই ছবিতেই তাঁর বিপরীতে অভিনয় করে বলিউডে মাধুরী দীক্ষিতের যাত্রারম্ভ। ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ তথা দর্শককুল আবিষ্কার করে ভবিষ্যতের এক নক্ষত্র। সেই একবারই সিনেফ্রেমে ধরা দিয়েছিল তাপস-মাধুরী জুটি। প্রথম নায়কের মৃত্যুতে বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতও আজ শোকবিহ্বল।

‘চলে গেল আমার ক্যারিয়ারের প্রথম অভিনেতা তাপস পাল। ওর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি শোকাহত। ওর আত্মার শান্তি কামনা করি। এই কঠিন সময়ে ঈশ্বর ওর পরিবারের মঙ্গল করুন,’ লিখলেন শংকরের (তাপস পাল) ‘অবোধ’ গৌরী (মাধুরী দীক্ষিত)।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা