kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেসবুক থেকে পাওয়া

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

আদরের ধন

২০০৫ সালে আপুর কোলজুড়ে এলো তাঁদের প্রথম সন্তান। নাম অঙন। তাকে নিয়ে দুলাভাই আর আপুর আনন্দের সীমা ছিল না। সবার আদর আর স্নেহের মধ্য দিয়েই বড় হতে লাগল সে। কিন্তু বড় হতে হতে সবাই বুঝল ও আর দশটা সাধারণ বাচ্চার মতো না। কথা বলত না, আচার-আচরণও আলাদা ছিল। অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখানো হলো। আপু তত দিনে বুঝে গিয়েছিলেন অঙন অটিজমে আক্রান্ত। কিন্তু তা-ও আদরের কমতি ছিল না। ওর আচার-আচরণও ক্রমেই অদ্ভুত হতে লাগল। হঠাৎ কাঁদত, হঠাৎ হাসত, রেগে গেলে কামড় দিত। কত কামড় যে আপু চুপ করে সহ্য করে গিয়েছিলেন। ওর আচরণ অনেকে সহ্য করত না। তাই আপু লোকজনের বাসায় যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অঙনকে যারা পছন্দ করত, তারা গেলে অনেক খুশি হতো; কিন্তু তা বলতে পারত না। এরই মধ্যে আপুর কোলজুড়ে একটি মেয়ে এলো; কিন্তু তাতে অঙনের জন্য আদরের কমতি ছিল না। শেষমেশ দুলাভাই ওমরাহ করবেন বলে ঠিক করলেন। ভাবলেন, সেখানে গিয়ে অঙনের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। ওমরায় যাওয়ার আগের দিন কোনো একটি তুচ্ছ কারণে দুলাভাই অঙনকে অনেক মেরেছিলেন। পরে নিজেও কেঁদেছিলেন। দুলাভাই ওমরাহ থেকে ফেরার আগের দিনের ভিডিও কলে প্রথমেই অঙনের মুখ দেখে নিলেন। ওর জন্য বেশ কিছু খেলনা, খাবারদাবার কিনেছিলেন। আপুসহ বাসার সবাই দুলাভাইয়ের আসা নিয়েই ব্যস্ত ছিল। অঙন আলাদা রুমে ঘুমাত। গরম সহ্য করতে পারত না বলে ওর রুমে এসিও লাগানো হয়েছিল। সকালে লোকজনের ডাকাডাকিতে আপুর ঘুম ভাঙল। আপু দৌড়ে গিয়ে দেখলেন অঙনের রুম থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। দরজা খুলে দেখা গেল বিছানায় চোখে আঙুল দিয়ে অঙন শুয়ে আছে; কিন্তু নিথর তার দেহ। রুমের এসি ব্লাস্ট হয়ে আগুন ধরে গিয়ে এ অবস্থা হয়েছিল ওর। আর দশজনের মতো বুদ্ধি নেই বলে দরজা খুলে বাইরে যেতে পারেনি, কাউকে ডাকতেও পারেনি।

সাবিহা আক্তার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

করলা মামার জন্মদিনে

আজ করলা মামার জন্মদিন। তাই মেসে স্পেশাল আয়োজন হয়েছে। মেসের সদস্যরা সবাই মিলে ব্যবস্থা করেছেন। তাতে করলা মামা খুশি হয়েছেন কি না বলা দায়! কারণ এত আয়োজন সত্ত্বেও করলা রান্না হয়নি। তবে মেসে উনার দায়িত্ব পড়লে করলা আনবেনই আনবেন। বাজার দেখে মেস কুকারের অনুমান করতে ভুল হয় না যে কার বাজার চলছে!

‘করলা মামা’ নামটি মেস কুকারের দেওয়া। ভালো নাম রাজিব হাসান। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে সদ্য পাস করেছেন। চাকরির জন্য ছুটছেন। বিসিএসও ট্রাই করেছেন। তবে তিনি মোটেও হতাশ নন, ‘নেক্সট থিওরি’তে বিশ্বাসী। এ তথ্যের মূলকথা হলো—এবারে হয়নি তাতে কী, পরবর্তীবারে নিশ্চয় ভালো হবে।

রাজিব সাহেবকে করলা মামা ডাকলেও তা অগোচরে, সামনে সবাই সম্মান দেখান। মেসের অন্য সদস্যের তুলনায় রাজিব সাহেবের বাজারের দায়িত্ব পড়ে বেশি। কারণ তাঁর মিলের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়। তিনি বেশি খান—ব্যাপারটা এমন নয়, নিয়মিত অতিথিই এর মূল কারণ। যেহেতু রাজিব সাহেব বাজার করেন বেশি, তাই করলাও থাকে বেশি। ইমদাদের ধারণা, মেসের প্রত্যেকের পেটে করলার চারা গজিয়েছে এত দিনে। কিছুদিন পরে নিজেরাই করলা সরবরাহ করতে পারবে। ইমদাদ মেসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। নগরীর এমইএস কলেজের ছাত্র।

কোনো এক দিন বাজার থেকে করলা আনেননি রাজিব সাহেব। হতে পারে চড়া দাম ছিল অথবা রুটিন পরিবর্তনের কথা ভেবেছিলেন। মাংসের সঙ্গে বরবটি নিয়ে এসেছেন! দেখে মেস কুকার অবাক হয়েছেন। ওই দিন মেসের কেউ সন্তুষ্ট হননি তা কেউ না বললেও বুঝতে বেশি কষ্ট হয়নি রাজিব সাহেবের। এ ঘটনার পর থেকে নিলয়ের ধারণা, রাজিব সাহেব ঝুঁকি পছন্দ করেন না। তাই এমন কিছু নির্বাচন করেন, যাতে সব কিছুতে মানানসই হয়। এ জন্যই করলা পছন্দ করেন; মাছ-মাংস যা-ই হোক মিলে একাকার হয়ে যাবে।

নিলয় সাহেব মেসের সব থেকে চিন্তাশীল ব্যক্তি। তাঁর বেশির ভাগ ধারণা মিলে যায়। রাজিব সাহেবের ব্যাপারের তাঁর ধারণাটি আমারও পছন্দ হয়েছে।

নিলয় সাহেবের নিমন্ত্রণেই আজ করলা মামার জন্মদিন উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিলাম। ছোট্ট একটি উপহারও এনেছি। তবে এ উপহার নয়, নিলয়-ইমদাদের উপহারটিই মুখ্য। কেক কাটা হলো, ছবি তোলা হলো এবং খাওয়াদাওয়া হলো। অতঃপর বিদায় নিয়ে বাসায় ফিরছি আর ভাবছি, নিলয়-ইমদাদের উপহারটি খুলতে গিয়ে করলা মামা অজ্ঞান হয়ে পড়বেন না তো? ওরা আসলে এক ব্যাগ করলা নিয়ে এসেছে উপহার হিসেবে।

আলমগীর ইমন

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

সেই কয়েন

কয়েন জমানো নেশার মতো হয়ে গেছে ইদানীং। সপ্তাহে গড়ে দুটি কয়েন এখন নিজের থলিতে জমছে। বন্ধুমহলেও অনেকে ব্যাপারটা জানে। এক বন্ধুর সঙ্গে কিছুদিন আগে কুমিল্লা নিউ মার্কেটে গেলাম। মার্কেটের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দেখলাম—সিঁড়ির পাশে এক ভিক্ষুক বসে ছিল। হঠাৎ তার পায়ের কাছে একটা কয়েন আমার চোখে পড়ে। পাখির ছবি আছে কয়েনটায়। হয়তো কেউ একজন তাকে দিয়েছিল, ওর কাছে নিতান্ত মূল্যহীন হওয়ায় সে পাশেই ফেলে রেখেছে। লোকজন কী ভাববে, সে জন্য কয়েনটা তুলছিলাম না। হঠাৎ বন্ধুটি ডাক দিল—এই তুই না কয়েন কালেকশন করিস! ওই দেখ একটা পুরনো কয়েন পড়ে আছে।

 

কী ভেবে জানি না, ভিক্ষুক সেই কয়েনটা হাতে নিল।

এরপর আমি বন্ধুকে বললাম, কিভাবে নেব! এটা তো ওই লোকের।

—আরে ব্যাপার না। পাঁচ টাকা দে। দেখবি এমনিতেই দিয়ে দেবে।

দেখলাম ওর ফর্মুলায় কাজ হয়েছে। ২৫ পয়সার সেই মুদ্রা এখন আমার ঝুলিতে।

তানভীর আহাম্মেদ

কুমিল্লা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা