kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাপ-মশার উপদ্রব, প্রশ্ন খাবারের মান নিয়ে

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাপ-মশার উপদ্রব, প্রশ্ন খাবারের মান নিয়ে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থী ছয় সহস্রাধিক। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার হলে থাকেন। দুই হাজার শিক্ষার্থী স্থানীয় হওয়ায় সিটের প্রয়োজন হয় না। বাকি ৫০০ শিক্ষার্থীকে মেস বা ভাড়া বাড়িতে থাকতে গিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবারসহ নানা ধরনের সমস্যায় আছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলের কক্ষগুলো অপরিচ্ছন্ন। আছে মশা ও সাপের উপদ্রব। বিদ্যুৎ ও ওয়াই-ফাই সেবা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। দফায় দফায় ডাইনিংয়ের খাবারের দাম বাড়লেও মান বাড়েনি। ডাইনিংয়ে খাবারে বেশির ভাগ সময়ই থাকে মুরগি ও ডাল। মুরগির আকারও অনেক ছোট। এ ছাড়া ১০ মাস ধরে আবাসিক হলগুলোতে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ডাইনিং ফি কমপক্ষে দুই হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ছয় হাজার ১৮৫। স্নাতক পর্যায়ে আছে চার হাজার ৩৬ জন। বঙ্গবন্ধু হল, ড. কুদরাত-এ-খুদা হল, শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল, শহীদ তারেক হুদা হল ও শেখ রাসেল হলে থাকেন দুই হাজার ৮০৭ জন ছাত্র। আর শামসেন নাহার খান হল ও সুফিয়া কামাল হলে থাকেন ৬৮৬ জন ছাত্রী। সাত হলে মোট আবাসিক শিক্ষার্থী তিন হাজার ৪৯৩ জন।

শহীদ তারেক হুদা হলের ১৬ ব্যাচের ছাত্র আকতার হোসাইন বলেন, ‘এ হলের ওয়াশরুমগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। রুমে মশারি ছাড়া থাকা যায় না। সাপের ভয়ে কাটাতে হয় রাত-দিন। আর ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দাম নিলেও খাবারের মান খুব খারাপ। ’ শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের ১৭ ব্যাচের ছাত্র হাফিজুর রহমান আলভী বলেন, ‘এখানে লোড শেডিং আর ওয়াই-ফাইয়ের সমস্যা আমাদের ভোগাচ্ছে। ’

শহীদ তারেক হুদা হলের গণরুমের মো. ওয়ালিদ বলেন, ‘মাঝে মাঝে দুই-তিন সপ্তাহ পর্যন্ত পরিষ্কার করা হয় না গণরুমগুলো। গাদাগাদি করে থাকতে হয়। টয়লেটগুলো নোংরা। ’ ছাত্রী হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘সিটের ব্যাপারে অভিযোগ না থাকলেও মাঝেমধ্যে পানি সমস্যায় পড়তে হয়। ’

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং হলগুলোতে খাবারের মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডাইনিং ফি আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, এখন খাবারের মান বাড়বে। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

চুয়েটের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও প্রকাশনা) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তিনটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের কাজ চলমান আছে। এগুলো চালু হলে আবাসিক সংকট থাকবে না। এ ছাড়া ভর্তির ছয় মাসের মধ্যেই মেস বা ভাড়া বাড়িতে থাকা সবাই সিট পেয়ে যান।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘মেয়েদের হলে সিটের কোনো সংকট নেই। সব সময় আমরা তাদের সিট দিতে পারি। তবে ভর্তি শুরুর দিকে সব ছেলেকে আবাসিক হলে সিট দেওয়া যায় না। কারণ আবাসিক হলের সংকট রয়েছে। ’ অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি হলগুলো পরিষ্কার রাখতে। লোকবল সংকটের কারণে কোনো কোনো সময় ছাত্রদের এ রকম অভিযোগ সঠিক হয়ে যায়। ’ খাবারের দাম ও মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে অনেক কিছুর দাম বেড়েছে। তবে যাতে আরো ভালো করা যায়, এখন থেকে সেটা মনিটরিং করার চেষ্টা থাকবে আমাদের। ’

 



সাতদিনের সেরা