• ই-পেপার

হাদি হত্যা

বিচার দাবিতে আজ ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল

অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কঠোর বার্তা অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কঠোর বার্তা অর্থমন্ত্রীর
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে অর্থনীতি একটি সীমিত সুবিধাভিত্তিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক আলোচনায় আমির খখসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অতীতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণনীতি তৈরি হয়েছিল। এটি কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়েছে। অন্যদের জন্য সুযোগ কমে গেছে। এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, নীতিগত সুবিধা যদি কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে অর্থনীতি কখনোই সবার জন্য কাজ করতে পারে না।

সভায় অর্থনৈতিক সংস্কার, বেসরকারি খাতের ভূমিকা এবং নতুন বাজেটের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেটের লক্ষ্য একটি উন্মুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা। এটি হবে অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা। সেখানে সবাই সুযোগ পাবে। শুধু বড় গোষ্ঠী নয়, সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে। তিনি বলেন, বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে হবে। তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। গ্রামাঞ্চলের মানুষও উন্নয়নের অংশীদার হবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এখন সময়ের দাবি। উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন সবাই এর সুফল পাবে।

সভায় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলেন, দেশের বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। ব্যবসা করার পরিবেশ সহজ করতে হবে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে ডিজিটাল খাত দ্রুত সম্প্রসারণ দরকার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও উঠে আসে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে মত দেন বক্তারা। সভায় বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আলাদা উদ্যোগে বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এখনো চূড়ান্ত নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সরকারি বিদেশ সফরে আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তারেক রহমানের। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য ঠিক করবেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন ঢাকায় মালেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। জানা গেছে, এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরে কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, তা নিয়ে কথা বলেন। তবে এখনো কোনো বিষয় চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরকালে কুয়ালালামপুরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরো জোরদার করার পাশাপাশি নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ, হালাল খাদ্যশিল্পে যৌথ বিনিয়োগ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, মালয়েশিয়া সফরের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফরের সম্ভাব্য সূচি নিয়ে কাজ চলছে। তবে তারিখ ও কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর সফর শেষে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি ঢাকায় ফিরে পরে চীন সফরে যাবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই সফরের সময়সূচি ও কূটনৈতিক কর্মসূচি সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

বিএনপিকর্মী খুনের ঘটনায় জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা

গত মঙ্গলবার মফিদুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে বিএনপিকর্মী রানাসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। রানা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
বিএনপিকর্মী খুনের ঘটনায় জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা

ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে বিএনপিকর্মী রানা মিয়া হত্যার অভিযোগে বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রানা মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে নিয়ে গেলে উত্তেজিত এলাকাবাসী জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের বাড়িসহ অন্তত ১২টি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় একটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রানা মিয়া চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক এবং বিএনপির একজন কর্মী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মফিদুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে বিএনপিকর্মী রানাসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। রানা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই দিন রাতে রানার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে মফিদুল ইসলামসহ ১০ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। প্রধান আসামি মফিদুল ইসলাম মাস্টার ময়মনসিংহ মহানগর জায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। পুলিশ এ মামলায় জামায়াত নেতার ছেলেসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

রানার স্বজনরা জানায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের সঙ্গে রানার পরিবারের বিরোধ ছিল। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রানাকে হত্যা করে মফিদুলের লোকজন।

 

 

জুলাই হত্যা মামলায় সাতক্ষীরার সাবেক এমপি মুজিবুর কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যা মামলায় সাতক্ষীরার সাবেক এমপি মুজিবুর কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় গুলিতে আসাদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. শামীম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেখ মুজিবুর রহমানকে গতকাল আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই শাহীন মাহমুদ। এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল্লাহ। পরিবারের লোকজন তাঁকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১১ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পরিবার তাঁর লাশ শনাক্ত এবং থানায় একটি হত্যা মামলা করে।