kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

[ দুখিনী বাংলা ]

মেয়েহারা এক বাবার কথা

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেয়েহারা এক  বাবার কথা

মাত্রই যুদ্ধ শেষ। অভাব-অনটন আর স্বজন হারানোর হাহাকার দেশজুড়ে। ভগীরথ মধুও হারিয়ে ফেলেছিলেন তাঁর মেয়েকে। তারপর কেটে যায় ৪৮ বছর। মিজানুর রহমান বুলু বলছেন বাকিটা

 

১৯৭২ সালে ভগীরথ একজন তরুণ যুবক। বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার লাটেঙ্গা গ্রামে। বাবার নাম বিন্দু মধু। ভগীরথ মাকে হারিয়েছিলেন কিশোরকালেই। বাবা ও বোনকে নিয়ে ছিল অভাবের সংসার। পরের জমিতে বদলা (মজুর) দিয়ে ভগীরথ সংসার চালাতেন।

 

বিয়ে করলেন

পাশের কোনেরভিটা গ্রামের মনোহার বাড়ৈয়ের মেয়ে পরিষ্কার মধুকে বিয়ে করলেন ভগীরথ। বিয়ের কিছুকাল পর বিয়েবাড়িতে সানাই বাজানোর কাজ নেন। স্ত্রীর বড় ভাই মহাদেব বাড়ৈ ছিলেন তাঁর সানাই শিক্ষাগুরু। মহাদেব ঢাকঢোলও বাজাতে জানতেন। ভগীরথ একে একে সেগুলোও শিখে নেন। বিয়ের দেড় বছর পার হলে ভগীরথ আর পরিষ্কারের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মেয়ে জন্মানোর তিন দিনের মাথায় মারা যান পরিষ্কার মধু।

 

দিশাহারা দশা

একে সংসারে অভাব, তার ওপর মা-হারা মেয়ে। ভগীরথ পাশের বদরতলা গ্রামের সতীশ বাড়ৈয়ের স্ত্রী স্নেহলতার শরণাপন্ন হন। স্নেহলতা বেতকাছিয়া গ্রামের লিও মধু ও কামিনী মধু দম্পতির কাছে মেয়েটিকে দত্তক দেন। কামিনী তখন নারিকেলবাড়ি গ্রামের খ্রিস্টান হোমের সিস্টারদের সঙ্গে কাজ করতেন। কামিনীদের ঘরেও ছিল অভাব। তিনি তাই শিশুটিকে পলেন সরকার নামের এক নিঃসন্তান আত্মীয়ের কাছে দিয়ে দেন। পলেন— অ্যাঞ্জেলা দম্পতি থাকতেন যশোরে। তাঁরা শিশুটির নাম রাখেন বেদনা।

 

পরে ঢাকায়

পলেন একসময় সপরিবারে ঢাকার মহাখালীতে চলে আসেন। বেদনাকে খুব আদর-যত্নে বড় করতে থাকেন। কোনো দিন বুঝতেই দেননি যে সে তাঁদের পালিতা কন্যা। এদিকে দত্তক দেওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই ভগীরথ ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মেয়েকে দেখার জন্য। কামিনীর কাছ থেকে জানতে পেরে চলে যান যশোরেও। কিন্তু তত দিনে সরকাররা ঢাকায় চলে গেছে। তারপর আর কোনো খোঁজ পাননি ভগীরথ। এভাবেই চলে যায় বছরের পর বছর।

 

ওদিকে তখন

এসএসসি পাসের পর ১৯৮৮ সালে  বেদনার বিয়ে হয়। এখন তাঁর দুই সন্তান। একদিন বেদনা জানতে পারেন পলেন ও অ্যাঞ্জেলা তাঁর আসল মা-বাবা নন। তার পর থেকে পিতৃপরিচয় জানার জন্য ব্যাকুল হন বেদনা। কোটালীপাড়ায় এসে খুঁজতে থাকেন বাবাকে। নারিকেলবাড়ি মিশনে গিয়ে জানতে পারেন লিও মধুর কথা। মনোহর অ্যান্ড সরোজিনী ট্রাস্টের পরিচালক প্যাস্টর মিখায়েল বাড়ৈর সহযোগিতায় লিও মধুর বাড়িতে পৌঁছান। তারপর তাঁর জন্মদাতা পিতা ভগীরথ মধুর সন্ধান পান।

 

দেখা হলো

ভগীরথের বাড়িতে বেদনা পৌঁছান ২ আগস্ট। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে ৪৮ বছর। বাবাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বেদনা। বাবার চোখেও তখন অশ্রুধারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা