kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

‘ক’ দিয়ে কিতাব

তিনি ‘ক’-এর আড়াই লাখ শব্দের বিশাল এক ভাণ্ডার গড়ে তুলেছেন। এরই মধ্যে তিনটি বই লেখা শেষ করেছেন ‘ক’ দিয়ে। তিনি মো. নাজমুল কবির সরদার ইকবাল। চমকে ওঠার মতোই ব্যাপার! বিশ্বজিৎ পাল বাবু যাচাই করে এসেছেন

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ক’ দিয়ে কিতাব

গল্পের শেষের দিকে কেষ্ট মারা যাবে। কিন্তু মারা যাওয়ার সমার্থক শব্দ ‘ক’ দিয়ে কী কী হয়। চিন্তা করতে লাগলেন কবির। আট মাস ধরে চলল খোঁজ। শব্দ মিলল কি না কুপোকাত। কিন্তু কুপোকাত দিয়ে মৃত্যু কি হয়? কবির মনের ধন্দ ঘোচে না। শেষে কবি লিখলেন, ‘কেষ্টর কাকিমা কুসুমকলি কঠিন কণ্ঠে কাঁদতে কাঁদতে কনফারেন্সের কবিদের কইলেন, কবিগণ কর্ণপাত করুন। কর্ণপাত করুন কবিগণ। কেষ্ট কথা কইবে না। কেষ্ট করুণাময়ীর কাছে কাল কাটাচ্ছে। করুণাময়ীর কাছে কাল কাটালে কেউ কখনো কথা কয় না।’ কী দারুণভাবেই না ‘ক’ দিয়ে মৃত্যু সামলালেন কবি! বইয়ের নাম কেষ্ট কবির কনফারেন্স।

বইটির প্রতিটি শব্দই ‘ক’ দিয়ে। বইটিতে শব্দ সংখ্যা ১০ হাজার। এটি ছাড়াও ‘ক’ দিয়ে আরো দুটি বই লিখেছেন ইকবাল। এ দুটিতে শব্দ সংখ্যা ১৭ হাজার।

 

কুড়ি বছর ধরে

ভাণ্ডার গড়তে ইকবালের লেগেছে ২০ বছর। তিনটি বই প্রকাশ করতে সময় লেগেছে ১০ বছর। এখন যে বইটিতে হাত দিয়েছেন তাতে শব্দ থাকছে প্রায় ২৫ হাজার। তাঁর প্রথম বই কেষ্ট কবির কষ্টগুলো প্রকাশ হয় ২০১০ সালে। কেষ্ট কবির কনফারেন্স প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। শেষ বইটি প্রকাশ পায় ২০১৬ সালে। নাম, কেষ্ট কবি। তিনটিই গল্পের বই। সরদার ইকবালের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে। তিনি লেখক নাম নিয়েছেন আদ্যক্ষর দিয়ে—ইসমোনাক (ইকবাল সরদার মো. নাজমুল কবির)। ১৯৬৭ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়েছেন। সরাইলের কালিকচ্ছ পাঠশালা থেকে এসএসসি ও সরাইল মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করেন। সম্প্রতি তাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান। সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইকবালকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বই প্রচারের দায়িত্বও নিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজউদ্দিন জামি, সাধারণ সম্পাদক জবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনজুরুল আলম ইকবালকে অভিনন্দন জানান। জেলা প্রশাসক যেমন বলছিলেন, ‘অবাক করার মতো ব্যাপারই বটে, একটি বর্ণ নিয়ে একজন মানুষ এভাবে লেগে থাকতে পারে, গবেষণা করতে পারে। আমি তাঁর আন্তরিকতায় মুগ্ধ। সন্দেহ নেই, তিনি প্রতিভাবান ব্যক্তি। তিনি প্রমাণ করছেন, বাংলা ভাষা কতটা সমৃদ্ধ।’

 

কেষ্ট কবি বইটি থেকে

পঞ্চ তারকা প্রিন্ট মিডিয়া বইটি প্রকাশ করেছে। মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা ৪৮। বইয়ের শুরুর বাক্য হলো—কালিকচ্ছ ক্যাম্পের কাছেই কাজীউড়া কৈলাশ কর কেন্দ ীয় কমার্শিয়াল কলেজ।’ শেষ বাক্য—কালিকচ্ছের কৈলাশ কর কেন্দ ীয় কলেজের কর্মকর্তার কক্ষে কঠিন কণ্ঠে কাঁদতে কাঁদতে কেষ্ট কইল, ‘কৃপা কর কৃপাময়ী কেষ্টরে কৃপা কর, করুণাময়ী কেষ্টরে করুণা কর।’ ইকবাল বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ। পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হই। কিন্তু এতে সাহিত্যচর্চায় ছেদ পড়ছিল। ভাবলাম সব কিছু ছেড়ে দিব। ‘ক’ শব্দে বই লিখব। বলছি ২০ বছর আগের কথা।’

 

একদিন নাম উঠবে

এখন ইকবালকে কবি বলেই চেনে এলাকার লোক। তবে তাঁর পথচলা মসৃণ ছিল না। বেশির ভাগ লোকই এটাকে পাগলামি ভেবেছে। ২০০৫ সালে বিয়ে করেছিলেন কিন্তু সংসার টেকেনি বেশিদিন। বাবা মো. হেফজু মিয়াকে অবশ্য সব সময় পাশে পেয়েছেন। বাবা গালে চুমু খেয়ে একদিন বলেছিলেন, তুই অনেক বড় হবি। তবে ইকবাল মনে করেন, এখনো তিনি বড় হতে পারেননি। অথচ সব কিছু হারিয়েছেন। শুধু মাকেই এখন পাশে পাচ্ছেন। তবু তিনি লিখে যাবেন ‘ক’ দিয়ে বেশি বেশি। তিনি আকাঙ্ক্ষা করেন, গিনেস বুকে একদিন তাঁর নাম উঠবে।’