kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

খেলার মাঠে বালু ব্যবসা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলার মাঠে বালু ব্যবসা

মানিকগঞ্জের ঘিওরের কুস্তা গ্রামের খেলার মাঠটিতে বালু স্তূপ করে রাখায় এখন খেলাধুলা বন্ধ। ছবি : কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা গ্রামের খেলার মাঠটি এখন বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। বালু স্তূপ করে রাখায় এখন ওই মাঠে খেলাধুলা বন্ধ। স্থানীয়দের দাবি, দখলমুক্ত করে মাঠটি পুনরায় খেলার মাঠে পরিণত করা হোক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে প্রায় ৩০ বছর আগে পুরাতন ধলেশ্বরী নদীতে চর পড়ে এই মাঠের সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

অর্থাত্ মাঠটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। প্রায় ১৫ বছর ধরে মাঠটি পুরোপুরি খেলার মাঠে পরিণত হয়।

আশপাশের গ্রামের শিশু, কিশোর, যুবকরা এই মাঠেই খেলাধুলা করেন। প্রতিবছর ক্রিকেট, ফুটবলের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কফিলউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, কুস্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও দুটি মাদরাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় এই মাঠেই। এ ছাড়া বছরজুড়ে খেলাধুলা চলেই।

তবে খেলাধুলা-বিনোদনের এ মাঠের ওপর চোখ পড়ে দখলদারদের। তারা এটি বালু ব্যবসার জন্য দখল করে নেয়। এখন মাঠে আর খেলার কোনো পরিবেশ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীতে ড্রেজার বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে ওই মাঠে পানিমিশ্রিত বালু ফেলা হচ্ছে। বালুর সেই পানি নদীতে চলে যাচ্ছে। বালুগুলো জমা হচ্ছে মাঠে। এরপর সেই বালু সরানো হচ্ছে ট্রাক ও ট্রলিতে করে। মাঠজুড়ে বালুর স্তূপ। মাঠের দুই পাশে ফুটবলের গোল বার না থাকলে বোঝাই যেত না যে এখানে একটি খেলার মাঠ ছিল। রাত-দিন চলছে এই কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা আফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন মাস ধরে মাঠের এই অবস্থা। জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুফল পাইনি। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, মো. কুদরত নামের এক বালু ব্যবসায়ী মাঠ দখলের সঙ্গে জড়িত। তবে কুদরত সামনে থাকলেও নেপথ্যে আছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যে কারণে সাধারণ মানুষের মতামতের তোয়াক্কা না করেই মাঠ দখল করে ব্যবসা চলছে।

একাধিক স্কুল শিক্ষার্থী জানায়, এ মাঠে তারা দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা করলেও এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাঠের অভাবে তাদের খেলাধুলা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

নবম শ্রেণির ছাত্র সবুজ মিয়া বলে, ‘খেলার মাঠ না থাকায় এ মাঠে তিন মাস ধরে আমরা কোনো খেলাধুলা করতে পারছি না। আমরা খেলতে এলে তারা তাড়িয়ে দেয়। মাঠে দিনরাত ১০ থেকে ১২টি ট্রাক্টর চলে। এতে ভয়ে আমরা মাঠের কাছ দিয়েও যেতে পারি না। ’

যোগাযোগ করা হলে মো. কুদরত দাবি করেন, এটা ব্যক্তিগত জমি। মালিকের কাছ থেকে তিনি জমি ভাড়া নিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, আর কয়েক দিন পরেই এখান থেকে বালু সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে তা ঠিক কত দিন পর, তা তিনি জানাননি।

ঘিওর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল খেলার মাঠ বালু ব্যবসায়ীদের দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে পরিষদ থেকে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে অবৈধ দখলদার বালু ব্যবসায়ীর দুটি ট্রলি আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া তিনি খেলার মাঠটি দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

 

 

 



সাতদিনের সেরা