<p>রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা শহর থেকে শুরু করে এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। সেখানে হাত বাড়ালেই সহজেই মেলে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, গাঁজাসহ নানা মাদক। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, যৌনপল্লীর অবস্থান, বৈধ দোকানের দেশি মদ কালোবাজারে পাচার, ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সিন্ডিকেটে মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে।</p> <p>যৌনপল্লীর অবস্থান : দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত। বর্তমান সেখানে প্রায় তিন হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। ওই পল্লীর বেশির ভাগ যৌনকর্মী, বাড়িওয়ালা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দেহ ব্যবসার পাশাপাশি তাঁরা পল্লীর খদ্দেরদের মধ্যে বিভিন্ন মাদক বিক্রি করেন। পাশাপাশি ওই পল্লীতে রয়েছে শতাধিক অবৈধ মদের দোকান। এদিকে যৌনপল্লী ঘিরে দৌলতদিয়া বাজার ও রেলস্টেশন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বহু আবাসিক বোর্ডিং। ব্যবসার অন্তরালে বেশির ভাগ বোর্ডিংয়ের ভেতরে নিয়মিত মাদক সেবন ও জুয়া খেলার আসর বসে।</p> <p>বৈধ দোকানের দেশি মদ কালোবাজারে : গোয়ালন্দ পৌর শহরের আড়তপট্টি মহল্লায় সরকার অনুমোদিত মেসার্স রণজিৎ সরকার নামের একটি দেশি মদের দোকান রয়েছে। বর্তমানে ওই দোকানে অনুমোদিত ক্রেতার সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কার্ডধারী ক্রেতার বাইরে অন্য কারো কাছে দেশি মদ বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিধি অনুযায়ী প্রতি মাসে কার্ডপ্রতি ৯ লিটার ৭৫০ গ্রাম করে মদ দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই দোকান থেকে প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ বৈধভাবে দেশি মদ বিক্রি হয়।</p> <p>জনপ্রতিনিধিদের সিন্ডিকেট : গোয়ালন্দে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। সেখানে যৌনকর্মী থেকে শুরু করে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শ লোক সরাসরি মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে স্থানীয় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক কয়েকজন মেম্বারও রয়েছেন। এলাকায় জনপ্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যৌনপল্লীসহ গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের পাইকার কারবার চালিয়ে আসছেন।</p> <p>কর্মসংস্থানের অভাব : উপজেলার পদ্মাপারের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সেখানে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েন। পাশাপাশি পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর  থেকে অনেকটা জৌলুশ হারিয়েছে দৌলতদিয়া ঘাট। এতে ঘাটকেন্দ্রিক বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। কর্মসংস্থান করতে না পেরে তাঁদের অনেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।</p> <p>পাইকার কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে : মাদক উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট কারবারিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন সময় দৌলতদিয়া যৌনপল্লী, পোড়াভিটাসহ উপজেলা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বেশির ভাগই খুচরা মাদক বিক্রেতা। কিন্তু বেশির ভাগ সময় মাদকের পাইকার কারবারিরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, গোয়ালন্দে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদক কারবারি এলাকার যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।</p>