kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

বাঙালির বিশ্বদর্শন

বুনো পশ্চিমের জানালা

তারেক অণু   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুনো পশ্চিমের জানালা

যাচ্ছি কানাডা-আমেরিকা সীমান্তের গ্লেসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে হিমবাহ দেখতে। চলেছি যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার মধ্য দিয়ে। ওয়েস্টার্ন মুভিতে মন্টানার পাহাড়, ঘাসের প্রান্তর, কাউবয় র‌্যাঞ্চ অনেকবারই দেখেছি। দেখে দেখে প্রেমে পড়ে গেছি। মন্টানাকে আমেরিকানরা বলে বিগ স্কাই কান্ট্রি। এখানে আকাশ অনেক বড়। পাহাড়ের মাথায় আলসেমি করে। সকালের নাশতা সারতে থামলাম আদিবাসী আমেরিকানদের এক শহরে। এখন কিন্তু আর তাদের রেড ইন্ডিয়ান বলা হয় না। ফার্স্ট আমেরিকান বলে ডাকার চল হয়েছে।

 

খাঁটি কাউবয় ব্রেকফাস্ট

এক পেট্রল স্টেশনে থামলাম, চাইলাম খাঁটি কাউবয় নাশতা। কালো তেতো কফি আর গরুর জার্কি (ফালি ফালি ভাজা গোশত) চিবুতে চিবুতে দেখলাম স্টেশনের বেশির ভাগ কর্মীই আদিবাসী আমেরিকান। মাথায় তাদের হ্যাট, ছেলেদেরও পরিপাটি লম্বা দুই বেণি, চেহারায় পাথুরে নিস্তব্ধতা। স্টেশন থেকে বের হতেই তাঁবুর মতো দেখতে একটি ঘরে লেখা দেখলাম ‘কাউবয় জাদুঘর’। দেয়ালে বাইসনের খুলি ঝোলানো। সঙ্গীদের বললাম, এই জাদুঘর না দেখে নড়ব না। জাদুঘরটি বেশি বড় বলে মনে হচ্ছে না। কে জানে এই খুদে বাড়িটাতেই হয়তো খুঁজে পাব সেই হারিয়ে যাওয়া বুনো পশ্চিমের সন্ধান।

এক গুরুগম্ভীর পাকানো গোঁফের লোককে জিজ্ঞেস করলাম, কত টাকা লাগে ঢুকতে?

সে কর্কশ কণ্ঠে বলল, ফাইভ ডলার, কার-ফুল।

আমি জানতে চাইলাম, কার-ফুল কী? সে অবাক হলো আমি কার-ফুল মানে জানি না বলে। তারপর বলল, এক গাড়ির সব লোক পাঁচ ডলারে ঢুকতে পারবে।

আমরা চারজন পাঁচ ডলারে ঢুকে পড়লাম ওয়েস্টার্ন বইয়ের জগতে।

আমার এখনো কোনো কোনো দিন ঘুম ভাঙার পর মনে হয় প্রেইরির মাঝে নিজের হাতে তৈরি এক কাঠের কেবিনে আছি। চারদিকের গমের ক্ষেতের মাঝে সরসর হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। শীতের সকালে যেখানে শরীর গরম করতে কফির জুড়ি নেই।

জাদুঘরে প্রথমেই নানা ধরনের ঘোড়ার স্যাডল (চালকের আরামের জন্য ঘোড়ার পিঠে বসানো আসন) দেখলাম। সেগুলোয় চামড়ার নানা কারুকাজ। তারপর দেখলাম অস্ত্রসম্ভার। অনেক রকমের রিভলবার। শুধু দেখায় না, বিক্রির জন্যও আছে কিছু। কোনোটির নাম কোল্ট, কোনোটির স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন। মজা লাগল পিচ্ছি ডেরিঞ্জার দেখে। মাত্র দুটি গুলি থাকে ডেরিঞ্জার পিস্তলে। মেয়েরা লুকিয়ে চুলের খোঁপায়ও রাখতে পারে।

 

বাউয়ি নাইফ কেনার ইচ্ছা ছিল

আদিবাসী আমেরিকার নেতাদের ছবি নিয়ে আছে একটি কর্নার। সিটিংবুল, জেরেনিমোও আছেন এঁদের মাঝে। পরে দেখলাম বাউয়ি নাইফ। জেমস বাউয়ি এ ছুরির নকশা করেছিলেন আমেরিকার শুরুর দিনগুলোয়। বাউয়িকে নিয়ে সিনেমা হয়েছে, বইও লেখা হয়েছে অনেক। ছুরিটার দাম অনেক। একটি কেনার ইচ্ছা ছিল; কিন্তু লম্বায় এটি ফুটখানেক, হাতল আবার হরিণের শিঙের। তাই শেষমেশ দেখেই রেখে দিলাম। এ ছাড়া জাদুঘরে সিনেমার পোস্টার আছে। কাউবয়দের পোশাক, চাবুক, মোকাসিন জুতা, বুটের স্পার। ঘোড়ার গাড়িও আছে। স্বর্ণসন্ধানীদের যন্ত্রপাতিও রাখা আছে থরে থরে। আর আছে সেসব দিনের অতি বিখ্যাত বন্দুকবাজ আর আউট লদের মূর্তি। এদের মধ্যে বিলি দ্য কিড, ওয়াইল্ড বিল হিকক, জেসে জেমসের নাম অনেকেই জানেন।

এদিকে দূর পাহাড়ের হিমবাহরা কুহকের মতো ডাকছে আমাদের। এই অসাধারণ জাদুঘরে সারা দিনই কাটিয়ে দেওয়া যায়; কিন্তু তাহলে আর সেদিন হিমবাহ দেখা হবে না। তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই আবারও পথে নামলাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা