kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুই বছরেই নষ্ট ৮০ শতাংশ বাতি

শেখ মেহেদী হাসান, ঈশ্বরদী (পাবনা)   

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই বছরেই নষ্ট ৮০ শতাংশ বাতি

সড়কবাতিগুলো স্থাপনের কয়েক মাস পর থেকেই অচল হওয়া শুরু হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রায় ১১ কোটি টাকার সৌর সড়কবাতির প্রায় ৮০ শতাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বলছে, পুরনো বাতিগুলোর মেয়াদ তিন বছর পার হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ঠিক করা সম্ভব নয়। এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থাপিত ২৭৪টি বাতির মেয়াদ অবশিষ্ট থাকলেও সেগুলোর বেশ কিছু এখনই নষ্ট হয়ে গেছে। নিম্নমানের, নামসর্বস্ব সৌর প্যানেলসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংযোজন করে একটি সিন্ডিকেট এই বরাদ্দের বেশির ভাগ অর্থই হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সৌরবাতিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে কোনো বরাদ্দ না থাকায় অন্ধকারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬৯টি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৬৮টি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৯৯টি ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৭৪টি লাইট স্থাপন করা হয়। এই উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে মোট এক হাজার ৯৩৮টি সড়কবাতির প্রতিটিতে ব্যয় হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। এই হিসাবে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।

স্থানীয়রা জানায়, সড়কবাতিগুলো স্থাপনের কয়েক মাস পর থেকেই অচল হওয়া শুরু হয়। দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় বেশ কিছু খুঁটিও চোরেরা উপড়ে তুলে নিয়ে গেছে। আবার কোথাও থেকে সোলার প্যানেল ও লাইট খুলে নেওয়া হয়েছে। শুধু খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে।

ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লাইট স্থাপন করায় সড়কে অপরাধপ্রবণতা কমে গিয়েছিল। রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে কিছুদিন চলাফেরা করা গেছে। লাইটগুলো বেশ আশার আলো জ্বালিয়েছিল, কিন্তু অল্প কিছুদিন পরই লাইটগুলো আর জ্বলে না। ’

দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় বেশ কিছু সোলার প্যানেল ও লাইট চুরি হয়েছে।        ছবি : কালের কণ্ঠ

দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বকুল সরদার বলেন, ‘বেশির ভাগ লাইটই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে; কিন্তু লাইটগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মেরামত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পিআইও। ’

সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, ‘উচ্চ বরাদ্দে চীনের নিম্নমানের সোলার ল্যাম্প লাইট স্থাপন করা হয়েছে। ’

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইডকলের পরামর্শে বেসরকারি এনজিও টিএমএসএস এসব লাইট স্থাপন করে। লাইটগুলোর মেয়াদ তিন বছর ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় কম্পানি থেকে নষ্ট লাইটগুলো আর মেরামত করা হচ্ছে না। ’

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) টিএমএসএস পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষের দিকে। ল্যাম্প লাইটগুলোর মেরামতের জন্য গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টির সময় ছিল তিন বছর। দুই বছর শেষ হয়েছে। এই কারণে শতকরা ৫০ থেকে ৮০ ভাগ ল্যাম্প লাইট নষ্ট হয়ে গেছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ল্যাম্প লাইট ও স্ট্যান্ডগুলো ঠিক আছে। শুধু ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে, যার মূল্য মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দিয়ে মেয়াদ শেষের পরে ব্যাটারি লাগানো হলে লাইটগুলো আবার জ্বলবে। ’

এই প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদ উত্তীর্ণের পরে কাজ সঠিকভাবে হয়েছে প্রমাণিত হলে জামানতের টাকা ঠিকাদারকে ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সৌরবাতি না জ্বললেও টিএমএসএসের কাজে ইডকল সন্তুষ্ট হওয়ায় বিলের সমুদয় টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান।

 



সাতদিনের সেরা