kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন

তিন কোটি টাকা আত্মসাতে মিথ্যা মামলা, ওসিকে তলব

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন কোটি টাকা আত্মসাতে মিথ্যা মামলা, ওসিকে তলব

মজিবুর রহমান

রাজধানীর ধানমণ্ডি থানার পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে হয়রানি করার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে থানার ওসির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার তথ্য পেয়েছে তারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মজিবুর রহমান নামের একজন আমাকে পূর্বাচলে একটি প্লট কিনে দিতে চান। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে তিন কোটি সাত লাখ ৪০ হাজার টাকা দিই মজিবুরকে।

বিজ্ঞাপন

এ জন্য একটি অঙ্গীকারনামায় সই করি আমরা। পরে প্লট কিনে না দিয়ে মজিবুর প্রতারণা করেন। টাকা চাইতে গেলে পরিবারসহ আমাকে হত্যার হুমকি দেন। এ নিয়ে মজিবুরের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ নেয়নি। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। এতে মজিবুর ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিতে থাকেন। এরপর মজিবুর আমার বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় উল্টো মিথ্যা জিডি করেন। একসময় জানতে পারি, ২২ ফেব্রুয়ারি মজিবুর আমাকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় একটি মামলাও করেছেন। ওই মামলায় তিনি পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতে থাকেন। পরে জামিন নিয়ে ৩ মার্চ মজিবুরকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করি। মামলা তদন্তে আদালতের মাধ্যমে পিবিআইয়ের সহযোগিতা চাই। ’

মামলা তদন্তে যা পেয়েছে পিবিআই

মজিবুরের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআইয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানতে পেরেছেন, ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মজিবুর রহমান ধানমণ্ডি থানায় যে মামলা করেছিলেন, তা মিথ্যা ছিল। তিনি এরই মধ্যে মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। তাঁর তদন্তের একটি প্রতিবেদন কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদী ও বিবাদীর অঙ্গীকারনামার স্ট্যাম্প ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিনতাই হয়। অথচ এ নিয়ে ১০ দিন আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন মজিবুর। ছিনতাইয়ের দুই দিন আগে ২২ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন তিনি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে বা কোন দলিলের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু হলো তা প্রশ্নবিদ্ধ। এ ছাড়া অঙ্গীকারনামা স্ট্যাম্পে উল্লেখ আছে যে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমি প্লট রেজিস্ট্রি ও হস্তান্তর করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন মজিবুর, অন্যথায় তিন মাসের মধ্যে পুরো টাকা এককালীন ফেরত দেবেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন মোস্তাফিজুর রহমান। যেখানে তিন মাসের কথা বলা হয়েছে, এর পাঁচ দিন অতিক্রম হওয়ার পরই ধানমণ্ডি থানায় মামলা রুজু হয়। এটা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক বলে প্রমাণ পেয়েছে পিবিআই।

এ ছাড়া ১৬ ও ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন সময়ে মোস্তাফিজুরের মারধর ও হুমকি দেওয়ার যে অভিযোগ করেছেন মজিবুর, তার সত্যতা পায়নি পিবিআই।

‘মামলায় নানা রকম অসংগতিসহ অঙ্গীকারনামা দলিলে অসম্পূর্ণ বিষয় থাকা সত্ত্বেও ধানমণ্ডি থানার ওসির মামলা গ্রহণ করাটা একেবারেই সমীচীন বলে মনে হয়নি। এ ব্যাপারে ওসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চিঠির মাধ্যমে আমার কাছে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তিনি হাজির হননি’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান।

মজিবুর রহমান মিথ্যা মামলা করে সরকারি সময় ও অর্থের অপচয় করেছেন। এ অবস্থায় মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে সুপারিশ করেছেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা।

ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া  বলেন, ‘কেউ মামলা করতে চাইলে আইনগতভাবে পুলিশ নিতে বাধ্য। এ কারণে মামলা নিয়েছি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ’

এদিকে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের করা মামলায় মজিবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।



সাতদিনের সেরা