kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাদুঘরটা হাতির

মীম নোশিন নাওয়াল খান   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাদুঘরটা হাতির

এমন অনেক গিফটও পাবেন জাদুঘরে

আমেরিকান সিভিল ওয়ার আর আব্রাহাম লিংকনের ঐতিহাসিক ভাষণের জন্য পর্যটকদের কাছে দারুণ প্রিয় পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গ। শহর থেকে মাত্র ১২ মাইল পশ্চিমে রুট ৩০ হাইওয়ে ধরে এগোলে হাইওয়ের পাশে চোখ আটকে যায় বিশাল হাতির ভাস্কর্যে। পাশেই লেখা ‘মিস্টার এড’স এলিফ্যান্ট মিউজিয়াম অ্যান ক্যান্ডি এম্পোরিয়াম’।   জাদুঘরের বাইরের চারপাশটা যেন এক রূপকথার রাজ্য! রঙিন সব পশুপাখি আর পোকারা উঁকি দিচ্ছে, খেলছে ফুলের ঝোপ-গাছের ফাঁকে।

বিজ্ঞাপন

জাদুঘরের সামনের দিকে বিশাল এক সাদা হাতির ভাস্কর্য। কাছে গেলে হাতির ভেতর থাকা মোশন সেন্সর অ্যাক্টিভেটেড হয়। হাতিটা কান নাড়াতে আর চোখ পিটপিট করতে শুরু করে।

জাদুঘরের পাশ দিয়ে একটা হাঁটাপথ চলে গেছে। পথের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছে রূপকথার স্নো-হোয়াইটের ভাস্কর্য। পথের দুই পাশে আছে সাত বামনের ভাস্কর্য, যেন তারাও স্বাগত জানাচ্ছে সবাইকে। পথের শেষে একটা গাছে ঝুলছে নানা ধরনের চায়ের কাপ আর পিরিচ। ঝোপের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে লম্বা চওড়া সেনা। একটু এগোতেই বাঁয়ে দুটি জিরাফ ঘাস খাচ্ছে। ভাববেন না এর কোনোটাই সত্যি! তবে এখানে রঙিন ভাস্কর্যগুলোকেই সত্যি মনে হয় আর নিজেকে মনে হয় রূপকথার গল্পে হারিয়ে যাওয়া এক পাঠক। জিরাফ দুটি যেখানে দাঁড়িয়ে, তার ঠিক উল্টো দিকেই চোখে পড়ল চায়ের পট আকৃতির একটা নীল-সাদা কাঠের ঘর। দরজার ওপর কালো অক্ষরে ইংরেজিতে লেখা টি-পট মিউজিয়াম। এই ছোট্ট জাদুঘরের চায়ের পটের সংগ্রহ দেখে বিস্মিত হতে হয়! নকশাকাটা ছাড়াও সান্তা ক্লজ, ছোট ঘর, সোফায় ঘুমিয়ে থাকা কুকুরছানা এবং অবশ্যই নানা রকম হাতিসহ বিভিন্ন মজার এবং অদ্ভুত আকার-আকৃতির চায়ের পট রয়েছে এখানে।

এখান থেকে বেরিয়ে একটু এগোলেই একটি বাগান। সেখানে নানা রঙের ফুল ফুটে আছে। ফুলগুলো সত্যি হলেও তার ফাঁকে খেলা করা মৌমাছি, পাখি বা হাতিগুলো কিন্তু ভাস্কর্য। প্রতিটা হাতির আবার নামও আছে। বাগানের ভেতর ছোট্ট একটা জলাশয় আছে। সেই জলাশয়ের পাশে একটা মা হাতি আর একটা বাচ্চা হাতির ভাস্কর্য, তাদের শুঁড় থেকে পানি পড়ছে।

জাদুঘরের মূল ভবনে শুধু হাতি নয়, আছে বিশাল এক ক্যান্ডির দোকান। পুরো জায়গাটা নানা ধরনের চকোলেট, ক্যান্ডি আর ঘরে তৈরি টাটকা ফাজের ঘ্রাণে ম ম করছে। চকোলেটের লোভ সংবরণ করে আগে ভেতরের একটা দরজা দিয়ে হাতির জাদুঘরে ঢুকলাম। দরজা দিয়ে ঢুকে একটা লম্বা করিডর, যার দুই পাশে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত অনেক কটি তাকে রাখা অসংখ্য হাতির পুতুল, ভাস্কর্য। করিডরের শেষে মূল ঘর, যার পুরোটাই ভরা নানা ধরনের হাতির আকৃতির খেলনা, পুতুল ও ভাস্কর্যে। আপনি যত ধরনের হাতির থিমের খেলনার কথা চিন্তা করতে পারবেন, তার সবই এই জাদুঘরে রয়েছে। মজার বিষয়, এটা শুরু হয়েছিল মিস্টার এডের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে। বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া একটা ছোট হাতির ভাস্কর্য ছিল এড গটওয়াল্ড নামের এই ভদ্রলোকের প্রথম হাতি। সেই থেকে তিনি একের পর এক হাতি থিমের জিনিস সংগ্রহ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনও তাঁর আগ্রহ দেখে তাঁকে হাতির থিমের নানা সামগ্রী উপহার দিতে থাকেন। ১৯৭৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এড ও প্যাট গটওয়াল্ড মিলে হাইওয়ের পাশে শুরু করেন ‘মিস্টার এড’স’ নামের ছোট্ট একটা ক্যান্ডির দোকান। পরে এই দোকানটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। ২০০০ হাতির থিমের খেলনার সংগ্রহ নিয়ে এর সঙ্গে চালু হয় মিস্টার এডের হাতির জাদুঘর। বর্তমানে সেই সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজারের ওপরে। ঘণ্টাখানেক পর এলাম ক্যান্ডির দোকানে। এই দোকানে হাজারের বেশি ধরনের ক্যান্ডি ও চকোলেট আছে। তবে এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় মিস্টার এড’সের নিজেদের তৈরি চকোলেট ফাজ। নানা ফ্লেভারের ফাজের মধ্য থেকে কোনটা রেখে কোনটা খাবেন সেই দ্বিধায় ক্রেতারা পড়েন বলে কেনার আগে চেখে দেখার সুযোগও আছে। কুকিজ অ্যান্ড ক্রিম প্রিয় বলে আমি সোজা এই ফ্লেভারের ফাজ কিনলাম। ক্যান্ডির দোকানের মাঝেও দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক হাতি। তার চারপাশ ঘিরে নানা রকমের সফট টয়। ক্যান্ডির দোকান হলেও এটা একই সঙ্গে একটা গিফট শপ। অসংখ্য হাতি থিমের উপহারসামগ্রী ছাড়াও এখানে আছে আরো নানা রকম দারুণ সব সংগ্রহে রাখার মতো জিনিস। এই জাদুঘরে ঢুকতে টিকিট কাটতে হয় না। তবে অসুবিধা হচ্ছে, এখানে যে ক্যান্ডির বিশাল কালেকশন আর তার যে সুঘ্রাণ, তাতে যে কেউই ব্যাগভর্তি ক্যান্ডি আর চকোলেট না কিনে এখান থেকে বেরোতে পারবে না।



সাতদিনের সেরা